কীভাবে আপনার মোবাইল সাইটটি দ্রুত লোড করবেন?

আপনি যদি একনজরে আমার আর্টিকেলগুলো দেখেন, তাহলে বুঝতে  পারবেন আমি ‘মোবাইল দ্রুততা’ ধারণাটি নিয়ে অনেক কথা বলি ।

 

কেন আমি এই ব্যপারটাকে এত বড় করে দেখি?

কারণ বর্তমান ডিজিটাল জগতের সত্যিকারের বাস্তবতা হলো মোবাইল।

সত্যি বলতে, ডেস্কটপের তুলনায় মোবাইল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মোট ইন্টারনেট ব্যবহারের ৫১.৩% হয় মোবাইলের সাহায্যে আর এই সংখ্যাটি ক্রমবর্ধমান।

এজন্যেই আমি আমার ক্লায়েন্টদের ডেস্কটপ থেকে মোবাইলের দিকে বেশি ফোকাস করতে বলি আর ঠিক এটিই আমি আপনাকেও করতে বলবো।

আর এক্ষেত্রে আপনার মোবাইল সাইটটির দিকে আপনার নজর দেয়া উচিত সবার আগে।

একটি রেস্পন্সিভ সাইট সাথে অবিচ্ছিন্ন পপ আপ, মোবাইলের জন্যে বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড হলো এটি।

তার ওপর নিয়মিত ওয়েব অপটিমাইজেশনের জন্যে সেরা প্র‍্যাক্টিসগুলো ডেস্কটপ ও মোবাইল দুটির জন্যেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

সবচেয়ে দারুণ যে প্র‍্যাক্টিস নিয়ে আমি কথা আজকে বলতে চাচ্ছি, তা হলো স্পিড।

ইউজাররা অবশ্যই চাইবেন আপনার সাইটটি যেন দ্রুত লোড হয়। আর যদি তা না হয়, তাহলে আপনি অসংখ্য ট্র‍্যাফিক হারাতে পারেন।

জিজ্ঞাসা করবেন, কতটা দ্রুত?

৭৩% মোবাইল ইন্টারনেট ইউজার বলেছেন তারা এমন ওয়েবসাইটের দেখা পেয়েছেন যেগুলো লোড হতে অনেক বেশি সময় নেয়, আর ৪০% ইউজার ৩ সেকেন্ড বা এর কম সময়ের মধ্যে সাইট লোড না হলে সেটি থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

কিছু রিসার্চ এমনকি এটাও বলছে,আক্ষরিক অর্থেই চোখের পলকে কোন ওয়েবসাইট লোড না হলে লোকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। আর সেক্ষেত্রে সময়সীমা কেবল ৪০০ মিলিসেকেন্ড।

এছাড়াও ওয়েবসাইটগুলোকে ইন্ডেক্সিং ও র‍্যাংকিং করার সময় গুগল সাইটগুলোর লোডিং স্পিডও বিবেচনায় রাখে ।

তাই আপনার সাইটটি যদি দ্রুত না হয়, আপনার অডিয়েন্স ও গুগল উভয়েই একে ছোট করে দেখবে। এর ফলাফল হিসেবে আপনি হারাবেন ভিজিবিলিটি ও ট্র‍্যাফিকিং।

তাহলে আপনার সাইট কতটা দ্রুত ?

এটি লোড হতে ২-৩ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে আপনি মুহূর্তেই ট্র‍্যাফিক হারাচ্ছেন।

আপনার সাইটটি যদি স্লো হয়, তাহলে সেটি কোন বড় ব্যপার না। একে ফাস্ট করার জন্যে আপনাকে এখানে কিছু টিপস দেয়া হলো যাতে করে একজন ভিজিটরও আপনার হাত থেকে ছুটতে না পারে।

 

আপনার সাইটের স্পিড পরীক্ষা করুন

যেকোন পদ্ধতি অনুসরণের আগে আপনার প্রথম কাজ হলো আপনার মোবাইল সাইটের দ্রুততা পরীক্ষা ।

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন এটি ঠিকঠাকভাবেই লোড হচ্ছে, কিন্তু এটি আপনার ভাবনার তুলনায় স্লো হতে পারে।

 

এই পরীক্ষার জন্যে একটি অন্যতম সেরা মোবাইল টেস্ট হলো ‘থিঙ্ক উইথ গুগল’।

সার্চ বারে আপনার ইউআরএলটি লিখুন আর ‘টেস্ট নাও’তে ক্লিক করুন।

আপনার সাইটের মোবাইল ইউআরএল (যেমন m.site.com) থাকলেও রেগুলার ইউআরএলটিই লিখুন।

আমরা Amazon.com কে টেস্ট করব যেহেতু এতে প্রচুর মোবাইল ব্যবহারকারী কেনাকাটা করেন।

 

 

পরীক্ষাটি আপনার সাইটকে নানারকম টেস্টের সাহায্যে আ্যানালাইজ করবে আর দেখাবে আপনার সাইট কতটা কার্যকরী।

 

 

এই প্রক্রিয়াটি দুই থেকে তিন মিনিট নেবে।

প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আপনি তিনটি স্কোর দেখতে পাবেন:

 

 

প্রথম দুইটি স্কোর অর্থাৎ মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেস ও পার্ফর্মেন্স মেট্রিক এর ওপর আপনার বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেসের স্কোর দ্বারা বোঝা যায় আপনার সাইটটি মোবাইল দিয়ে ব্যবহার করতে কতটা সহজ।  এটি একটি সার্বিক পার্ফর্মেন্স মেট্রিক।

আ্যামাজনের মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেসের স্কোরটি দারুণ:

 

 

কিন্তু মজার ব্যপার হলো, এটির মোবাইল স্পিড স্কোরটি তুলনামূলকভাবে খারাপ। টেস্টটি এর মোবাইল স্পিডকে ‘পুওর’ বলে আখ্যা দেয়।

সাইটটি যেকোন ইস্যু সমাধানের একটি ফ্রি রিপোর্ট অফার করে। আমি পরামর্শ দেব এই টিপসগুলোকে লক্ষ্য করতে যা বিশেষভাবে আপনার সাইটের জন্যেই প্রযোজ্য।

 

 

আমি মোবাইল সাইটের স্লো হওয়ার সবচেয়ে কমন কারণটি ও আপনার সাইটকে উন্নত করার উপায় জানাব।

 

আপনার মোবাইল সাইটের ডিজাইনক  ত্রূটিমুক্ত করুন

আপনি যখন আপনার সাইটটিকে ডিজাইন করেছিলেন, তখন কি মোবাইল ডিভাইসের কথা আপনার মাথায় ছিলো?

আমি অনুমান করছি, ছিল না।  (যদি থেকে থাকে তাহলে নিজেকে বাহবা দিন।)

যদি না করে থাকেন, এটা কোন বড় ব্যপার না। কিন্তু ‘মোবাইল ফার্স্ট’ ধারণাটি মাথায় রেখে আপনার সাইটকে আবার ডিজাইন করা এখন সময়ের দাবী।

গত কয়েক বছরে মোবাইল সাইটগুলো বেশ পাল্টেছে।

আগে যেকোন সাইটের ডেস্কটপ ও মোবাইল দুটি ভার্সন থাকতো।

“m.” সাবডোমেইন দ্বারা সহজে মোবাইল সাইটকে আলাদা করা যায়।

 

 

এই পরিস্থিতিতে মোবাইল আর ডেস্কটপ সাইট দুইটি একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

একে ড্রাইভ-থ্রূ সহ একটি ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট হিসেবে চিন্তা করুন। ডেস্কটপ সাইটটি হলো মূল রেস্টুরেন্ট আর মোবাইল সাইটটি ড্রাইভ-থ্রূ।

বেশিরভাগ সময়েই এর মানে বোঝায় মোবাইল সাইটগুলোতে ডেস্কটপ সাইটের কেবল একটা ক্ষুদ্র অংশের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় ঠিক যেভাবে ড্রাইভ-থ্রূতে রেস্টুরেন্টের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না।

কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই চান আপনার ইউজারদের সবচেয়ে ভালো মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত কর‍তে ।

এজন্যে আপনার সাইটের দরকার একটি রেস্পন্সিভ ডিজাইন।

রেস্পন্সিভ ডিজাইনে আপনার সাইটে কোন ডিভাইস থেকে এক্সেস করা হচ্ছে সেই হিসবে তা ডায়নামিকালি পালটে যায়।

আর তাই আপনার মোবাইল ও ডেস্কটপ ইউজারদের ডিভাইসে আলাদাভাবে সাইটটি দেখালেও তারা আসলে দেখবে একই জিনিস।

এটাকে গুগলও প্রেফার করে। তারা খুব সহজভাবে বলে, “রেস্পন্সিভ ডিজাইন গুগলের রেকমেন্ডেড ডিজাইন প্যাটার্ন।”

কিন্তু আপনি হয়তো ভাবছেন “সবই তো বুঝলাম কিন্তু এর সাথে স্পিডের সম্পর্ক কী?”

সাধারণত রেস্পন্সিভ ডিজাইন মোবাইল-অনলি সাইটগুলো থেকে দ্রুত লোড হয়। আপনি তাই এখানে একটি বিশাল এসইও সুবিধা পাচ্ছেন।

তাছাড়া আপনি যদি রেস্পন্সিভ ডিজাইন ব্যবহার করেন, তাহলে সোশ্যাল শেয়ার হিসাবে আপনার সাইটটি বেশি মনোযোগ কাড়বে যা আপনার এসইও বুস্ট করার জন্য কার্যকরী।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়ের জন্যেই রেস্পন্সিভ সাইট ডিজাইন সুবিধাজনক। আপনার যদি এখনও রেস্পন্সিভ সাইট না থেকে থাকে, তাহলে আমি পরামর্শ দেব এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব নজর দিতে।

রেস্পন্সিভ ডিজাইন আপনার সাইট ত্রুটিমুক্ত করার জন্যে কেবল একটি ধাপ।

আরো কিছু ডিজাইনের ক্ষেত্রে আছে যা আপনার বিবেচনায় আনতে হবে।

 

আপনার সাইটকে হালকা রাখুন

দৃষ্টিনন্দন একটি দারুণ ডিজাইন আপনার নজর কেড়ে নিতেই পারে। কিন্তু এই ফ্যান্সি ডিজাইনগুলো অনেকসময় আপনাকে এতটাই মুগ্ধ করে রাখে যে আপনি এই ডিজাইনগুলো একের পর এক বাড়াতেই থাকেন। আর এর ফলশ্রুতিতে আপনার সাইট অনেক বেশি স্লো হয়ে যায়।

‘কোড ব্লোট’ বলে এক ধরনের অবস্থাকে ডেভেলপাররা নির্দেশ করেন যখন আপনার সাইট অতিরিক্ত কোড দ্বারা বোঝাই হয়ে পড়ে।

 

সাইটের ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের দিকে বেশি নজর দিতে গেলে বেশিরভাগ সময় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

না, আমি এটা বলছি না যে সাইটের আউটলুক জরুরি না।

কিন্তু এর জন্যে পার্ফর্মেন্স প্রভাবিত হলে চলবে না

সৌভাগ্যবশত এই ঝামেলায় না  পড়লেও চলবে। আপনি আম ছালা দুইটিই রাখতে পারবেন।

সাইট ডিজাইন করার সময় মাথায় রাখার জন্যে কিছু টিপস এখানে দেয়া হলো।

 

সাইটকে সাধারণ রাখুন

সিম্পলিসিটি নিয়ে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি বলেছেন,

সিম্পলিসিটিই হলো আসল সফিস্টিকেশন

৫০০ বছর পরেও তাঁর এই কথাটি ধ্রুব সত্য।

আপনার চারপাশে তাকান। অতীতের জটিল ডিজাইনের বদলে অগ্রাধিকার পাচ্ছে ভবিষ্যৎের মিনিমালিস্ট ডিজাইন।

এই কথাটি ওয়েবসাইটের জন্যেও, বিশেষ করে মোবাইল সাইটের জন্যে প্রযোজ্য।

মোবাইল স্ক্রিনে সহজেই সাইটগুলো হিজিবিজি হয়ে যেতে পারে, তাই এখানে সবকিছু খোলামেলা ও আলাদা আলাদা করে রাখা জরুরি।

 

 

থাম্বের নিয়মানুযায়ী প্রতি পেজে কেবল একটি কল-টু-আ্যাকশন থাকতে হবে। এটি শুধু কোডের পরিমাণই কমাবে না, বরং আপনার ইউজারদের জন্যেও ভালো অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।

এছাড়াও রাগ ডক্টরের এই তুলনামূলক সহজ ডিজাইনটিও আপনি বিবেচনায় রাখতে পারেন:

 

এটি ফ্ল্যাশি না, কিন্তু এর খোলামেলা ডিজাইন দিয়ে আপনার নজর কেড়ে নিতে সক্ষম।

আপনার সাইটকে অনন্য করে তুলতে আপনার খুব বেশি উজ্জ্বল রঙ ও ছবির দরকার পড়বেনা। মোবাইল ডিজাইনের জন্যে কমই শ্রেয়।

স্টেপ কমানআপনার ইউজারদের যত কম কাজ করতে হবে, ততো ভালো।

একটু চিন্তা করুন। একটি জিনিস কেনার আগে কেন সেখানে ৮টি স্টেপ থাবে যেখানে ৩টিতেই কাজ হয়ে যায়?

এটি আপনার ক্রয়পদ্ধতিকে শুধু ছোটই করবে না, গ্রাহক অভিজ্ঞতাকেও সহজ করে তুলবে।

অনেক কমার্স সাইট তাদের বিক্রি বাড়ানোর জন্যে এই কৌশল অনুসরণ করে।

Boden এর মোবাইল সাইটে কোন পণ্য ক্রয় খুবই সোজা। আপনার কার্টে পণ্য যোগ করুন, চেকআউটে ক্লিক করুন, পরিশোধ করুন।

 

এটি সোজাসুজি ও টু দ্যা পয়েন্ট, কোন অপ্রয়োজনীয় স্টেপের বালাই নেই।

স্বাভাবিকভাবেই এটা কোড ব্লোট থেকে ডিজাইনকে মুক্ত রাখে। আপনার সাইটে হাজারখানেক পেজ না থাকলে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ারও সম্ভাবনা কম।

অদরকারি স্টেপ ছেঁটে ফেলা আপনার ভিজিটরদের জন্যে অন্যতম সেরা আশীর্বাদ।  অতিরিক্ত কিছু করতে না হলে আপনার ইউজাররা সাইটে থাকতে বেশি আগ্রহী হবে।

আপনার ইউজারদের জন্যে ক্লিকসংখ্যা কমান, বিনিময়ে দারুণ পুরষ্কার আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে।

যত পারবেন কম ছবি ব্যবহার করুন এ বিষয়টা শুরু করার আগে আমি বলতে চাই ভালো ছবি অবশ্যই সাইটের জন্যে জরুরি,এর এসইও বেনিফিটও আছে |

যাই হোক, কোন ভালো জিনিসের আপনি অনেক বেশি চাইতে পারেন।

সেক্ষেত্রে আপনি ইচ্ছামতো ছবি ব্যবহার করতে পারেন এবং এই প্রক্রিয়ায় আপনার সাইটকে স্লো করে ফেলতে পারেন।

আপনার হয়তো এটাকে কোন বড় ব্যপার মনে হবে না, কিন্তু মোটামুটিভাবে কোন পেজের ‘ওজন’ এর ৬৩% ছবিই নিয়ে নেয়।

 

২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত গড়পড়তা পেজের আকার তিনগুণ হয়ে গেছে।

 

 

তার মানে আপনার সাইটে ছবির বেশ চাহিদা রয়েছে। এগুলো অনেকটা জায়গা নিয়ে ফেলে বলে খুব বেশি ব্যাবহার করাটা সুবিধাজনক না।

এর জন্যে একটা সমাধান হলো ছবি কমিয়ে দেয়া।

আরেকটি (খুব সম্ভবত আরো বাস্তবসম্মত) সমাধান হলো ছবিগুলো কম্প্রেস করা ও ফাইল সাইজ কমানো।

কম্প্রেশন বলতে মূলত বোঝায় কোয়ালিটি খারাপ না করে ছবি ছোট করে ফেলা। এর ফলে সাইটে ছবি আপলোড করার সময়ও কমে যায়।

উপরন্তু সার্চ ইঞ্জিনের আপনার সাইটকে ক্রল ও ইন্ডেক্স করার সময়ও এর ফলে কমে যায়।

Compressor.io এর মতো সাইটগুলো এই কাজ এক চুটকিতেই করে ফেলতে পারে।

 

 

সত্যি বলতে আপনার সাইট খুব দ্রুত হলেও এই অভ্যাসটি আয়ত্ত করা উচিত।

 

কাস্টম ফন্ট ব্যবহার করবেন না অন্য সবার মতো আমিও কাস্টন ফন্ট পছন্দ করি কিন্তু এর মধ্যে কিছু আছে যেগুলো ব্যবহার করাটা বেশ ঝামেলার।

কিছু ফন্ট প্রচুর সিএসএস ব্যবহার করে, আবার অনেকগুলো জাভাস্ক্রিপ্টের জন্যে কঠিন। উভয় ক্ষেত্রেই আপনার কোডের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যাবে।

আপনি যদি এই বিষয়ে সত্যিই বেশ ভালোভাবে পড়তে চান,  তাহলে গুগলের ওয়েব ফান্ডামেন্টালস সাইটের এই পোস্টটি দেখুন।

আর যদি সংক্ষেপে জানতে চান, তাহলে তা হলো, কাস্টম ফন্ট একমাত্র খুব বেশি জরুরি ক্ষেত্রেই ব্যবহার করুন

হেডিংয়ের জন্যে কাস্টম ফন্টের ব্যবহার ঠিক আছে, কিন্তু আপনার সাইটের প্রতিটি ফন্ট কাস্টম করবেন না।

কোডকে মিনিফাই করুনঃ

আপনার কোডকে স্ট্রিমলাইন করার জন্যে এটি খুব কার্যকরী একটি কৌশল।

কোডকে “মিনিফাই” করার মানেটা সংক্ষেপে এখানে দেয়া হলো:

 

 

স্বাভাবিকভাবেই, কোড কমিয়ে ফেলার পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয় সবকিছুই কোড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।  আপনার কোডের যতটুকু ব্যবহার করা হবে, ঠিক ততটুকুই যেন কোডে থাকে তা নিশ্চিত করা হয়।

আপনার সাইটকে লাইটওয়েট রাখতে এটা অত্যন্ত কার্যকরী।

আপনি ম্যানুয়ালি কোড মিনিফাই করতে পারেন (এখানে নির্দেশনা দেয়া হলো), কিন্তু আপনার যদি কোন কোডিংয়ের অভিজ্ঞতা না থেকে থাকে তাহলে এটা আপনার জন্যে ভীতিজনক হতে পারে।

স্বস্তির ব্যপার হলো, এই কাজ অত্যন্ত অল্প সময়ে করার জন্যে অনেকগুলো ফ্রি টুল আছে।

Minify.com এ অনেকগুলো মিনিফায়িং টুল আছে যেগুলো আপনার এইচিটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট ইত্যাদিকে সিম্পলিফাই করে।

 

যদি আপনার সাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসে চলে, তাহলে  বেটার ওয়ার্ডপ্রেস মিনিফাইয়ের মতো আরো অপশন আছে।

 

 

এই টুলগুলো ব্যবহার করে আপনি কয়েকটি ক্লিকের সাহায্যে আপনার কোডকে মিনিফাই করতে পারবেন যা একটি দ্রুততর সাইট পাওয়ার পথে সুগম করবে।

অবশ্যই আপনি এই সবকিছুই আপনার কোডকে অপ্রয়োজনীয় কোড থেকে মুক্ত করার জন্য করবেন, কিন্তু ভুল তো হতেই পারে। এই টুলগুলো আপনার ভুল শুধরাতে ও আপনার সাইটকে উন্নত করতে সাহায্য করবে।

 

রিডাইরেক্টস কমিয়ে ফেলুন

ব্যক্তিগতভাবে আমি রিডাইরেক্ট খুব পছন্দ করি।  এসইও ও ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের জন্যে এগুলো খুবই কাজে আসে।

কিন্তু কোডের মতোই রিডাইরেক্টের ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত। আপনি আপনার পুরো সাইট জুড়ে রিডাইরেক্ট ব্যবহার করে সাইটের ভালো পারফরমেন্স আশা করতে পারেন না।

কারণ রিডাইরেক্ট সহজেই আপনার সাইটকে স্লো করে ফেলে

আপনি যখন একটি সাধারণ মোবাইল লিংকে ক্লিক করেন, সার্ভার ঐ লিংকে থাকা ডকুমেন্টটি দেয়।

কিন্তু রিডাইরেক্ট মানে হলো সেই লিংকে কোন ডকুমেন্ট নেই। আর এজন্যে সার্ভারকে ডকুমেন্ট যে পেজে আছে সেখানে গিয়ে উদ্ধার করতে হবে।

 

কোন প্রক্রিয়ার সব ফাইলে যদি এই প্রক্রিয়ায় হয় তাহলে প্রতিটি ছবি,সিএসএস ও জাভাস্ক্রিপ্ট ফাইল রিডাইরেক্ট এর মধ্যে দিয়ে যাবে।

ফলস্বরূপ সঠিক পেজে যাওয়ার আগে অনেকটা সময় লাগাবে। আর এই সময়ে আপনার ইউজাররাও হয়ে যাবে উধাও।

পেজে কতটি রিডাইরেক্ট আছে জানার জন্যে  আমি Varvyর রিডাইরেক্ট ম্যাপার ব্যবহার করতে বলবো:

 

 

তারপর আপনি আপনার রিডাইরেক্টগুলোর রুট ট্রেস করতে ও অপ্রয়োজনীয় হলে পালটে দিতে পারেন।

এটা নিয়ে বেশিরভাগ ওয়েবমাস্টার ভাবেন না, কিন্তু আসলেই এটি বেশ বড় পার্থক্য তৈরি করে।

 

আপনার সাইটের যত কম কাজ করতে হবে সেটি তত তাড়াতাড়ি কাজ করবে।  রিডাইরেক্টকে যখন বেশি সময় ও জায়গা দিতে হচ্ছে, এর ওপর নির্ভরশীল হবেন না ও অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না।

ফোল্ডের ওপরের অংশ প্রথমে লোড করুনঃ

স্বভাবিকভাবেই ইউজাররা ফোল্ডের ওপরের কন্টেন্ট অন্য সবার আগে দেখেন।

তাহলে পুরো পেজ একসাথে লোড করবেন কেন?

কেন প্রথমে ফোল্ডের উপরিভাগ ও প্রয়োজনে বাকিটা লোড করবেন না?

একে ‘লেজি লোডিং’ বলা হয় যা সাইট স্পিডের জন্য চমৎকার কাজ করে।

বাজি ধরে বলতে পারি, আপনি বাছাই করতে পারলে ৩০ পাউন্ডের বদলে ৩ পাউন্ড বহন করতেন, তাই না?

লেজি লোডিং ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ঠিক একই ব্যপার।

লেজি লোডিংয়ের দ্বারা আপনি আপনার সাইটকে বলছেন প্রয়োজনের তুলনায় বেশী কাজ না করতে।

আপনি কোড করতে স্বাচ্ছন্দ্য হলে এই jQuery প্লাগইনটি ব্যবহার করতে পারেন:

ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্যে BJ Lazy Load এর মতো প্লাগইন আপনাকে সাহায্য করবে।

 

কোনটিই যদি আপনার কাজে না আসে, আপনার হয়তো এ কাজে একজন ডেভেলপারের সাহায্য নিতে হতে পারে ।

 

এটি আরো বেশি আ্যাডভান্সড কৌশল হলেও পরে আরো কাজ করার থেকে আপনার সাইটকে এটি রক্ষা করতে পারে।

 

উপসংহার

 

গতি শুধুমাত্র রেস কারের জন্যে নয়। একটি দারুণ মোবাইল সাইটের জন্যে এটি একটি ফান্ডামেন্টাল উপকরণ।

আমি শতাধিক ওয়েবসাইট দেখেশুনে আমার ক্লায়েন্টদের মোবাইল পার্ফর্মেন্সের দিকেই মন দিতে বলি।

আমি তাদের একটি মোবাইল-ফ্রেন্ডলি সাইট তৈরি করতে সাহায্য করার পর তাদের ট্রাফিক হয় আকাশচুম্বী। আর স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে প্রচুর নতুন ক্রেতা ওর কনভার্সেশনের সৃষ্টি হয়।

এটা কোন অবাক করা কথা না। আমরা সবাই সকলকে তাদের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকতে ও তাদের ট্যাবলেটে আঙ্গুল চালাতে দেখি।

মোবাইল এখানে থাকতেই এসেছে।

ডেস্কটপ পার্ফর্মেন্স এখনও ম্যাটার করলেও মোবাইলই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।

হয়তো এমন একটা দিন আসবে ডেস্কটপকে যখন রোটারি ফোন ও ফ্যাক্স মেশিনের চোখে দেখা হবে আর ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম হয়ে উঠবে মোবাইল।

এটা কি কল্পনা করা খুবই কঠিন?

আর এটা যদি সত্যিই ভবিষ্যৎ হয়ে থাকে তাহলে এর জন্যে আজ থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।

তাহলে আপনি এই মুহূর্তে কী করতে পারেন?

 

সংক্ষেপে, যদ্দূর সম্ভব আপনার সাইটকে দ্রুত করুন আর সাইটের ওজনের পরিমাণ কমান।

থিঙ্ক উইথ গুগল আর্টিকেলটি দারূণভাবে বলেছে, “দ্রুততা যদি উত্তেজনা বাড়ায়,  ধীরতা তা হত্যা করে।”

মোবাইল ইউজাররা স্ন্যাপি সাইট পছন্দ করে আর স্পিডের পথে যেকোন বাঁধা অপছন্দ করে।

আপনার মোবাইল সাইটের স্পিড উন্নত করা এমন একটি সহজ ব্যপার যা আপনার ইউজার ও সার্চ ইঞ্জিন দুটোর জন্যেই আপনার সাইটকে সুবিধাজনক করে।

 

আপনি যদি এখনও মোবাইলের দিকে ফোকাস না দিয়ে থাকেন, আমি আজই জোর দিয়ে তা করতে বলবো।

 

আপনার মোবাইল সাইটকে দ্রুত করার জন্যে এর মধ্যে কোন উপায়টি আপনি কাজে লাগাবেন?

 

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.