ভাল রিভিউ পাওয়ার কিছু কৌশল

Google review tricks

গুগলে ভাল রিভিউ আপনার বিজনেসের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। এখনকার ডিজিটাল যুগে প্রতিটি মানুষই কেনাকাটার আগে একবার গুগলে সার্চ করে। সেখানে যদি আপনার বিজনেস সামনে আসে, অনেক ভালো ভালো রিভিউ সহ, তাহলে তাদের মনে আপনার বিজনেস সম্পর্কে একটি পজিটিভ ধারণা তৈরি হয় এবং তাদের আপনার কাস্টমার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তারা আপনার থেকে কিনুক বা না কিনুক, কিন্তু একটিবার আপনার বিজনেস তারা “চেক-আউট” করবেই।

বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, রেস্টুরেন্ট বা হোটেল গুলোর জন্য ভাল পজিটিভ রিভিউ খুবই লাভজনক হতে পারে। কারণ বেশিরভাগ সময়েই মানুষ খাওয়ার আগে রেস্টুরেন্টের খাবার মান সম্পর্কে অবগত হতে চায়।তাছাড়া, অন্যান্য বিজনেস গুলার জন্য ও গুগলে পজিটিভ রিভিউ লাভজনক হতে পারে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে ভাল রিভিউ পাওয়া যেতে পারে ?  তার কিছু কৌশল নিয়ে আজকে আমরা  আলোচনা করবো। 

প্রথমত, আপনার কাস্টমার কে খুশি করার চেষ্টা করুন!

একজন কাস্টমার কখন আপনাকে ভাল রিভিউ দিবে? যখন সে আপনার সার্ভিসে খুশি হবে, তাই না?

তাই সবার প্রথমে আপনার কাজ হবে কাস্টমারের সন্তষ্টি নিশ্চিত করা। কাস্টমার খুশি হলে তারপর অন্যান্য ট্রিক্স ফলো করার মাধ্যমে আপনি ভাল রিভিউ পেতে পারেন। কিন্তু কাস্টমার খুশি না হলে অন্যান্য বেশিরভাগ ট্রিক্স ই কাজ করবে না। সমস্যাটা হচ্ছে, খুশি কাস্টমার চেয়ে, অখুশি কাস্টমার- দের মধ্যেই রিভিউ করার প্রবণতা  লক্ষ করা যায় বেশি।

এজন্য আপনাকে প্রথমত খুশি এবং অখুশি ক্লায়েন্ট কে আইডেন্টিফাই করতে হবে। আপনি এটা ছোট একটি সার্ভের মাধ্যমে করতে পারেন। অথবা, আপনার বিজনেসের ধরণ অনু্যায়ী আপনি তাদের কিছুদিন পর পর কল করার মাধ্যমেও তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারেন।

আপনি সন্তুষ্ট কাস্টমারদের চিহ্নিত করার পর তাদের কাছ থেকে রিভিউয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনি তাদের কাছে ভাল রিভিউ চাইতে যাবেন না, বরং তাদের শুধুমাত্র রিভিউ করার আবেদন করুন। যেহেতু তারা আপনার সার্ভিসে খুশি, তারা আপনাকে ভাল রিভিউ ই দিবে।

আর অখুশি কাস্টমারদের চিহ্নিত করার পর তাদের সমস্যাটা খুজে বের করার চেষ্টা করুন। তারা কেন আপনার সার্ভিসে অখুশি এটা আইডেন্টিফাই করাটা খুবই গুরূত্বপূর্ণ। ভাল হয় যদি প্রথমেই তাদের সরাসরি জিজ্ঞেস করার বদলে তাদের কথাবার্তার মাধ্যমে বুঝে নেওয়া যায় যে তারা কেন অখুশি।

যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে মার্জিতভাবে তাদের জিজ্ঞেস করা যেতে পারে যে তারা কেন আপনার সার্ভিসে সন্তষ্ট না। কারণ টা চিহ্নিত করার পর অবশ্যই সেটা সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে এবং তাদের এটা বোঝাতে হবে যে আপনি তাদের কথাকে গুরূত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং সমস্যাটা সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

সমস্যা সমাধান করা গেলে তাদের অবহিত করবেন। এবং সু্যোগ বুঝে তাদের কাছে রিভিউ চাইবেন।

মজার ব্যাপার কি জানেন? এক্ষেত্রে সন্তষ্ট কাস্টমারদের থেকে যা রিভিউ পেয়েছিলেন তার থেকে অনেক ভাল রিভিউ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি । কারণ, এক্ষেত্রে আপনি সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেছেন তাদের খারাপ এক্সপেরিয়েন্স ভাল করার, যেটা বাংলাদেশের ৯৫% বিজনেসই হয়ত করে না।

তারা আপনার এই চেষ্টাকে পজিটিভ্লি নিয়ে একটি ভাল রিভিউ দিবে আশা করা যায়।

কাস্টমারদের রিভিউ করার জন্য উৎসাহিত করুন

যেহেতু বাংলাদেশে রিভিউ করার প্রবণতা এখনো ততটা জনপ্রিয় নয়, সেহেতু বেশিরভাগ কাস্টমার ই আপনাকে নিজে থেকে রিভিউ দিবে না, স্পেশালি সন্তষ্ট কাস্টমাররা। হ্যা তারা হয়ত খুশি মনে আপনার সার্ভিস নিবে, কিন্তু নিজে থেকে রিভিউ করবে না।আপনাকে তাদের একটি রিমাইন্ডার দিতে হবে। কোন না কোনভাবে তাদের উদ্বুদ্ব করতে হবে আপনার বিজেনেস বা সার্ভিস সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য। এরকমই কিছু পন্থা আমরা দেখে নেব এখন –

লিফলেট ও গিফটঃ

যখন কোন কাস্টমার আপনার সার্ভিস নিয়ে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্টান ত্যাগ করতে যায়, তখন আপনি তাকে একটি লিফলেট, ও সাথে একটি ছোট গিফট দিতে পারেন।

লিফলেটটিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ধরনের কথা লিখতে পারেন। যেমন – “আমাদের সার্ভিস গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক। আপনি কি দয়া করে ২ মিনিট সময় নিয়ে গুগলে আমাদের বিজনেসকে রেটিং দিতে পারেন? – ধন্যবাদ”।

এটির সাথে সাথে ছোট গিফটটি তাদের দিতে পারেন। সেটা যেকোন ধরনের গিফট হতে পারে – বড় অথবা ছোট। আপনার যদি অনেক বড় ধরনের বিজনেস হয়, যেমন রিয়েল এস্টেট বা সে ধরনের, সেক্ষত্রে আপনি বড় গিফট দিতে পারেন। অথবা যদি আপনার হয় রেস্টুন্টের বিজনেস, সেক্ষত্রে একটি চকলেট দিলেও চলবে।

গিফট কি দিলেন সেটার চেয়ে বড় কথা যে গিফট দিলেন কিনা। মানুষ বোনাস ও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু পেতে ভালবাসে। তাই আপনি বোনাস বা গিফট হিসাবে যা-ই দিন না কেন তাতেই হবে। লিফলেটটিতে লেখা আপনার কথা ও গিফটটি মিলিয়ে আশা করি তারা তাদের ২ মিনিট সময় খরচ করে খুশিমনে আপনাকে রিভিউ দিবে।

বিজনেস কার্ডঃ

এটিও অনেকটা লিফলেট এর মতই কাজ করবে। তবে এটি হয়ত অতটা কার্যকরী হবে না।আপনি যখন বিজনেস কার্ড ছাপাবেন, তখন অন্যান্য সব তথ্যের সাথে আপনার গুগল রিভিউ এর লিঙ্ক টিও দিয়ে দিবেন। এতে করে, আপনার কোন পুরাতন কাস্টমার যদি আপনার কার্ডটি দেখে আপনাকে রিভিউ দিতে উৎসাহি হয় সে সেটি সহজেই করতে পারবে।

ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া পেজঃ

আপনার বিজনেসের নিশ্চয় একটি ফেসবুক পেজ আছে? আছে কি?

যদি না থাকে তবে আজই খুলে ফেলুন। শুধু ফেসবুক না, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও আজই আপনার বিজনেসের জন্য একাউন্ট খুলে ফেলুন। কারণ, এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ, এই যুগে যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে না থাকেন, তাহলে অনেক পটেনশিয়াল কাস্টমার মিস করছেন।

তো, ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার বিজনেস সম্পর্কে তথ্য দিতে হয় – যেমন ঠিকানা,যোগাযোগ, ফোন নম্বর ইত্যাদি।এসবের সাথে সাথে আপনার উচিত আপনার গুগল রিভিঊ এর লিঙ্কটাও দিয়ে দেওয়া।

এতে করে হবে কি, আপনার যেসব কাস্টমার আপনার ফেসবুক পেজে সংযুক্ত, তারা হয়ত আপনার করা কোন একটি পোস্ট দেখে আপনার বিজনেস সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করল এবং সেটি শেয়ার করতে চাইল।তাই তারা যদি রিভিউ করার লিঙ্কটি আপনার ফেসবুক পেজ থেকেই পেয়ে যায়, তাহলে তারা সহজেই রিভিউ দিয়ে আসতে পারবে।

এছাড়া, আপনি নিজে থেকেই কখনো কখনো পোস্ট করতে পারেন। আপনার গুগল রিভিউ এর লিঙ্কটি আপনার পেজ থেকে শেয়ার করলেন এবং আপনার কাস্টমারদের আমন্ত্রণ জানালেন তাদের অভিজ্ঞতাটি শেয়ার করার জন্য।

আপনি অনেক রিভিউ পেতে পারেন এভাবে কারণ তারা আপনার পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দেখছে, অর্থাৎ তারা অলরেডি ইন্টারনেটে সংযুক্ত। তাই তাদের ক্ষেত্রে ব্রাউজারের আরেকটি ট্যাব ওপেন করে রিভিউ দেয়াটা কোন কষ্টের ব্যাপার নয়, তাই তারা রিভিউ করতে উদ্বুদ্ব হবে।

সরাসরি রিভিউ চানঃ

আপনি সরাসরি আপনার কাস্টমারের কাছ থেকে রিভিউ চাইতে পারেন – মুখে বলার মাধ্যমে। তারা এটিতে কোনভাবেই বিরক্ত হয় না বরং খুশি হয় তাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আপনার সিরিয়াসনেস দেখে।সার্ভিস প্রদানের শেষে আপনি তাদের সরাসরি আবেদন করতে পারেন আপনার সার্ভিস সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা গুগলের মাধ্যমে শেয়ার করার জন্য। আপনি তাদের আপনার গুগল রিভিউ এর লিঙ্কটি শেয়ার করতে পারেন এবং বলতে পারেন রিভিউ করার জন্য।

যদি তৎক্ষণাৎ রিভিউ করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে আপনি তাদের ইমেইল এড্রেসটি চাইতে পারেন। পরবর্তীতে ইমেইলে তাদের আপনার গুগল রিভিউ এর লিঙ্কটি শেয়ার করে রিভিউ চাইতে পারেন।এখানেও আপনার রিভিউ পাবার ভাল সম্ভাবনা রয়েছে কারণ তারা ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় আপনার ইমেইলটি দেখছে। সো তাদের পক্ষে লিঙ্কটি ক্লিক করে আপনাকে রিভিউ দেয়াটা কষ্টের কিছু নয়।

তো এই ছিল আপনার ব্যবসাতে বেশি বেশি পজেটিভ রিভিউ আনার কিছু কৌশল। এগুলো ফলো করুন এবং আপনার ব্যবসার গুগল রিভিউ পেজকে করুন আরো সমৃদ্ধ। কোন মন্তব্য থাকলে জানাতে ভুলবেন না।

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *