কীভাবে একটি ব্র‍্যান্ডনিউ সাইটে বিনামূল্যে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন

আপনি  কোন লিংক স্ট্র‍্যাটেজিতে কাজ করে থাকলে খুব সম্ভবত লিংক রিক্যুয়েস্ট পাঠিয়েছেন।

এই আইডিয়াটি খুব সহজ, শুধু একটা সাইট থেকে ব্যাকলিংক চাইতে হবে।

নতুন লিংক পাওয়ার জন্যে এটি সবচেয়ে সোজা উপায় আর কাজের সময় তা অত্যন্ত কার্যকরী ।

কিন্তু সমস্যা হলো, স্ট্র‍্যাটেজিটা ত্রুটিমুক্ত না।

বেশিরভাগ সময়েই একগাদা ইমেইলের মাঝে এই রিক্যুয়েস্টগুলো হারিয়ে যায়। আপনি যখন চিন্তা করবেন একজন ব্যক্তি গড়ে ৮৮টি ইমেইল পান, তখন আপনার জন্যে ব্যপারটা বুঝতে সহজ হবে। মাঝেমধ্যেই আপনার রিক্যুয়েস্টটি হাই প্রায়োরিটি না হবার কারণে চোখ এড়িয়ে যাবে।

বাকি সময়, আপনার রিক্যুয়েস্ট একদম সোজাসুজি প্রত্যাখ্যিত হবে। আপনি যে রেসপন্সের  আশা করবেন, বস্তুত সেটার উল্টোটাই পাবেন।

 

তাহলে আপনি কী করতে পারেন?

আপনাকে এমন একটি ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে যা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব।

আমি জানি এটা শুনতে খুব একটা সহজ মনে হয় না, কিন্তু একবার যদি আপনি জেনে যান সাইট মালিকেরা আসলে কী খুঁজছেন, আপনার জন্যে পুরো ব্যপারটাই সহজ হয়ে যাবে।

 

আর আপনি যদি হাই-কোয়ালিটি লিংক পেতে চান তাহলে একটি ভাল লিংক রিক্যুয়েস্ট পিচ লেখার পদ্ধতি সম্বন্ধে আপনার জানা থাকতে হবে। যেকোন SEO অথবা মার্কেটারের জন্যে এই স্কিলটি জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার জন্যে কাজ করার ও নতুন অথরিটি লিংক পাওয়ার পদ্ধতি আমি এখানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বর্ণনা করেছি।

আপনি যেকোন অবস্থায়ই থাকুন না কেন অথবা আপনার সাইটটি যত বড়ই হোক না কেন, এই পদ্ধতিটি আপনার জন্যে শতভাগ কাজ করবে।

 

সাইট মালিকদের চাহিদা বোঝা

লিংক পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অন্যায্য সত্য হলো,

কিছু সাইট খুব একটা ভালো না হওয়ার পরেও শুধুমাত্র নিজেদের ভালোমতো পিচ করার জন্যে লিংক পেয়ে যায়

তার মানে এমন বহু সাইট আছে যেগুলোর দারুণ কন্টেন্ট থাকা সত্ত্বেও ভালো পিচ তৈরি করতে না পারার কারণে লিংক পেতে ব্যর্থ হয়।

আমি জানি ব্যপারটা কোনভাবেই মেনে নেয়ার মতো না, কিন্তু এভাবেই এটা হয়ে আসছে।

আসল কথা হলো কেবল একটা ইউআরএল থাকলেই কোন সাইট থেকে ব্যাকলিংক পাওয়া যাবে না।

একাধিক ব্লগ চালানো একজন হিসেবে আমি এটাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। আমি প্রায়ই ব্যাকলিংক দেই, কিন্তু এক্ষেত্রে আমি যথেষ্ট খুঁতখুঁতে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি পিচ ও আর্টিকেল অথবা সাইট দুটোকেই বিবেচনা করি, কিন্তু আমার চেনা এমন অনেকেই আছেন যারা এ নিয়ে মাথা ঘামান না।

এজন্যেই আপনার পিচটিকে আপনার দারুণভাবে তৈরি করতে হবে।

একটি ভালো পিচের উদাহরণ এখানে দেয়া হলো:

 

এটা ঠিক কী কারণে কাজ করে সেদিকে আমরা একটু পরেই যাব, কিন্তু আমি প্রথমে বলতে চাই আমার মতো সাইট মালিকেরা একটা পিচে আসলে ঠিক কী দেখতে চান।

 

সাইটটির আসলে কী লাভ হচ্ছে

একটি ব্লগ ব্যাকলিংক নেয়ার পেছনে মূল কারণ হলো নিজেদের জন্যে এটা কোনভাবে ফলপ্রসূ করা।

একটা দারুণ লিংক বিল্ডিং স্ট্র‍্যাটেজির জন্যে ঠিকঠাক ব্যাকলিংক পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যার জন্যে সাইটগুলো সবসময়ই সবচেয়ে ভালো লিংকগুলো চায়।

 

 

লিংক পাওয়ার জন্যে সাইট মালিককে আপনার বোঝাতে হবে তারা কী লাভ পাবে।

এটা অনেক বড় ব্যাপার

আপনার সাইটে অনেক হাই-কোয়ালিটি লিংক পাওয়ার জন্যে এই ব্যপারটিকে আপনি একদমই এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

একটি ছোট্ট সিক্রেট হলো, প্রায় সব সাইটই একই ধরনের লাভ খোঁজে।

বেশিরভাগ লোকের চাহিদা জেনে গেলে লিংক পাওয়ার সম্ভাবনা আপনার জন্যে অনেকাংশে বেড়ে যায়।

বেশিরভাগ ওয়েবমাস্টার একটি লিংকে যা চায় তা হলো

  • কন্টেন্টটি তাদের সাইটের সাথে সম্পর্কিত।
  • কন্টেন্টটি বিস্তারিত ও গভীর।
  • কন্টেন্টটি ভালোভাবে লেখা বা তৈরি।
  • সাইটটি বৈধ।

আসুন প্রতিটি ফ্যাক্টরকে সূক্ষভাবে পর্যালোচনা করি।

সাইটের সাথে সম্পর্কিত কন্টেন্ট থাকা আবশ্যক

আপনি বিশ্বাস করবেন না প্রতি সপ্তাহে আমি কতগুলো পিচ পাই যা আমার সাইটের কন্টেন্টের সাথে সম্পর্কিত না।

কিন্তু তার মানে এই না যে প্রতিটি প্রাসঙ্গিক কন্টেন্টকেই আমি লিংক দিয়ে থাকি। যেমনটা বলেছি, এই ব্যপারে আমি খুঁতখুঁতে।

কন্টেন্ট আর লিংকের কন্টেন্টের মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক আছে।

লিংকের কন্টেন্টকে মূল কন্টেন্টের সাথে সাপ্লিমেন্টারী হতে হবে।

আমি আসলে কী বোঝাচ্ছি সেটা দেখাই। এখানে আমার একটি সাম্প্রতিক আর্টিকেল দেখানো হলো:

 

আর্টিকেলের শুরুতে আমি বলেছি সবার সাইকোলজি কীভাবে প্রায় একই:

 

 

আমি এমন একটি সোর্সের লিংক এখানে যুক্ত করেছি যার সুর আমার কথার সুরের সাথে মিলে যায়। আমি একটা তর্ক করছিলাম আর সোর্সটি আমার তর্কের সমর্থনেই কথা বলে।

আমি কোন সাইট লিংক করার এটাই মূল কারণ। ব্যতিক্রম থাকলেও ৯০% ক্ষেত্রে এর মূল কাজ হলো আমার কথার সমর্থন দেয়া।

আপনি কি এটা অন্য সাইটের জন্যে করতে পারেন?

নির্ভরযোগ্য রিসোর্স হিসেবে সাইটগুলোর চাহিদা কি আপনার সাইট পূরণ করতে পারে?

আমি জানি আপনি পারবেন। এর শুরু প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট অফার করার সাথে।

অবশ্যই সেই কন্টেন্টটি তৈরি করার জন্যে আপনাকে ঝাক্কি পোহাতে হবে। আপনার কন্টেন্টি ভালো না হলে আপনি কোনভাবেই কোন লিংক পাবেন না।

এছাড়াও, আপনার নিশ্চিত করতে হবে যেন….

 

কন্টেন্টি বিস্তারিত গভীর হয়

আপনি খুব সম্ভবত জানেন আমি প্রায়ই লং-ফর্ম কন্টেন্ট নিয়ে লিখি।

কিন্তু আমি লং-ফর্ম কন্টেন্ট থেকেও যে ব্যপারটিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি তা হলো কম্প্রিহেন্সিভ কন্টেন্ট।

আপনি ৬,০০০ শব্দের একটা আর্টিকেল লিখতে পারেন যেটা কোন কাজেরই না আবার ১,০০০ শব্দের আর্টিকেলই আপনার কাজ দারুণভাবে করে ফেলতে পারে।

আমার জন্যে মধ্যমপন্থাই কার্যকরী, মোটামুটিভাবে ৩,০০০ শব্দেই আমার কাজ হয়ে যায়।

আমি জানি তারপরও সংখ্যাটা অনেক মনে হয় (আসলেও তা!) কিন্তু এটি একদম যথাযথ।

বড় কন্টেন্ট তৈরি করার পেছনে আমি বহু কারণ দিতে পারবো।

 

প্রথমে, আপনি যদি লম্বা একটি কন্টেন্ট লেখেন, এটা স্বাভাবিক ভাবেই বিস্তারিত হবে।

স্বাভাবিক না?

গোজামিল দিয়ে একটা লম্বা কন্টেন্ট লেখা এরপরেও সম্ভব, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে আপনাকে বিস্তারিত বর্ণনায় যেতেই হবে।

দ্বিতীয়ত, পরিসংখ্যান বলে বড় কন্টেন্ট আপনার জন্যে অধিক কার্যকরী ।

আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? ডাটাগুলো দেখুন।

কন্টেন্ট যত বড় হয়, লিংকের সংখ্যাও তত বাড়ে।

 

 

তাছাড়া সাধারণত এটির SERP রেটিং ও বেশি হয়:

 

পাঠকেরা লং-ফর্ম কন্টেন্ট পড়তে ভালবাসে। (সার্চ ইঞ্জিনগুলোর ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে)

নিয়মিত লং ফর্ম, নির্ভরযোগ্য কন্টেন্ট লিখতে থাকলে আপনি মনোযোগ কাড়তে পারবেন আর আপনার সাইটের জন্যে আরো ট্র‍্যাফিক আনতে পারবেন। এটা শুনতে স্বপ্নের মতো মনে হলেও আমি আপনাকে নিশ্চিত করে বলছি, এটা আসলেই কাজ করে।

এরপরেও যদি আপনাকে বড় আর বিস্তারিত এই দুটোর মাঝে বেছে নিতে হয় তাহলে বিস্তারিত বেছে নিন।

কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে, লম্বা কন্টেন্টগুলো স্বাভাবিকভাবেই বিস্তারিত হয় আর এক্ষেত্রে আপনি দুই দিকই একসাথে পেয়ে যাচ্ছেন । আমি নিজেও এটাই পরামর্শ দেব।

 

কন্টেন্টটি ভালোভাবে লেখা বা তৈরি

না, আমি ব্যাকরণ নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করি না কিন্তু এটা মানি যে যেকোন কন্টেন্ট ভালোভাবে লেখা হওয়া উচিত।

তাহলে কি একে একদম দাড়ি কমা সেমিকোলন সহ নিখুঁত হতে হবে? একদমই না।

এর মানে হলো কন্টেন্টে এমন কিছু থাকতে হবে যা আসলেই কার্যকরী ও পাঠকদের পরিষ্কারভাবে কিছু বোঝায়।

সেথ গডিনের ব্লগ এক্ষেত্রে একটা দারুণ উদাহরণ।

 

তিনি প্রতিদিন পোস্ট করেন আর খুবই ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে লেখেন। অর্থাৎ তিনি প্রায়ই ব্যাকরণিক নিয়ম ভাঙ্গেন।

কিন্তু এ বিষয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।

লোকে সেথের ব্লগ পড়তে ভালবাসে কারণ এটা ইউনিক ধারণা উপস্থাপন করে।  সেমিকোলনের ভুল প্রয়োগ মোটেও লেখাটিকে পাঠকবিমুখ করে না।

একইসাথে, ব্যকরণকে একেবারে ঝেড়ে ফেলে দেবেন না। শুধু এ নিয়ে অতিরিক্ত মাথাব্যথার প্রয়োজন নেই।

আমার আসল কথা হলো কন্টেন্টকে এমন একটি সূত্র হতে হবে যা স্পষ্টভাবে কিছু বলে।

 

একই কথা ভিডিও ও ইনফোগ্র‍্যাফিক্সের জন্যেও প্রযোজ্য যেগুলো টেক্সট-বেজড না। এখানেও একই কাজ কর‍তে হবে: এমন কিছু শেয়ার করা যা পাঠকের সময় নষ্ট করবে না।

 

সাইটটি বৈধ

আপনাদের বেশিরভাগের জন্যেই এটা কোন ব্যপারই না। কিন্তু ব্লগার হিসেবে আমার এটা মাথায় রাখতে হবে যেন আমি একটা বৈধ সাইটের সাথে লিংক করছি।

আমি চেষ্টা করি বাহ্যিকরূপ দেখে কিছু বিচার না করার, কিন্তু আমি যখনই ব্যাসিক ওয়ার্ডপ্রেস থিম দেখি, স্বাভাবিকবেই এর বৈধতা নিয়ে আমার মাথায় প্রশ্ন আসে।

 

 

বৈধ দেখানোর জন্যে আপনার কাস্টম ডিজাইন থিমের প্রয়োজন নেই। আপনাকে শুধু নিশ্চিত করতে হবে যেন আপনি সে সাইটগুলোকে পিচ করছেন তাদের কাছে আপনি নিজেকে সত্যি বলে উপস্থাপন করতে পারেন।

আপনার সোশ্যাল প্রোফাইলগুলো সেখানে লিংক করে দেয়া এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

আর আপনার সাইট যদি একদম নতুন হয় তাহলে আরো বেশি সতর্ক থাকবেন কারণ পুরনো সাইটগুলোর মতো প্রভাব বিস্তার এটা করতে পারবেনা।

এই সবকিছুই আসলে একটাই কথা বলছে। আর তা হলো, উঁচু মানের কন্টেন্ট তৈরি করতে চেষ্টা করুন, আপনি এর পুরষ্কার পাবেন।

আপনার মূল্যকে কাজে লাগান

এখন পর্যন্ত সব শুনতে খুব সহজ লাগছে, তাই না? এটা খুব বেশি না, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করবেন না একটি ক্ষেত্রর সাথেও যায়না এমন কত অনুরোধ আমি পাই।

আমি যখন শুধুমাত্র পিচ থেকে বলতে পারিনা সূত্রটি ভালো নাকি না, ব্যপারটা আরো হতাশাজনক।

আপনার লিংক রিক্যুয়েস্টেকে আপনার আর্টিকেল বা পেইজকে মূল্যবান সূত্র হিসেবে দেখাতে হবে এবং লাভজনক ব্যপারগুলোকে একেবারে স্পষ্ট করে দিতে হবে।

এই পিচটিকে আমার বেশ ভালো লেগেছিল:

আমি তৃতীয় প্যারাগ্রাফের কথা আলাদা করে বলতে চাই:

 

এটা আমাকে পরিষ্কারভাবে জানায় সুবিধাগুলো আসলে কী। আমার হয়ে এই কথাগুলো বলে দেয়াটা আমার জন্যে দারুণ আর আমি জানি বেশিরভাগ সাইট মালিক এই কথাটি মানবে।

এছাড়াও সুবিধাগুলো সত্যিই আমাকে সাহায্য করবে নতুন অডিয়েন্সের কাছে আমার ব্র‍্যান্ডকে তুলে ধরতে আর এটাই বেশিরভাগ সাইট চায়।

তাহলে আপনি কিভাবে আপনার পিচে এই সুবিধাগুলো জানাবেন?

 

প্রথমে, আপনার সত্যিকার অর্থেই অফার করার মতো কিছু সুবিধা থাকতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো প্রাসঙ্গিক কন্টেন্ট। আপনার কন্টেন্টে এমন কিছু থাকতে হবে যা আপনার সূত্রের মান বাড়ায়।

 

একটা প্রাসঙ্গিক কন্টেন্টই বস্তুত আপনার দরকার, কিন্তু আপনার যদি এর চেয়ে বেশি দেয়ার ক্ষমতা থাকে, আরো ভালো।

বিশেষ করে আপনার যদি প্রমোট করার মতো প্রতিষ্ঠিত একটি অডিয়েন্স থাকে,তাহলে তো খুবই ভালো। যেকোন সাইট মালিকের কাছে এটি স্বর্ণের খনির মতো।

এই ব্যপারে একটা ভালো সময় নিশ্চিত করুন।

 

আমি বলব লিংক পাওয়ার যুদ্ধে ৭৫% ই হলো সাইট মালিককে বোঝানো যে আপনি তাদের সুবিধা দেবেন। আপনি যদি এটা করতে পারেন, লিংক পাওয়ার ক্ষেত্রর আপনার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যাবে।

ছোট পিচ, বড় সুবিধা

শুনতে হাস্যকর শোনালেও আকৃতি এক্ষেত্রে বেশ বড় ভূমিকা রাখে।

আমি প্রতিদিন প্রায় ২০৭টি ইমেইল পাই। সবগুলোর উত্তর দিতে না পারলেও সাধারণত আমি সবগুলোই পড়ি।

এর মানে একটা ব্যাকলিংকের জন্যে পাঁচ প্যারাগ্রাফের রচনা পড়া আমার পক্ষে সম্ভব না।

এই আর্টিকেলে শেয়ার করা প্রথম পিচটি আরেকবার দেখুন:

 

লক্ষ্য করুন এটি কত ছোট আর সহজে পড়া যায়। এখানে অনেকগুলো সিঙ্গেল লাইন আছে আর লিংকগুলো খোঁজা ও ক্লিক করা কতটা সহজ।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হলো এটি একেবারে টু দ্যা পয়েন্ট। এই ইমেইলটি কীসের, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

এই ধরনের ইমেইলগুলো পড়তে আমার ভালো লাগে। আমি ১৫সেকেন্ড বা এর কম সময়ে এর ওপরে চোখ বুলিয়ে বুঝে নিতে পারি যে এটা রিপ্লাই দেবার মতো কীনা।

আরেকটা ব্যপার।

যদিও আপনার পিচটিকে ছোট রাখতে হবে, লক্ষ্য রাখবেন যেন কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ না পড়ে যায়।

এখানে একটি পিচ দেয়া হলো যেটি আমার শেয়ার করা পিচগুলোর মতো না। এটি একটু লম্বা এবং প্যারাগ্রাফগুলোও বড়সড় ।

 

 

আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, এটি অবশ্যই কাজ করেছে।

আমার মনে হয় এর কারণ হলো এটি কোন বর্ণনা বাদ দেয়নি বরং এখানকার প্রতিটি শব্দ নিজের গুরুত্ব  জানিয়েছে ।

কিন্তু এটি তারপরও ছোটই ছিল। এটি আরো ছোট হতে পারতো, কিন্তু এই দৈর্ঘ্যটাও খারাপ না।

যতদূর পারবেন পিচকে ছোট রাখুন ,কিন্তু অবশ্যই তা জরুরি তথ্য বাদ দিয়ে না।

 

পিচ লেখা

 

পিচ লেখার শুরুটা একটু ঝামেলার মনে হতে পারে।

 

কিন্তু একবার যখন আপনি শুরু করে ফেলবেন, আপনি দেখবেন এটা আপনার ভাবনার চেয়ে অনেক সহজ।

প্রথমে আপনার সাব্জেক্ট লাইন নিয়ে চিন্তা করুন

আপনার সবচেয়ে বেশি সময় দিতে হবে সাব্জেক্ট লাইন লেখাতে। কারণ এটিই নির্ধারণ করে কেউ এতে ক্লিক করবে নাকি না।

আপনি যদি কন্টেন্ট মার্কেটিং নিয়ে অভ্যস্থ থাকেন, তাহলে আপনার জন্যে এটা নতুন কিছুই না। হেডলাইন মানুষকে আকৃষ্ট করে  আর ইমেইলের হেডলাইন হলো হেডলাইন।

আপনার সাব্জেক্ট লাইনটি যথেষ্ট ভালো না হলে এটি স্প্যাম হিসেবেও চিহ্নিত হতে পারে।

 

 

এখানে কোন ভুল উত্তর নেই, কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই এমন কিছু লিখতে চান যা আপনাকে মেইলটি পড়তে আকৃষ্ট করবে।

আমি প্রশ্ন ব্যবহার করতে আর বোল্ড স্টেটমেন্ট বানাতে পছন্দ করি।

এখানে আপনার শুরু করার জন্যে কিছু সাজেশন দেয়া হলো:

  • (নাম) আপনি কি পার্টনারশিপে যেতে আগ্রহী?
  • আমি আপনাকে বিনামূল্যে কিছু দিতে চাই
  • আপনার কন্টেন্টকে অন্য স্তর নিয়ে যাওয়ার এখনই সময়
  • আপনার আর্টিকেলে কিছু একটা নেই!

অবশ্যই এগুলো সব আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, তাই আপনার সাব্জেক্ট লাইন হয়তো অন্যরকম হবে।

আপনার স্বাভাবিক কথার ধরণ ব্যবহার করাটা খুবই জরুরি। আপনি যা নন, তা হতে যাবেন না।

একটু অন্যভাবে ভাবার চেষ্টা করুন। আপনি আপনার সাব্জেক্ট লাইনে ইমোজি ব্যবহার করতে পারেন অথবা মনোযোগ কাড়ার জন্যে সব ক্যাপিটাল লেটারে একটাই শব্দ লিখতে পারেন। এখানে সাব্জেক্ট লাইনের জন্যে আমার প্রিয় ১২টি টিপস দেয়া হলো, কন্সট্যান্ট কন্ট্যাক্টের কার্টেসিতে:

 

 

এরপর আপনাকে পিচের আসল অংশ লিখতে হবে

বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। আপনার দেয়া সুবিধাগুলো লিখতে ভুলবেন না।

আমার মনে হয় কয়েকটা টেম্পলেট লক্ষ্য করলেই ভালো করে বুঝবেন কীভাবে পিচ লিখতে হয়।

এখানে ব্রায়ান ডিনের স্কাইস্ক্র‍্যাপার টেকনিকের একটি টেম্পলেট দেয়া হলো:

 

আপনি যদি স্কাইস্ক্র‍্যাপার টেকনিকের সাথে পরিচিত না থাকেন, তাহলে বলি ব্যাপারটা আসলে হলো কোন এক্সিস্টিং রিসোর্সকে উন্নত করা।

 

 

এরপর আপনি ঐ রিসোর্সে লিংক করা অন্য সাইটে পৌঁছান এবং তাদের জানান আপনার কাছে এরচেয়ে ভালো ভার্সন আছে।

এটি লিংক পাওয়ার ক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করে আর আপনার সাইটকে অথরিটি হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করে।

উপরের লিংকটি আমার দেয়া সব ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে। এটা সুবিধা সম্বন্ধে স্পষ্ট করে, এটা ছোট আর ভালো কন্টেন্ট দেয় ।

আপনার কথার ধরন একটু ফর্মাল হওয়াটা ভালো।

এখানে মূল ধারণাটি হলো আরেকজনের সাইটের জন্যে কোন সাজেশন দেয়া ও বিনীতভাবে তাদের কাছে অনুগ্রহ চাওয়া।

এটি খুব শক্তিশালী কারণ এটি রেসিপ্রোসিটির মতো সোশ্যাল ট্রিগারে আঘাত করে। আপনি এই টেম্পলেট যাকে পাঠাচ্ছেন সে ইতোমধ্যেই আপনাকে সাহায্য করতে আগ্রহী হবে।

আমি মানছি এই স্টাইলটি সবার জন্যে প্রযোজ্য না, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটা খুব ভালো কাজ করেছে।

এটা যদি আপানার স্টাইল না হয়ে থাকে, আপনি এখান থেকে মূল ধারণাটি নিয়ে নিজের ভাষায় লিখতে পারেন।

আপনি যদি এরপরেও পিচ লিখতে ঝামেলায় পড়েন, তাহলে পিচবক্সের সাহায্য নিন।

 

 

পিচবক্স শুধু ব্যাকলিংক রিকুয়েস্ট না, বরং যেকোন ধরনের রিক্যুয়েস্টের ইমেইল টেম্পলেট তৈরিতে সাহায্য করে।

 

উপসংহার

আমি আগেও বলেছি আবারও বলছি, দারুণ কিছু লিখতে হলে আপনাকে দারুণ লেখক হতে হবে না।

আপনার ইংলিশ ডিগ্রি বা নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার লিস্টে জায়গা পাবারও দরকার নেই।

আপনার শুধু লোকের চাহিদা জানতে ও সেই অনুযায়ী যোগান দিতে জানতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনার বর্ণনা করতে হবে কেন আপনার লিংকটি সুবিধাজনক।

আমি এমন অনেক সাইট দেখি যারা দারূন কন্টেন্ট থাকার পরেও লিংক পাচ্ছে না। এটা লজ্জাজনক।

আপনি যদি আমার শেয়ার করা ধাপগুলো মেনে চলেন, নিশ্চিতভাবে আপনি সাড়া পাবেন (আর হ্যাঁ, ব্যাকলিংকও)।

আমি যেমনটা বলেছি, প্রতিটি সাইটই সবসময় লিংক করার জন্যে উচ্চ মানের কন্টেন্ট খোঁজে। কৌশলটা হলো সাইটগুলোকে বোঝানো যে তাদের চাহিদামতো কন্টেন্ট আপনার কাছে আছে।

অবশ্যই এরপরেও আপনার কিছু রিক্যুয়েস্ট প্রত্যাখ্যাত হবে। এ বিষয়ে কিছু করার নেই।

কিন্তু আমার বলা টেকনিকগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি অবশ্যই আরো লিংক পাবেন।

এই স্ট্র‍্যাটেজিগুলো আমি নিজেই ব্যবহার করেছি, আর তাই নিজেই জানি যে এরা কাজ করে। তাই আর দেরি কেন? আজই কাজে নেমে পড়ুন!

 

আপনি কীভাবে ব্যাকলিংকের খোঁজ পান?

 

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.