শেয়ার্ড, ভিপিএস ও ডেডিকেটড হোস্টিং

শেয়ার্ড, ভিপিএস ও ডেডিকেটেড হোস্টিং : কোনটি আপনার জন্যে?

হঠাত করে আপনার একটা ওয়েবসাইট তৈরীর প্রয়োজন পড়তেই পারে, সেটা হতে পারে ব্যাক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের জন্যে, আপনি হয়তো এ জেনে থাকবেন আপনার দুটো জিনিস অবশ্যই চাই । সেগুলো হল – ডোমেইন ও হোস্টিং । কিন্তু, তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়া যেন একটু জটিল । আপনি যখন কোন কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনতে যাবেন তখন দেখা যাবে হোস্টিং এর কিছু প্রকারভেদ চোখে পড়ছে। যেমন – শেয়ার্ড, ভিপিএস ও ডেডিকেটড হোস্টিং ।

তো প্রশ্ন হল এগুলোর মাধ্যে পার্থক্য কি এবং আপনার কোন ধরনের হোস্টিং বেছে নেয়া উচিত? আজকে আমরা সহজ ভাষায় এগুলো জেনে নেব।

শেয়ার্ড, ভিপিএস ও ডেডিকেটড হোস্টিং এর মধ্যে পার্থক্য

একেক হোস্টিং প্রোভাইডার বিভিন্ন ধরনের হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইড করে । কিন্তু, হুটহাট কেনার আগে আপনাকে সব হোস্টিংগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত। নইলে, সব টাকাই জলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল ।

হোস্টিং প্রোভাইডারদের প্যাকেজগুলো ভিন্ন হলেও সবাই মূলত এই ৩ ধরনের হোস্টিং সেবা দিয়ে থাকে –

  1. শেয়ার্ড হোস্টিং,
  2. ভিপিএস হোস্টিং ও
  3. ডেডিকেটড হোস্টিং

হোস্টিং জগতে নতুন হলে এই শব্দগুলো আপনার কাছে বেশ কঠিন লাগবে এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু, আজ আমরা আপনাকে এই হোস্টিংগুলোর টেকনিকাল দিকগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরব ।

আর আপনার হোস্টিং কি সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকে তাহলে পরের অংশে তা জানতে পারবেন। কারন শাখা প্রশাখা জানার আগে গাছ সম্পর্কে একটা ভাল ধারনা থাকা উচিত, তাইনা? তো শুরু করা যাক –

হোস্টিং কি? এটা কিভাবে কাজ করে ?

যদি সহজ ভাষায় বলি তাহলে-  হোস্টিং হচ্ছে একটা কম্পিউটারে ডাটা স্টোর করার পদ্ধতি । কিন্তু, এই কম্পিউটার স্টোরেজের একটা বিশেষ দিক রয়েছে । অন্য সব কম্পিউটারে চেয়ে এর পার্থক্য হল এটাকে অবশ্যই নিরবিচ্ছিন্নভাবে নেটয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকতে হয় যাথে পৃথিবীর যেকোন স্থান থেকে কোন নেটয়ার্কিং ডিভাইস (স্মার্টফোন, ট্যাব্লেট, পিসি ইত্যাদি) সংরক্ষিত ফাইল গুলো এক্সেস করা যাবে।

একটা হোস্ট কম্পিউটারকে সার্ভার নামেও ডাকা হয় । আর এগুলো আপনার আমার বাড়িতে থাকা আর দশটা কম্পিউটারের মতই , যাদের স্টোরেজ ডিভাইস, র‍্যাম, প্রসেসর প্রায় সবই থাকে। তো এদের বিশেষ দিকটা হল-  এগুলোকে যখন তখন ডাটা হোস্ট (স্টোর) করার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হয় যাতে করে আপনার সাইটের ভিজিটরগন ঠিক সময়ে কাংখিত তথ্য পেতে পারেন ।

আগেই বলেছিলাম হোস্ট সার্ভারগুলো আমাদের পিসির মতই । আর তাই হার্ডওয়্যার কনফিউগারেশনের উপর ওদের পার্ফরমেন্স নির্ভর করে । এই হোস্ট সার্ভার গুলোর উপরেই মূলত আপনার ওয়েবসাইটের পার্ফরমেন্স নির্ভর করবে । আর হোস্টিং কোম্পানিগুলো এই ভিন্ন ভিন্ন কনফিউগারেশনের সার্ভার দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হোস্টিং প্ল্যান তৈরী করে । সেজন্যেই বিভিন্ন হোস্টিং প্ল্যানের দাম আলাদা হয়ে থাকে ।

আশা করি ইতোমধ্যে আপনি হোস্টিং কি তা জেনে গেছেন । তো আমরা আমাদের মূল আলোচনায় যেতে পারি । প্রথমেই শুরু করা যাক শেয়ার্ড হোস্টিং দিয়ে ।

শেয়ার্ড হোস্টিং

যেমনটা বোঝা যায় ‘হোস্টিং শেয়ার হচ্ছে’ । শেয়ার্ড হোস্টিং-এ একটা হোস্ট সার্ভারে অনেকগুলো ওয়েবসাইট হোস্ট করা হয় । এই হোস্টিংয়ে মূল হোস্ট সার্ভারের যাবতীয় পার্ফরমেন্স ওই সার্ভারে হোস্টকৃত সব সাইটের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় , যেমন – র‍্যাম , সিপিইউ এর গতি ইত্যাদি। তবে স্টোরেজ বা ডাটা স্পেস এই সার্ভারের উপর ডিপেন্ড করেনা। এটা আপনি যে প্লান কিনবেন সে অনুযায়ী আপনাকে কোম্পানি প্রোভাইড করবে ।

এই জিনিসটাকে আপনার একটা রুমের সাথে তুলনা করতে পারেন। ধরুন আপনার নতুন কর্মস্থলে আপনার জন্যে একটা ডেডিকেটেড রুম আছে। সেখানে আপনি একা থাকলে আরাম আয়েশের ব্যাপারে যেমন চিন্তা করতে হবেনা, তেমনীভাবে ১০ শেয়ার করলে সুযোগ সুবিধা তো একটু কম পাবেন , তাই স্বাভাবিক । এই রুমের মতই শেয়ার্ড হোস্টিং-এ হোস্ট সার্ভারটা একাধিক সাইটে শেয়ার করা হয় ।

এখন আসা যাক শেয়ার্ড হোস্টিং-এর খরচে । আবার ঐ রুমের উদাহরনে ফিরে যাই । ঐ রুমের ভাড়া যদি ১০০০০ টাকা হয় , আর যদি আপনি একাই থাকেন , তবে যদিওবা ফ্যাসিলিটিস বেশী পাবেন , খরচ কিন্তু পুরোটাই আপনাকেই বহন করতে হবে । আর ১০ জনে শেয়ার করলে ? সিম্পল, ১০০০০ টাকা ১০ জনের মধ্যেই ভাগ হয়ে যাবে । সেক্ষত্রে সবাইকে একটু কম ফ্যাসিলিটিস নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ।

ঠিক এই কারনেই শেয়ার্ড হোস্টিং-এর দাম সবার নাগালের মধ্যেই থাকে । যেকোন হোস্ট প্রোভাইডারের কাছ থেকে একটা শেয়ার্ড হোস্টিং প্লান নিতে পারবেন বাৎসরিক ১০০০-৫০০০ টাকা দিয়েই।

টাকার এমাউন্ট দেখে হয়তো মনে করতেও পারেন শেয়ার্ড হোস্টিং মানেই সস্তা ও বাজারের সবচেয়ে মানহীন সার্ভিস । কিন্তু, এমন ধারনা করা একদমি ভূল হবে । কারন, অনেক কোম্পানিই আছে যারা শেয়ার্ড হোস্টিং এর ক্ষেত্রেও  কোয়ালিটির সাথে কম্প্রোমাইজ করেনা।  আপনি হয়তো জেনে অবাক হবেন অনেক বাঘা বাঘা কোম্পানিগুলোও শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যাবহার করে। সেটা অবশ্য আপনার প্রোয়োজনের উপর নির্ভর করে। আপনার সাইট যত বেশি রিচ হবে । আপনাকে তত ভাল মানের হোস্টিং নিতে হবে ।

ধরে নেয়া যায় আপনার একটা পার্সোনাল ব্লগ বা ছোটখাট বিজন্যাস সাইটের জন্যে শেয়ার্ড হোস্টিংই যথেষ্ট । শেয়ার্ড হোস্টিং এর অন্যতম একটা সুবিধা হল। এগুলো ১০০% অপারেটড ও নিয়ন্ত্রিত হয় হোস্টিং প্রোভাইডারের মাধ্যমে, তাই হোস্টিং সংক্রান্ত যেকোন সমস্যার সমাধান কাস্টমারের করতে হবেনা।  এই প্যাকেজগুলোর শতভাগ অপ্টিমাইজ করার  মাথা ব্যাথা হোস্টিং  কোম্পানির । সেজন্যে আপনি সাইট তৈরীর দুনিয়ায় নতুন হলে ভাল একটা শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজেই যথেষ্ট ।

হোস্টিং প্রোভাইডার প্যাকেজগুলো অপটিমাইজ করে তা ঠিক । কিন্তু, তাই বলে যে ওয়েবমাস্টার (সাইটের মালিক) এর কিছু করার থাকেনা তা কিন্তু না। খুব ভাল হোস্টিং অভিজ্ঞতা পেতে অবশ্যই একজন সাইট ওনারকে বেশ কিছু কাজ করতে করতে হয় । নাহলে আপনার সাইটের ভিজিটরগন ভাল স্পিড নাও পেতে পারেন। অবশ্য, ছোটখাট পার্সোনাল ব্লগ বা কয়েক পেইজের বিজন্যাস ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে  অতশত ভাবতে হয়না ।

এতো গেল শেয়ার্ড হোস্টিং এর পজেটিভ দিকগুলো । এখন আসা যাক ডাউনসাইডের দিকে। যেহেতু একটা শেয়ার্ড হোস্টিং এর সার্ভার অনেকজনের সাইট হোস্ট করে। তাই কে কোন ধরনের সাইট হোস্ট করছে, কি সাইট হোস্ট করছে তা ট্রাক করা যায়না। ফলাফল – এগুলো ম্যালওয়ার ও ভাইরাস দ্বারা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে ।  আর একটা সাইট আক্রান্ত হলে (যেহেতু তারা সেইম সার্ভার শেয়ার করছে) , স্বাভাবিকভাবেই ওই সার্ভারের বাকি সাইটগুলোও আক্রান্ত হয় ।

ভয় পাবার কিছু নেই, একটা ভাল মানের হোস্টিং প্রোভাইডার বেছে নিন, ব্যাস, এধ ধরনের অবস্থার সম্মুখীন হলে তারাই উপযুক্ত ব্যাবস্থার মাধ্যমে আপনার সাইট সুরক্ষিত রাখবে ।

পরিশেষে বলার যায় পার্সোনাল ব্লগ, পোর্টফোলিও সাইট, ছোটখাট বিজন্যাস সাইট বা ইভেন সাইটের জন্যে শেয়ার্ড হোস্টিংই যথেষ্ট।

ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার )

শেয়ার্ড হোস্টিং এর মত ভিপিএসও (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার ) একাধিক সাইট হোস্ট করা হয়। খানিকটা চোখ কপালে উঠে গেছে নাকি! নাহ, একাধিক সাইট হোস্ট করা হলেও ভিপিএস-এ হোস্ট করা সাইটের সংখ্যা শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের মত এত বেশি হয়না । বরং এক সার্ভারে হাতেগনা কয়টা সাইট থাকে

আর ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভারের ক্ষেত্রে সিপিইউ এর সব ফিচারেই প্রতিটা সাইটের জন্যে মোটামোটি ডেডিকেটেড। মানে হচ্ছে যে কটা সাইট হোস্ট করা হবে তার জন্যে বরাদ্দকৃত সব সুযোগ সুবিধায় ( যেমন – র‍্যাম, সিপিউ স্পিড, ব্যান্ডউইথ ইত্যাদি) অন্য কোন সাইট ভাগ বসাবে না । অন্য একটা সাইট যতই নিজের স্পেস খেয়ে ফেলুকনা কেন, সে সাইট কখনো আপনার সাইটে ভাগ বসাতে পারবে না।  কিন্তু, শেয়ার হোস্টিং  এর বিপরীত সিনারিও দেখা যায় ফলে স্পিড কম হয় ।

ভিপিএসে শুধু আপনার রিসোর্স এই প্রাইভেট থাকেনা, এর আওতাধীন সব সাইটের ডাটা অনেক সুরক্ষিত থাকে ।  আর এজন্যেই এর নাম ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার ।

শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা একটা রুমের উদহারন দিয়েছিলাম । আর ভিপিএস সে তুলনায় একটা বিল্ডিং এর ফ্লাট ভাড়া নেয়া। যেখানে আপনাকে পাশের কোন ভাড়াটিয়ার কিচেন বা ওয়াশরুম শেয়ার করতে হবেনা। মানে আপনার জিনিস আপনার ।

যাহোক আপনি সুবিধা যতই পান , ঐ বিল্ডিং কিন্তু আপনার না । বরং আপনার মত আরো কয়েকটা পরিবার ঐ ভবনের ফ্যাসেলিটিস শেয়ার করে । ভিপিএসও তাই, খুব বেশি প্রাইভেট ও এক্সক্লুসিভ সুবিধা মিলে যা শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভাল ।

আর খরচের বেলায়েও সেইম , এপার্ট্মেন্টের সুযোগ সুবিধা বেশি হলেও খরচও খানিক বেশী । গড়পড়তায় একটা ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভারে আপনার সাইটকে হোস্ট করতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে মাসিক ১০০০ থেকে ৫০০০ টাকা । যদিও কিছু কোম্পানি এর চেয়ে অনেক কম মূল্যে ভিপিএস দিয়ে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে ধরে নেয়া যায় সেটা নামেমাত্রই ভিপিএস হবে !

আর সিকিউরিটির কথা বলতে গেলে ভিপিএস  শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের তুলনার অনেক বেশী সুরক্ষিত । এত বেশী সাইট হোস্টেড হয়না বলে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রমনের সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ ।  কিন্তু একবারেই যে নিরাপদ তা কিন্তু নয়। কারন দিনশেষে একটা ভিপিএস-ও একাধিক সাইট হোস্ট করে ভিন্ন ভিন্ন সাইট ওনারের।

যেমনটা বলেছিলাম  একটা শেয়ার্ড হোস্টিং প্রায় শতভাগ হোস্টিং প্রোভাইডারের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয় । কিন্তু, ভিপিএস এর নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে কাস্টমার দ্বারা । তাই ভিপিএস নিতে চাইলে আপনার অল্প-সল্প টেকনিক্যাল নলেজ থাকা চাই । তবে একটা ভাল  হোস্টিং প্রোভাইডার বেছে নিলে তারাই আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে ।

বেশিরভাগ সাইট মালিক ভিপিএস নেয় মূলত একটা কারনে। কারন – এই সার্ভারগুলোকে ইচ্ছেমত কাস্টমাইজ করা যায় । আর তাই মাঝারি থেকে বড় আকারের অনলাইন ব্যবসার জন্যে ( সে সব সাইটে প্রচুর ভিজিটর আসবে ) ভিপিএস নেয়াটাই শ্রেয় ।

ডেডিকেটেড সার্ভার

যেমনটা শোনায় একটা ‘ডেডিকেটেড সার্ভার’ আপনার সাইটের জন্যেই ডেডিকেটেড থাকবে । তার মানে ওই সার্ভারে আপনার সাইট ছাড়া আর কোন হোস্ট করা হবেনা । ঐ সার্ভারের শতভাগ  ফিচারের ( ব্যান্ডউইথ, প্রসেসর, র‍্যাম ইত্যাদির ) একক সুবিধা পাবে হোস্টকৃত সাইটটি । আর যেহেতু পুরো সার্ভারটাই আপনার, তাই আপনি চাইলেই ইচ্ছেমত কাস্টোমাইজ করতে পারবেন ।

শেয়ার্ড হোস্টিং ও ভিপিএস-এ যেমন হোস্টকৃত অন্য সাইট ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আপনার সাইটেও আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে , ডেডিকেটেড সার্ভারে এমনটা হবার কোন সুযোগ নেই । কারন সে কোনকিছুই অন্য সাইটের সাথে শেয়ার করবেনা। কিন্তু, একটা ডেডিকেটেড সার্ভার থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে চাইলে অবশ্যই  ভাল টেকনিক্যাল নলেজ থাকা চাই । আমাদের রুম শেয়ার (শেয়ার্ড হোস্টিং ) ও এপার্ট্মেন্টের (ভিপিএস) উদহারনের কথা মনে আছে, সে তুলনায় বলা চলে ডেডিকেটেড সার্ভার মানে নিজের বাড়ি । যেটার পুরো মেইন্ট্যানেন্সের দায়ভার আপনার উপর । আপনার বাড়ি যেমনি করে আপনি যেভাবে খুশি সাজাতে পারবেন একটা ডেডিকেটেড সার্ভারকেও আপনি নিজের মত করে কাস্টোমাইজ করতে পারবেন ।

এখন আসা যাক খরচের বেলায় । নিশ্চই এর ব্যয় অন্যগুলোর চেয়ে একটু বেশিই হবে । আপনার সাইটের জন্যে একটা ডেডিকেটেড সার্ভার  পেতে আপনাকে মাসে গুনতে হবে ৭০০০ থেকে ২০০০০ টাকা । আবার সার্ভারের কনফিউগারেশনের উপর এই দামের কমবেশ হতে পারে ।

সবথেকে সেইফ এই হোস্ট সার্ভারগুলোকে চালাতে বেশ দক্ষতা যেমন প্রয়োজন , ঠিক তেমনি লাগবে অনেক বাজেট । খুব বেশী ভিজিটর না থাকলে আর আপনি যদি নতুন সাইট খুলতে চান, নেহাত ডেডিকেটেড সার্ভারের দিকে না যাওয়াই উত্তম ।

তবে যাদের সাইটে লাখ লাখ ভিজিটর থাকে তাদের জন্যে অবশ্য ডেডিকেটেড সার্ভার খুব বেশী দরকার হয়ে পড়ে।

পরিশেষে:

আশা করছি আপনি এই আর্টিকেল শেষে বুঝতে পেরেছেন হোস্টিং কি, এর গুরুত্ব এবং বিভিন্ন প্রকার হোস্টিং প্লানের আদ্যপান্ত। আজকের মত বিদায় নেয়ার পালা, তার আগে একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় শেয়ার করতে চাই। কোন হোস্টিং প্লান নিবেন তা আপনি হোস্টিং প্যাকেজের দামের উপর নির্ভর করে নিবেন না, বরং, আপনার সাইটের প্রয়োজন অনুসারেই হোস্টিং সিলেক্ট করবেন। আপনার ট্রাফিক বেশি হলে দাম বেশী সত্ত্বেও ভাল প্লানের দিকেই আগানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর তাছাড়া আপনি সাইটে কি কি হোস্ট করবেন তার উপরেও বায়িং ডিসিশান নির্ভর করবে।

বেশি ডাটা হোস্ট করতে চাইলে একটা ভাল প্যাকেজের বিকল্প নাই। সবশেষে বলা যায় পার্সোনাল ও লাইট ইউজার ওরিয়েন্টেড সাইটের জন্যে ভাল একটা দেশীয় কোম্পানি থেকে শেয়ার্ড হোস্টিং প্লান নিয়ে নিন। আর মাঝারি/বড় ব্যাবসা, নিউজ সাইট, এফিলিয়েট নিস সাইট, ই- কমার্স সাইট ইত্যাদি বড় ভিজিটরের সাইটের জন্যে আপনার ভিপিএস অথবা ডেডিকেটেড সার্ভার চাই ই চাই!!

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.