ফেইসবুক অ্যাডের সাহায্যে ই-কমার্সের সেলস বাড়িয়ে নিন।

Facebook ads to improve ecommerce sales

আপনি যদি ই-কমার্স স্টোর থেকে সফলতা লাভ করতে চান, তবে বৃহৎ পরিসরে টার্গেট অডিয়েন্স খোঁজার জন্য আপনাকে ঠিক কোথা থেকে শুরু করতে হবে সেটা জানা প্রয়োজন।

এমন অনেক ট্যাকটিক্স আর স্ট্র্যাটেজি আছে যা আপনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কিন্তু শুরুর দিকে সবকিছু আপনার কাছে অনেক গোলমেলে মনে হতে পারে।

এই পোস্টের উদ্দেশ্যই হল, পূর্বে সফল হয়েছে এমন কিছু সাধারণ স্ট্র্যাটেজির সাথে আপনাকে পরিচয় করানো যা, আপনার ই-কমার্স স্টোর সেলস বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। আরো স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, আমরা এখানে কিভাবে ফেইসবুক অ্যাডস ব্যবহার করে ই-কমার্স স্টোরের সেলস বাড়াতে হয় তা নিয়ে আলোচনা করব।

আপনার এখন যদি মনে হয়, এই পোস্টে শুধুই ফেইসবুক অ্যাডস নিয়ে বলা হয়েছে, তবে আমি বলব পোস্টটা একটু পড়েই দেখুন! কারণ, আমরা আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলব যা আপনার পরিবর্তন আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে।

এই পোস্ট থেকে আপনি ফেইসবুক অ্যাডস ব্যবহার করে আপনার ই-কমার্স স্টোরের সেলস বৃদ্ধিকরণের উপায়গুলো সম্পর্কে একটা নিখুঁত ধারণা পেয়ে যাবেন।

চলুন, তবে শুরু করা যাক?

রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন

প্রথমবার আকাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভে ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আপনি রিটার্গেটিং এর সাহায্যে আপনার ই-কমার্স স্টোরে সম্ভাব্য কাস্টোমার ফেরত পেতে পারবেন।

৭২% অনলাইন খরিদ্দার শপিং এর সময় অনেক কিছুই বাদ দিয়ে যায়। রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এদের অনেককেই বাদ দেয়া জিনিসগুলা কেনাকাটার জন্য ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যখন আপনি একটা ই-কমার্স স্টোর পরিচালনা করেন, তখন আপনি রিটার্গেটিং এর সাহায্যে নিম্নোক্ত ফলাফল গুলা পেতে পারেনঃ

  • একজন সম্ভাব্য কাস্টোমারকে তার খোঁজ করা কোন প্রোডাক্ট সম্পর্কে মনে করিয়ে দেয়া
  • আপসেলস এবং ক্রসসেলস প্রোমোট করা
  • মানুষ যে সকল প্রোডাক্ট নিতে আগ্রহী সেগুলাতে ডিস্কাউন্ট দেয়া
  • একই ক্যাটাগরির (আপসেলস এবং ক্রসসেলস হতে ভিন্ন) প্রোডাক্ট প্রোমোট করা- যদি আপনি একটা ইলেক্ট্রনিক ই-কমার্স সাইট পরিচালনা করেন তাহলে আপনি একজন কি খরিদ করেছে সেটার উপর ভিত্তি করে ফ্রিজ বা ওভেন প্রোমোট করতে পারেন
  • প্রমোশনাল অফারগুলা মানুষকে মোবাইল ডিভাইসের সাহায্যে জানানো

চলুন দেখি আপনি কিভাবে ফেইসবুকে একটি রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন স্থাপন করতে পারেনঃ

প্রথমত, ক্লিক-থ্রু রেইট নির্ধারণের আপনাকে আপনার সাইটে ফেইসবুক পিক্সেল ইন্সটল করতে হবে।

লক্ষ্য রাখবেন এই পিক্সেল যেন আপনার সাইটের প্রতিটা পেইজে ইন্সটল করা হয়। এটা আপনাকে ওয়েবসাইটের পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন রকম রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনার স্বাধীনতা দেয়।

আপনি ফেইসবুক অ্যাড ম্যানেজারে লগইন করে এবং পিক্সেল অপশনটি সিলেক্ট করে আপনার ফেইসবুক পিক্সেল সেট করতে পারবেন।

এরপর আপনি আপনার ফেইসবুক পিক্সেল তৈরি করার একটি সুযোগ পাবেন।

 

 

আপনার ফেইসবুক পিক্সেলের একটা নাম দিন এবং টার্মস গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

 

এরপর ফেইসবুক পিক্সেল রেডি হলে তা আপনাকে জানানো হবে। এখন আপনি চাইলে নিজেও পিক্সেল ইন্সটল করতে পারেন অথবা আপনার টেক সাপোর্ট টীমের কাছে ইমেইলও করতে পারেন।

আপনি নিজে পিক্সেল ইন্সটল করতে চাইলে, আপনাকে কোড প্রেজেন্ট করা হবে।

বিঃদ্রঃ আপনি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থেকে এই পিক্সেল ব্যবহার করে কনভার্সনগুলা ট্র্যাক করতে পারবেন। এর ফলে আপনি কার দ্বারা কি কাজ হচ্ছে সেটার উপর নজর রাখতে পারবেন।

এটি একটি স্ট্যান্ডার্ড কনভার্সন যেটা আপনি ট্র্যাক করতে পারবেন-

আপনি যদি কনভার্সনগুলা ট্র্যাক করতে চান, তবে আপনি যেই পেইজের জন্য কাজটি করতে চাচ্ছেন সেটার মত করে কোড এডিট করে দিতে হবে। যেই কোডগুলা আপনার ঠিক করা প্রয়োজন তা উপরোক্ত চার্টের ডান দিকের কলামে “স্ট্যান্ডার্ড ইভেন্ট কোড” নামে দেখানো হয়েছে।

আপনি কনভার্সন রেট কোড বা অন্য যেকোন পরিবর্তন নিম্নোক্ত ভাবে যুক্ত করতে পারবেন-

আপনি কিছু কাস্টম কনভার্সন-ও যুক্ত করতে পারবেন।

আপনি পিক্সেল হেল্পার প্লাগিন ফর ক্রোম থেকে আপনার পিক্সেল সঠিকভাবে ইন্সটল হল কিনা তা দেখতে পারবেন।

একবার আপনার পিক্সেল ইন্সটল হয়ে গেলে আপনি সোশ্যাল নেটওয়ার্কে রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন সেট করতে প্রস্তুত।

এর জন্য প্রথমে আপনাকে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। এজন্য “অডিয়েন্সেস” অপশনটি ক্লিক করুন অথবা ভিজিট করুন-

https://www.facebook.com/ads/manager/audiences/

এরপর “কাস্টম অডিয়েন্স” অপশনটি সিলেক্ট করুন।

“ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক” অপশনটি বেছে নিন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এখন আপনি আপনার কাস্টম অডিয়েন্স সেট করতে পারবেন। এখানে আপনি যেসব তথ্য প্রদান করবেন সেটা নির্ধারণ করবে যে কে আপনার অ্যাড কপি দেখতে পারবে এবং সেটা আপনার ই-কমার্স সাইটে তাদের পূর্বের অ্যাকশন থেকে ঠিক করা হবে।

 

 

সুতরাং আমি “ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক” সিলেক্ট করলে নিম্নের অপশনগুলা পাচ্ছি-

 

আমি যদি একটা সাধারণ রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে চাই যেটা মানুষকে তারা আমার সাইটে কোন প্রোডাক্টটি দেখেছিল সেটা মনে করিয়ে দিবে, তাহলে আমি দ্বিতীয় অপশনটি বেছে নিব।

এরপর আমি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ভিজিটের উপর ভিত্তি করে অ্যাড রিটার্গেটিং করতে পারব।

উদাহরণস্বরূপ, ধরুন, আমি একটা ফার্নিচার স্টোর চালাই এবং যারা ‘ওক টেবিল’ খুঁজছিল তাদের রিটার্গেট করতে চাই।

আমি ‘টেবিল’ এবং ‘ওক’ টাইপ করতে পারি যেন আমার রিটার্গেটিং অ্যাড শুধুমাত্র যারা বিভিন্ন পেইজে ওক টেবিল খুঁজেছিল তাদেরকেই শো করে।

 

যদি আমি সেসব মানুষদের রিটার্গেট করতে চাই যারা চেকআউট পেইজে ওক টেবিল খুঁজেছে কিন্তু খরিদ করে নাই, তাহলে আমি কিছু ‘কাস্টম কম্বিনেশন’ সেট করতে পারি।

এখানে আমি যারা ওক টেবিল আর চেকআউট পেইজে খোঁজ করেছিল, তাদের কাছে আমার অ্যাড শো করার জন্য সবকিছু সেট করেছি। সেই সাথে যারা থ্যাংকইউ পেইজে ভিজিট করে তাদেরকে বর্জন করেছি।

 

থ্যাংকইউ পেইজটি যারা ইতোমধ্যে কেনাকাটা শেষ করে ফেলেছে তাদেরকে রিপ্রেজেন্ট করে। যারা ইতোমধ্যে কেনাকাটা শেষ করে ফেলেছে তাদের অডিয়েন্স থেকে বর্জন বা এক্সক্লুড করার মাধ্যমে আমি এটা নিশ্চিত করছি যেন তারা এই অ্যাডটি দেখতে না পায়।

সাধারণত, আপনি আপনার সকল ক্যাম্পেইনেই এমন এক্সক্লুশন যুক্ত করতে চাবেন, যেন মানুষ অপ্রাসঙ্গিক অ্যাড দেখে বিরক্ত না হয়। এই এক্সক্লুশন এর জন্য আপনার কাজটি আরো নিখুঁতভাবে হয়ে থাকে। কারণ, যারা ইতোমধ্যে কেনাকাটা করে ফেলেছে, তারা আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার না, বরং তারা সেই কাস্টমার যাদেরকে ধরে রাখা প্রয়োজন।

আপনি কতদিন ধরে একটা রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবেন সেটা একটা বড় প্রশ্ন। একটি “রিমাইন্ড” ক্যাম্পেইন ৩০-৪০ দিন ধরে চালানো যায়। কিন্তু একটি চেকআউট রিমাইন্ডারের জন্য ১০ বা তার থেকে কিছু বেশি দিনই যথেষ্ট। এরমধ্যে যারা ই-কমার্স বিজনেস থেকে কিছু কিনবে না, তারা সম্ভবত কখনোই কিনবে না।

যদি আপনি আপনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কাস্টম টার্গেট অডিয়েন্স তৈরি করে থাকেন, সাধারণত যেমনভাবে একটা ক্যাম্পেইন সেট করতেন সেভাবেই সেট করুন এবং আপনার ই-কমার্স বিজনেসের লক্ষ্য ঠিক রেখে তৈরিকৃত কাস্টম অডিয়েন্স সিলেক্ট করে দিবেন।

 

বিঃদ্রঃ অ্যাডগুলা গড়ে তোলার সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন তা দেখেই মানুষ বুঝতে পারে যে তারা রিটার্গেটেড হয়েছে।

এটা একজন সম্ভাব্য কাস্টমারকে কেনাকাটার জন্য উৎসাহিত করে।

আপনি যদি অ্যাডের সাহায্যে মানুষের মাঝে কিছু কেনার ইচ্ছা এবং উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারেন, আপনার রিটার্গেটিং এর প্রচেষ্টা ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে।

রিটার্গেটিং ভুলভাবে করা হলে একটা খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে সঠিকভাবে করা হলে, ভাল সারা পাওয়া সম্ভব। আর ঠিক এই কারণেই, রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন এর জন্য কাস্টম অ্যাড কপি তৈরি করতে হবে, যেন তা প্রাসঙ্গিক এবং মানসম্মত হয়। নিচের অ্যাডটি একটি ভাল উদাহরণ-

আপনি বৃহৎ পরিসরে ই-কমার্স স্টোর পরিচালনা করলে, “ডাইন্যামিক প্রোডাক্ট অ্যাডস” এর কথা মাথায় রাখতে পারেন।

এটি এমন একটা ফিচার যেখানে ফেইসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার রিটার্গেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে।

ডাইন্যামিক প্রোডাক্ট অ্যাডস পরিচালনা করতে আপনাকে প্রোডাক্ট ফীডস আপলোড করতে হবে। এটা একটা জটিল বিষয় বিধায় এখন আমরা এটা নিয়ে কথা বলব না।

লুকএলাইক অডিয়েন্সের ব্যবহার

আপনার অ্যাড “লুকএলাইক অডিয়েন্স” এর প্রতি টার্গেট করে আপনি আপনার ই-কমার্স স্টোরে সেলস বাড়াতে পারবেন।

লুকএলাইক অডিয়েন্স হল ফেইসবুক সৃষ্ট সেইসকল অডিয়েন্স যাদের সাথে আপনার বিদ্যমান টার্গেট অডিয়েন্সের মতামতের মিল আছে।

লুকএলাইক অডিয়েন্স বড় পরিসরে অ্যাড টার্গেট করতে সাহায্য করে। অ্যাড টার্গেট করার সময় লুকএলাইক অডিয়েন্স অনেক দরকারি কাজ অনুমান করতে সাহায্য করে। যেহেতু ক্রেতাদের মধ্যে একরকম প্রবণতা বিদ্যমান, এটা ক্লিকের সাথে রেইট বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার অ্যাড সকলের নিকট প্রাসঙ্গিক মনে হলে, আপনার ক্যাম্পেইনের জন্য আরো ভাল আরওআই তৈরি করা সম্ভব।

আপনি “লুকএলাইক অডিয়েন্স” সেট করতে চাইলে আবারো অডিয়েন্সেস সেকশনে যান-

https://www.facebook.com/ads/manager/audiences.

এবার ক্রিয়েট অডিয়েন্স-এ ক্লিক করার পর লুকএলাইক অডিয়েন্সেস-এ ক্লিক করুন।

 

এরপর আপনাকে কিছু প্যারামিটার ইনপুট করতে হবে যেন ফেইসবুক আপনার বর্তমান সম্ভাব্য কাস্টমারের সাথে মিল রেখে লুকএলাইক অডিয়েন্স নির্ধারণ করতে পারে।

 

 

আপনার লুকএলাইক অডিয়েন্স সেট করার পূর্বে ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য সেট করে নিতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি কি একটা নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের সেল বাড়াতে চান? আপনাকে সেই প্রোডাক্ট খরিদ করে এমন অডিয়েন্স জড়ো করতে হবে।

অথবা, আপনি কি চান আপনার ই-কমার্স সাইটের আর্টিকেল বেশি বেশি পড়া হোক? তাহলে লুকএলাইক অডিয়েন্স ডেভেলপ করার সময় এ জাতীয় আর্টিকেল পড়ে এবং ফেইসবুকে শেয়ার করে এমন কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করুন।

আপনি ইমেইল এড্রেস এবং ফোন নাম্বার লিস্ট ব্যবহার করেও কাস্টম অডিয়েন্স সেট করতে পারবেন।

যদি আপনি আপনার ই-কমার্স সাইটের ভবিষ্যৎ ভিজিটর বাড়াতে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার জন্য ফেইসবুকের উপর নির্ভরশীল না হতে চান, তবে আপনি নিজেও ডেটা আপলোড করতে পারবেন। এটা নির্ভর করবে আপনি এরমধ্যে কতগুলা ডেটা সংগ্রহ করেছেন তার উপর।

আপনি যদি আসলেই লুকএলাইক অডিয়েন্স টার্গেট করতে চান, তবে সেটা কনভার্সন ট্র্যাকিং পিক্সেলএর উপর ভিত্তি করে করতে পারেন। এর ফলে ফেইসবুক যেন সেইসব মানুষকেই টার্গেট করে যারা আপনার সাইট বা ই-কমার্স বিজনেস নিয়ে উৎসাহিত, তা নিশ্চিত করবে।

ফেইসবুক কোন বেইজ অডিয়েন্সের উপর ভিত্তি করে লুকএলাইক অডিয়েন্স গড়ে তুলবে তা ঠিক করার পর, আপনি লুকএলাইক অডিয়েন্সে বেইজের কতটুক সামঞ্জ্যসতা রাখতে চাচ্ছেন তাও ঠিক করতে হবে।

শুরুতে অডিয়েন্স সাইজ ১ এ রাখাই উত্তম। কারণ, তা ক্যাম্পেইনকে টার্গেট মোতাবেক রাখবে। যখন আপনি ফলাফল লাভ করা শুরু করবেন, তখন আপনি অডিয়েন্স সাইজ ১ রেখেই আরেক দেশের জন্য চেষ্টা করে যাবেন। এরফলে আপনার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক চ্যানেলের রিটার্ন অব্যাহত থাকবে, সেই সাথে ক্যম্পেইন আর ক্লিকের খরচও কম হবে।

সেলস প্রোমোটিং এর আগে ব্র্যান্ড প্রোমোটিং

অনেক মার্কেটারই বেশিরভাগ সময় ক্রেতা লাভের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করে। এই তাড়াহুড়া অনেক সময় বিক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

এই সমস্যারও একটা সমাধান আছে! তা হল ব্যান্ড সম্পর্কে জানিয়ে একটা সেলস ক্যাম্পেইন করা যা মানুষকে আকৃষ্ট করবে।

“সাস্টেইন কল-টু-একশন” নামে পরিচিত ক্যাম্পেইনটি, অ্যাড ক্যাম্পেইনে সময়ের সাথে সাথে ব্র্যান্ড সম্পর্কে সকলকে অবগত করে।

এটা ব্যাকআপ দেয়ার জন্য ডেটা আছে।

এডাপ্টলি কন্ডাক্টেড রিসার্চ পাশাপাশি দুটো ক্যাম্পেইন পরিচালনা নিয়ে কথা বলে।

একটা ক্যাম্পেইন শুধুমাত্র সাবস্ক্রিপশন বৃদ্ধিতেই আলোকপাত করে।

আরেকটা ক্যাম্পেইন সাইনআপের জন্য মানুষের নিকট অ্যাড দেয়ার পূর্বে, “সিকুয়েন্স অ্যাডস”-এর সাহায্যে ব্র্যান্ড স্টোরি তুলে ধরে।

উভয় অ্যাডই লুকএলাইক অডিয়েন্স টার্গেট করে এবং নিউজফীডে প্রদর্শিত হয়।

এডাপ্টলি রিসার্চ থেকে পাওয়া যায়, সিকুয়েন্সড স্টোরি অ্যাডের সাহায্যে সাবস্ক্রিপশন রেইট ৫৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ল্যান্ডিং পেইজ ভিজিট ৮৭% পর্যন্ত বুস্ট করা সম্ভব।

 

যেমনটা আপনি উপরের চার্টে দেখতে পাচ্ছেন, যতবেশি সিকুয়েন্সড অ্যাড, ক্লিক-থ্রু রেইটের পরিমাণও ততবেশি।

এজন্য, যখন আপনি একটি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন, তখন মানুষকে আপনার থেকে কিছু কেনার আহ্বান জানানোর পূর্বে তাদের ব্র্যান্ড স্টোরি জানান।

এরফলে আপনি বিশ্বাসের সাথে খ্যাতিও বৃদ্ধি করবে। সেই সাথে আপনার সেলের জন্য আহ্বান করা অ্যাডগুলার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

কিভাবে ব্র্যান্ড স্টোরি জানাতে হবে তা বুঝতে না পারলে, নিম্নোক্ত উপায়গুলা দেখুন-

প্রোডাক্টটির প্রস্তুতপ্রণালী দেখান

প্রোডাক্ট আইডিয়া কিভাবে উদ্ঘাটিত হয়েছিল তা আলোচনা করুন

যারা প্রোডাক্টটি বানায় তাদের ইন্টার্ভিউ নিন

প্রোডাক্ট তৈরির ফ্যাক্টরিটা দেখান

অনেকগুলা বৃহত্তম ব্র্যান্ড এই পথগুলা অবলম্বন করে। নিচে রোলস রয়েসে’র স্ক্রিনশটটি দেখুন-

 

এই ধরণের ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময় আরো ভাল ফল পেতে আপনি ফেইসবুকের মধ্যেই ভিডিও অ্যাড অপশন ব্যবহার করতে পারেন।

ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপন

আপনি এবার ইন্সটাগ্রাম বিজ্ঞাপনের দিকে নজর দিতে পারেন। বেশিরভাগই মনে করেন, প্রোডাক্টের ভালমানের একটা ছবি প্রোডাক্টটির সেল অনেক বাড়িয়ে দেয়।

এর ফলে, প্রোডাক্টের হাই কোয়ালিটি ছবির উপর এখন অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক হিসাবে ইন্সটাগ্রাম যেহেতু ছবির জগত, সেহেতু আপনার কাছে প্রোডাক্টের হাই কোয়ালিটি ছবি থাকলে সেটা ইন্সটাগ্রামে ব্যাপক সারা ফেলার একটা সম্ভাবনা থাকবে।

ছবিগুলা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে আপনি ফেইসবুক প্রদত্ত টার্গেটিং ফিচারটি থেকে সুবিধা নিতে পারেন।

হ্যাপিলি আনম্যারিড ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপনের সাহায্যে মাসে ১২ গুণ পর্যন্ত সেলস বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।

 

 

হাই কোয়ালিটির ছবিগুলা থেকে প্রোডাক্ট খুবই স্পষ্টভাবে বোঝা যাওয়ায় তা ১৮-৩৫ বছরের পুরুষ টার্গেট অডিয়েন্সের মাঝে ব্যাপক সারা ফেলে। কোম্পানি এমন একটা ইন্সটাগ্রাম অ্যাড ক্যাম্পেইন বিকশিত করেছে যা লক্ষণীয় প্রভাব ফেলেছে।

এটি টি.এম লিউইন কোম্পানির আরেকটা উদাহরণ-

 

এই ব্র্যান্ডটি ১০০ বছর পুরনো। কিন্তু তারা আধুনিক সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সফলতা ছিনিয়ে আনতেও পিছুপা হয়নি।

আবারো সেই স্পষ্ট ভিজ্যুয়ালকে ধন্যবাদ যা টার্গেট অডিয়েন্সের মাঝে সারা ফেলেছে এবং টি.এম লিউইনকে ইন্সটাগ্রাম হতে সফলতা এনে দিয়েছে।

এমনকি ইন্সটগ্রাম অ্যাড তাদের প্রতিটা সেলে ৯ গুণ পর্যন্ত খরচও কমিয়ে দিয়েছে।

তারা ক্যারোসেলে অ্যাডস ফিচারটারও ব্যবহার করেছে যা, তাদের একটা একক অ্যাডেই অনেকগুলো ছবি যুক্ত করার সুযোগ দিয়েছে।

উপসংহার

আপনি ফেইবুক অ্যাডের সঠিক ব্যবহার জানলে তা আপনার ই-কমার্স বিজনেস বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

আমরা অনেকগুলা এডভান্স ট্যাকটিক্স নিয়ে আলোচনা করেছি যা আপনার স্টোরের সেলস বৃদ্ধির  জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। রিটার্গেটিং এর পূর্বে মানুষকে ব্র্যান্ড সম্পর্কে অবগত করুন এবং উদাহরণে যেমনটা বলেছিলাম তেমন লুকএলাইক অডিয়েন্স টার্গেট করুন।

ফেইসবুক অ্যাডের সুবিধা হল, আপনাকে ওয়েবসাইট কনভার্সনের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে অতিরঞ্জিত কিছু করতে হবে না।

প্রতিদিন ১০ বা তার থেকে কিছু বেশি অর্থ খরচ করা শুরু করুন এবং দেখুন কিভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ই-কমার্স স্টোরে কাজে লাগাতে পারেন।

এখনই শুরু করুন, সম্ভাবনাগুলো খুঁজে দেখুন।

শুভকামনা!

ফেইসবুক অ্যাড ব্যবহার করে কমার্স বৃদ্ধিকরণের জন্য আপনার কন পরামর্শ আছে কি? অনুগ্রহপূর্বক নিচে আমাদের তা জানান!

 

 

Share on facebook
Facebook
Share on google
Google+
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *