সাধারণ এসইও মিসটেক যা আপনার এভয়েড করা উচিত!

Common seo mistakes to avoid

এসইও একটি পরিবর্তনশীল বিষয়। এটি প্রতি বছর পরিবর্তিত হয় এবং আজ যা কিছু ঠিক বা কাজ করছে তা আগামী মাসে কাজ নাও করতে পারে। তবে, আজকে আমি যে বিষয়গুলি উল্লেখ করব তা অনেকদিন ধরেই এসইওর ভুল হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে এবং এমন সম্ভাবনা খুবই কম যে এই ভুলগুলি যে কোনও সময় ঠিক হিসাবে কাজ’ করতে শুরু করবে।

আমাদের সবসময় লক্ষ্য থাকবে এই ভুলগুলিকে এড়িয়ে চলা।

এখন 7 বছরেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট মার্কেটার হিসাবে কাজ করার সুবাদে, আমি অসংখ্য ওয়েবসাইট দেখেছি যারা এই ভুলগুলি করেছে। ভুল্গুলা এড়াতে আপনাকে এসইও এক্সপার্ট হতে হবে না, আমার টিপসগুলি ফলো করাই যথেষ্ট!

টিপসগুলা আপ্নাদেরকে বুঝিয়ে বলাই এই আর্টিকেলটির লক্ষ্য!

চলুন 5 টি সহজ এবং সাধারণ এসইও-র ভুলগুলি সম্পর্কে দেখে নেই যা আপনার ওয়েবসাইটকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

LSI কিওয়ার্ডে ফোকাস করা না করা

LSI জিনিসটি কি সেটি কি আপনি জানেন? সহজতর ভাবে বলতে গেলে, এটি আপনার আর্টিকেলে বিভিন্ন ধরণের সমার্থক কীওয়ার্ড ব্যবহার করার পদ্ধতি ছাড়া আর কিছুই নয়, যাতে সার্চ ইঞ্জিনটি বুঝতে পারে আপনার আর্টিকেলটি কী সম্পর্কে লেখা।

LSI সম্পর্কে আরেকটু ভাল্ভাবে বোঝাতে গেলে আপনাকে একটি গল্প বলতে হয়।

গুগল সবসময় স্মার্ট ছিল না, এটা বোকা ছিল!

২০১০ সালে যদি আমি ‘cat food’ কিওয়ার্ডটি দিয়ে র্যাঙ্ক করতে চাইতাম, তবে আমি পৃষ্ঠাতে 1000 বার  ‘cat food’ কিওয়ার্ডটি লিখলেই Google মনে করত যে পৃষ্ঠাটি বিড়ালের খাবারের সাথে সম্পর্কিত ছিল, এবং এটি র‍্যাঙ্ক পেত।

কিছু অতি চালাক ইন্টারনেট মার্কেটাররা করত কি, 100 বারের বেশি তাদের কিওয়ার্ডটি আর্টিকেলে প্লেস করতে তাদের ফন্টের রঙ সাদা করে দিত (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে), যাতে এটি ইউজারের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে না তবে Google কে খুশি করে।

সত্যি বলতে, এটা কাজ করেছে এবং মানুষ এই পদ্ধতিতে র‍্যাঙ্ক পেয়েছে।

যাইহোক, যা বলেছিলাম, এসইও পরিবর্তনশীল।

গুগল আমাদের সকলের চেয়ে এখন আরও স্মার্ট এবং তারা সার্চ রেজাল্টে একটি পেজ র‍্যাঙ্ক করার জন্য এখন র‍্যাঙ্ক ব্রেইন (গুগলের অ্যালগরিদম) ব্যবহার করে।

এখন আপনাকে শুধু মেইন কিওয়ার্ড বারবার প্লেস করলেই হবে না, সাথে সেই কিওয়ার্ডের সমার্থক অর্থের কিওয়ার্ডও পেইজে রাখতে হবে।

ধরুন, আপনার ‘cat food’ সম্পর্কে একটি ওয়েবসাইট আছে এবং আপনি এই কীওয়ার্ডের জন্য র‍্যাঙ্ক করতে চান।

আপনার ওয়েবসাইট এ ‘cat food’ নিয়ে লেখা আর্টিকেলে ‘cat food’ ওয়ার্ডটি একশত বার ব্যবহার করার পরিবর্তে, LSI কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অর্থাৎ, সরাসরি ‘cat food’ বারবার না লিখে, ‘where to buy cat food’, ‘cat food brands’ এসব ধরনের কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

ইন্টারনাল লিঙ্কিং

আমি জানি যে অফ পেজ এসইও কঠিন। কেউ আপনাকে লিঙ্ক দিতে চায় না এবং আপনি ব্যাকলিঙ্ক করার সুযোগগুলি সবসময় পাবেন না। আপনি হয়ত আউটরিচ, গেস্ট পোস্টিং এগুলা সম্পর্কে বোঝেনই না।

তবে, আপনি নিজের সাথে লিঙ্ক করতে পারেন, রাইট? অর্থাৎ, নিজের সাইটের একটি পেজের সাথে আরেকটি পেজের লিঙ্ক করা বোঝাচ্ছি! এই জিনিস্টাকে বলা হইয় ইন্টারনাল লিংকিং।

এই ইন্টারনাল লিঙ্কিং আপনার সামগ্রিক এসইও স্ট্রাকচারের একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই ইন্টারনাল লিঙ্কিং এর মাধ্যমে দুটি সুবিধা আছে –

    -একটি সুন্দর সাইট স্ট্রাকচার তৈরি হয়।

    -এক পেজে অন্য পেজ থেকে লিঙ্ক জুস পাস করে।

অন্যান্য সুবিধাগুলি যেমন আপনি এক পেজ থেকে অন্য পেজে ট্র্যাফিক নিতে পারেন, আপনি অথোরিটি হিসাবে নিজেকে দেখাতে পারেন। যাইহোক, আমরা এখানে এসইও সম্পর্কে কথা বলছি তাই আমি এসইও বেনিফিট নিয়েই আলোচনা হবে।

সস্তা লিংক  কেনা ফোরাম/মার্কেটপ্লেস থেকে

অনেকে আমি এই ভুল করতে দেখেছি। তারা ফিভার, ওয়ারিয়র ফোরাম, ব্ল্যাক হ্যাট ওয়ার্ল্ড এবং অন্য কোথাও থেকে লিঙ্ক কিনে।

যেখানে এটি করা আপাতদৃষ্টিতে একটি সহজ সমাধান বলে মনে হয়, কিন্তু এটি আপনার সাইটের জন্য ক্ষতিকারক দীর্ঘস্থায়ী বিবেচনায়।

কিভাবে সেটি ব্যাখ্যা করা যাক।

একটি লিঙ্ক-এর মান সম্পর্কে ধারণা পেতে, আপনাকে ‘লিঙ্ক জুস’ ব্যাপারটা বুঝতে হবে। এভাবে চিন্তা করুন, Google প্রতিটি ওয়েবসাইটকে এক গ্লাস জুস সরবরাহ করে। একটি ওয়েবসাইট যত বড় অথোরিটি, বড় সেই কাচের আকার যেটিতে গুগল তাকে জুস সরবরাহ করে।

প্রতিটি সময়, যখন সাইটটি অন্য সাইটকে লিঙ্ক দেয়, তখন কিছু রস নতুন সাইটে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

সমস্ত ফোরাম এবং মার্কেটপ্লেসের সমস্ত সাইটগুলি, অন্যান্য সাইটগুলিতে এতগুলি লিঙ্ক প্রদান করে ফেলেছে যার কারণে গ্লাস ইতিমধ্যেই খালি রয়েছে।

এই সাইটগুলি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান একটি লিঙ্ক সেল করে এবং এভাবে আস্তে আস্তে কাচের বোতল যেটিতে জুস ছিল সেটি খালি করে তোলে।

সুতরাং যখন আপনি অর্থ প্রদান করেন এবং সেই সাইটগুলার একটি থেকে লিঙ্ক পান, আপনি মূলত কোনও মান গ্রহণ করেন না। এই লিঙ্কগুলি আপনাকে কোনও র‍্যাঙ্ক উন্নতি বা অথোরিটি প্রদান করবে না। তার মানে আপনার সমস্ত এফোর্ট এবং অর্থ কারণ ছাড়া ব্যায় হল।

আরও একটি ঝুঁকি আছে।

এটি একটি আন-ন্যাচারাল লিঙ্ক পেনাল্টি পাওয়ার ঝুঁকি।

আপনি অপ্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট থেকে লিঙ্ক পেতে যখন আপনি এরকম অনেক বেশি লিঙ্ক নিয়ে ফেলেন, তখন আপনি গুগল পেনাল্টি খেতে পারেন।

আপনি যখন লিঙ্কগুলি কিনেন তখন এটি আরেকটি বড় ঝুঁকি এবং এই কারণে, ২০১৯  এবং তার পরেও লিঙ্ক কেনার অভ্যাস বড় এসইও ভুলগুলির মধ্যে একটি।

ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট

আমি জানি আপনি কি ভাবছেন!

“আমাদের ওয়েবসাইটে ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট নেই” – প্রতিটি পেজে ইউনিক কন্টেন্ট  আছে, তাই না?

হয়ত আপনি ভুল।

ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট অনেক ধরনের হতে পারে এবং কখনও কখনও, আপনি জানেনও না যে আপনার সাইটের কন্টেন্ট ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট হিসাবে কাউন্ট হচ্ছে, যদিও আপনি সাইটে ইউনিক কন্টেন্ট দিয়েছিলেন।

এরকম কেন হয়?

একটি খুব সাধারণ সমস্যা একটি ওয়েবসাইট বিভিন্ন সংস্করণ লাইভ থাকার কারণে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার সাইটের এই প্রতিটি ফর্মাটে লিঙ্ক পাব্লিশড আছে –

    https://yoursite.com

    http://yoursite.com

    http://www.yoursite.com

এরকম ভাবে যদি আপনার ওয়েবসাইটের তিনটি বা এমনকি 2 টি ভিন্ন সংস্করণ লাইভ থাকে এবং যদি এটি কোনও রিডিরেক্ট না করা হয় তবে ধরে নিন আপনি সমস্যায় পড়ছেন। গুগলের মতে, এই তিনটি সাইট ভিন্ন ভিন্ন, কারণ এগুলার url আলাদা আলাদা।

সো আপনি আপনার সাইটে যে কন্টেন্ট-ই পাব্লিশ করেন না কেন, আপনার সাইট একাধিক ফর্মাটে লাইভ থাকার কারণে গুগল আপনার সাইটের সব কন্টেন্ট ডুপ্লিকেট হিসাবে ধরবে।

মোবাইল আর্কিটেকচার

আরেকটি সাধারণ এসইও ভুল যা আমরা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অনেকগুলি দেখছি। যখন গুগল প্রথম ঘোষণা করেছিল যে তারা মোবাইলের ইন্ডেক্সিং করছে, তখন ওয়েবমাস্টাররা হতাশ হয়ে পড়লো।

এটা যৌক্তিক ছিল। প্রত্যেকেরই তখন একটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট ছিল না।

আরো বড় সমস্যাটি হল আপনার মনে হতে পারে আপনার ওয়েবসাইটটি হয়তো মোবাইল ফ্রেন্ডলি, কিন্তু সেটি আসলে বাস্তবে নাও হতে পারে।

একটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটটি শুধুমাত্র Google এর মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেস পরীক্ষার টুলে পাস হলেই হয় না, এটা তার চেয়ে একটু বেশি।

যখন আপনি বলবেন, আপনি ওয়েবসাইটটি একটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট, আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার ওয়েবসাইটের UX এই দাবি সমর্থন করে।

বড় বাটনস থাকা, ছোট ফন্ট, রেস্পন্সিভ ইমেজ, বা পপ আপগুলি আসলেই মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা, এগুলার মাধ্যমে বোঝা যায় আপনার ওয়েবসাইটটি আসলে মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা।

গুগলের এসইও বিষয়ক নথিতে বলা হয়েছে যে যদি আপনার ওয়েবসাইট যদি মোবাইল ফ্রেন্ডলি না হয়, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্ক করার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ বর্তমান সময়ে গুগলে বেশিরভাগ ট্রাফিক মোবাইলের মাধ্যমে পাস হয়।

এখন বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে এটুকু বলা যায় যে একটি ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং যদি মোবাইল সংস্করণের ক্ষেত্রে আগায়, তাহলে সাথে সাথে ডেস্কটপ ভার্সনের জন্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগায়।

যাইহোক, বিপরীত ঘটনা কিন্তু নাও ঘটতে পারে। মানে ডেস্কটপ ভার্সনে দেখলেন যে আপনার ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং আগাচ্ছে, তারমানে কিন্তু এই না যে মোবাইল ভার্সনেও আপনার সাইটের র‍্যাঙ্কিং আগাচ্ছে।

আপনার ওয়েবসাইটের মোবাইল ভার্সণে ফোকাস করুন। এটা আপনাকে SERPs এ ভাল পজিশন পেতে সাহায্য করবে।

তো এই পর্যন্তই আজকে। আপনি কি মনে করেন, কোনটি সবচেয়ে বড় এসইও মিস্টেক? আমাদে্র কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন নাহ।

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *