কিভাবে ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে ১০০০ ভিজিটর পাওয়া যাবে

আমি ঠিক নিশ্চিত না, মার্কেটিং এর জন্য ইউটিউবের মত প্ল্যাটফরমকে কেন উপেক্ষা করা হয়। কেবলমাত্র ৯% ছোট খাট ব্যাবসার কাজে এটিকে ব্যবহার করা হয় অথচ বর্তমান সময়ের শক্তিশালী সামাজিক মাধ্যমগুলির মধ্যে ইউটিউব অন্যতম। প্রতিদিন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভিউ হয় এই সাইটে। তারপরেও ইউটিউবকে উপেক্ষার কারন সম্পর্কে বলতে গেলে আমি বলবো মানুষ ইউটিউব মার্কেটিং এর ব্যাপারে আতঙ্কিত।

ইউটিউবের কথা মাথায় আসলেই মনে হয় এর পিছনে অনেক সময় এবং শ্রম দিতে হবে চ্যানেলটাকে জনপ্রিয় করতে হলে আর জনপ্রিয় না হলে কেউ এটা দেখবে না বা ভিউ আসবে না। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, আপনি কোন জনপ্রিয় ইউটিউবার না হয়েও আপনার ভিডিওতে দশ হাজারের উপর ভিউ আনতে পারেন খুব সহজেই এবং এতে খুব বেশী সময় বা শ্রমের প্রয়োজন পড়ে না। আপনার ভিডিওতে ভিউইয়ের জন্য লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারের দরকার নেই তবে একবার যখন ভিউ পাওয়া শুরু করবেন তখন হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।কিছু বাড়তি পদক্ষেপ এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই এই ভিউ গুলিকে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট এ কনভার্ট করতে পারেন। এটা আপনার জন্য আরও হাজারটা সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে।

আপনি মুলত আপনার ইউটিউব পেইজটাকে একটা সেলস ফানেল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন আর ফেইসবুকে এড ক্যাম্পেইন চালানোটাও খুব একটা কঠিন না (আসলে অনেক ক্ষেত্রে এটা আরো সহজ)। সুতরাং আপনি যদি ইউটিউব নিয়ে হতাশ হোন, হতাশা ঝেড়ে ফেলুন এবং দেখুন এটি আপনার জন্য কত বড় সম্ভাবনার সুযোগ করে দেয়।

প্রথমত, ভিউ বাড়াতে হবে!

ইউটিউব থেকে আপনার সাইটে ট্র্যাফিক নিতে হলে আগে আপনার ইউটিউবে ট্র্যাফিক পেতে হবে। আর এটা মুলত নির্ভর করবে আপনার অসাধারন ভিডিও কনটেন্ট, সার্চ অপটিমাইযেশন আর প্রচুর শেয়ার এর উপর।

প্রথমত এবং প্রধানত, আপনাকে মুল্যবান কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। এটা পুরো প্রসেসের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপুর্ন।

যাদের উদ্দেশ্যে ভিডিও বানাচ্ছেন তাদের সম্বন্ধে ভালো করে জানুন এবং চিনুন, তাদের পছন্দ/অপছন্দ সম্পর্কে সম্যক ধারনা নিন তারপর সেই ভিডিও তৈরি করুন যেটা আপনার এই টারগেট অডিয়েন্স দেখতে ভালবাসবে।

দ্বিতীয়ত, ভিডিও অপ্টিমাইজ করুন।

আপনার ভিডিওটি যেন মানুষেরা সহজেই খুজে পায় সেই কৌশলই হল অপ্টিমাইযেশন।
আপনার যদি এস ই ও সম্পর্কে ধারনা থাকে তবে অপ্টিমাইযেশন আপনার জন্য কোন ব্যাপারই না।
ভিডিওর বর্ননা, টাইটেল, ট্যাগ, থাম্বনেইল এর উপর ফোকাস করুন।
আপনার ভিউয়ার এর কোন একটা সমস্যার সমাধানের উপর ফোকাস করেই আপনার টাইটেলটা হওয়া উচিত।

ট্যাগ এর ক্ষেত্রে ১০-১২ টা কাছাকাছি ভালো ট্যাগ হলেই যথেষ্ট। আর পাশাপাশি ভিডিও টপিকের জন্য যুতসই কিওয়ার্ড বেছে নিবেন।

বর্ননা লেখার ব্যাপারটায় কিছুটা কৌশলী হতে হবে কারন এটার জন্য আসলে তেমন কোন ফরমুলা নেই।
তবে, বর্ননায় ম্যাচিং কিওয়ার্ড দিয়ে ভরিয়ে ফেলা যাবে না আবার এটা খুব বেশি বড় করাও ঠিক হবে না।
ফাইনালি, একটা সুন্দর এবং আকর্ষনীয় থাম্বনেইল তৈরি করতে হবে। শুরুতে নিজে তৈরি করতে না পারলেও বিভিন্ন ইমেজ অথবা টেক্সট দিয়ে এটা করে নিতে পারেন।

মনে রাখবেন, অনেক ভিউয়ার শুধুমাত্র থাম্বনেইল দেখেই সিদ্ধান্ত নিবে যে তারা আপনার ভিডিওটি দেখবে কিনা, সুতরাং এটার ব্যাপারে যথেষ্ট যত্নবান হতে হবে।
এবার আসা যাক কিছু পদ্ধতির ব্যাপারে যেটার মাধ্যমে আপনি আপনার ভিউয়ারকে ইউটিউব থেকে আপনার ওয়েব সাইটে নিয়ে যাবেন।
মানুষকে বলুন আপনার সাইটে ভিজিট করতে
এটা হয়ত খুবই সিম্পল শোনায় তবে এটাই এই আর্টিকেলের সবচেয়ে সহজ কৌশল। আর সিম্পল বলেই অনেক মানুষই এই কৌশলটা ব্যবহার করে না।
আমরা অনেক সময় চিন্তা করি যে শজ এবং সিম্পল কৌশলগুলি ঠিকমত কাজ করে না।
বেইন অ্যান্ড কোম্পানির একটি গবেষনায় দেখা যায় ৮৭% কাস্টমার এই সিম্পল কৌশলে সাড়া দিয়েছেন অথচ মাত্র ৭% সেলস প্রতিনিধিরা এই কৌশলটি ফলো করেছেন।
ইউটিউব ও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি এইক্ষেত্রে প্রত্যেক ভিডিওর জন্য ‘বুক এন্ড’ পদ্ধতি অনুসরন করতে বলবো।
একদম শুরুতে আপনি বলবেন, হাই, আমি (নিজের নাম) বলছি (আপনার ওয়েবসাইট) থেকে
এটা শুরুতেই আপনার ভিউয়ারকে জানিয়ে দিবে যে আপনার ওয়েবসাইট কোনটা এবং কোথায় গেলে তারা আরও ভিডিও এবং তথ্য পেতে পারে।
যেহেতু আপনি একটি ফ্রি এবং মুল্যবান ভিডিও দিয়েছে সুতরাং ভিডিওর শেষাংশে আপনি আরও একবার সরাসরি আপনার অয়েবসাইটে আমন্ত্রন জানাবেন কিছুটা এই ভাবে, ধন্যবাদ ভিডিওটি উপভোগ করার জন্য। আপনি যদি এই টপিকে (আপনার নির্ধারিত টপিক) আরও জানতে চান তবে ভিজিট করুন (আপনার ওয়েবসাইট)
এটা আসলে খুবই কার্যকারী কৌশল। আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আপনার ভিউয়ারকে হয়ত পুরো ভিডিওটা দেখাও লাগবে না। আপনি স্ক্রীনের যেকোন জায়গায় আপনার ওয়েবসাইট লিঙ্কটি বসিয়ে দিতে পারেন।

আপনি আরও একটু কষ্ট করে ভিডিওর শেষাংশে একটা ‘এনোটেশান’ দিয়ে দিতে পারেন। ভিউয়াররা চাইলে আপনার এনোটেশানে ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটে যেতে পারে।

এনোটেশান এড করার জন্য প্রথমে আপনার সাইটটি ভেরিফাই করাতে হবে।
আপনার একাঊন্ট আইকনে ক্লিক করে ‘ক্রিয়েটর স্টূডিও>চ্যানেল>এডভান্সড এ যান। সেখানে “এসোসিয়েটেড ওয়েবসাইট” নামে একটা সেকশন পাবেন, আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্কটি সেখানে এড করুন ।

সেখান থেকে আপনাকে নিয়ে যাবে ‘গুগল সার্চ কনসোল’ এবং সেখানে আপনার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
আপনার সাইটটি ভেরিফাই হয়ে গেলে ইউটিউবে গিয়ে আপনার একাউন্ট আইকন থেকে ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ থেকে ‘ভিডিও ম্যানেজার’ এ যান।
এডিট করতে চান এমন একটি ভিডিও সিলেক্ট করুন, এডিট বাটনের পাশে তীর চিহ্নে ক্লিক করুন এবং কার্ডs সিলেক্ট করুন।

‘এড কার্ড>লিঙ্ক’ এ গিয়ে আপনি আপনার লিঙ্কটি এড করতে পারেন। এখান থেকে আপনি কার্ড এডিত করতে পারেন। চাইলে টেক্সট এডিট করতে পারেন এমনকি ইমেজও আপলোড করতে পারেন। আমি আপনাকে দুটোই করতে বলবো এতে আপনি সর্বোচ্চ ভিজিবিলিটি পাবেন।
ফাইনালি, এটা কিছুটা এরকম দেখাবেঃ

টিপসঃ অনেক ইউটিউবার ভিডিওতে একটা তীর চিহ্ন এড করে কার্ডের দিকে দেখিয়ে দেন ঠিক কোথায় ক্লিক করতে হবে।
আবারো বলছি, এই কৌশলটি কোনভাবেই উপেক্ষা করে যাবেন না। কারন এটার কার্যকারিতা আপনাকে সত্যিই অবাক করে দেবে।

ডেস্ক্রিপশন বক্স এডিট করুনঃ

ডেস্ক্রিপশনের মাধ্যমে সাধারনত একজন ভিউয়ার আপনার ভিডিও এবং আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু ইউটিউব পুরো ডেস্ক্রিপশন না দেখিয়ে ডেস্ক্রিপশনের কিছু লাইন পরেই ‘শো মোর’ অপশনটি দেখায়।

সুতরাং আপনার ডেস্ক্রিপশন বড় হলে বেস্ট হচ্ছে ছোট ছোট অংশে এটাকে ভেঙ্গে নেওয়া।
আপনি শুরুর লাইনগুলি এমনভাবে লিখুন যেন ভিউয়ারকে ‘শো মোর’ অপশনটিতে ক্লিক করতে না হয়।

এক্ষত্রে মনে যা আসে তাই লিখবেন না, বরং এমনকিছু লিখুন যেটা আপনার দর্শককে আপনার ভিডিওর ব্যাপারে শুরু থেকেই আগ্রহী করে তোলে।

আপনি আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্কটি প্রথম ২-৩ লাইনের মধ্যে দিয়ে দেখতে পারেন। এটা আপনার জন্য কার্যকারী হতেও পারে নাও পারে। মুলত আপনাকে বুঝতে হবে আপনার দর্শক কিভাবে আপনার ভিডিওটি গ্রহন করছে।
কতগুলো ক্লিক পাচ্ছেন এটা ট্র্যাক করার জন্য আপনার লিঙ্কে একটা ‘ইউ টি এম প্যারামিটার’ সেটাপ করে নিতে পারেন।
অন্যথায়, এনোটেশানে লিঙ্ক ব্যবহার না করে ডেস্ক্রিপশন বক্সএ লিঙ্ক ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
আপনি যদি ডেস্ক্রিপশন বক্সএ লিঙ্ক ব্যবহার করেন তাহলে খেয়াল রাখবেন লিঙ্কের শুরুতে যেন “http:// অথবা https://” থাকে নতুবা আপনার ভিউয়ার সরাসরি লিঙ্কে ক্লিক করতে পারবেন না, তাদেরকে লিঙ্ক কপি করতে হবে।

খেয়াল রাখবেন, পুরো ডেস্ক্রিপশনটাই যেন অত্যন্ত সুন্দর এবং সুচিন্তিত হয়। আপনার ডেস্ক্রিপশনটা কিওয়ার্ড অপ্টিমাইয করতে ভুলবেন না।
আপনি যদি এটা করতে পারেন, আপনার ভিডিও সাধারনের চাইত অনেক বেশি দর্শক আনতে সক্ষম হবে। অনেক বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার না করে বরং সেই কিওয়ার্ডগুলি ব্যবহার করুন যেগুলি ভিডিওর সাথে অনেক বেশি ন্যচারাল মনে হয়।
আপনি latent semantic indexing (LSI) এর কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন।
ইউটিউবের মতে আপনার মুল কিওয়ার্ডগুলি আপনার ডেস্ক্রিপশনের শুরুতে এবং টাইটেলে থাকাটাও জরুরী।

সুতরাং আপনি যদি এই পদক্ষেপগুলি অনুশরন করতে পারেন ডেস্ক্রিপশন বক্স থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ করতে পারবেন। কারন এটা আপনার রেফার্যাল ট্রাফিক এর জন্য খুবই কার্যকারি আর এটা হতে পারে আপনার ওয়েবসাইটের মুল ট্রাফিকের প্রধান উৎস।

দর্শকদের সাবস্ক্রাইবের ব্যাপারে উৎসাহ দিনঃ

এই কৌশলটা সময় সাপেক্ষ হলেও কম কার্যকারী না। এতক্ষন যে কৌশলগুলি বললাম তার মুল উদ্দেশ্য ছিল কিভাবে ভিউয়ারকে তাৎক্ষনিকভাবে আপনার সাইটে নিয়ে যাওয়া যায়।
এখনকার কৌশলটি হচ্ছে কিভাবে আপনি দীর্ঘস্থায়ি ট্রাফিক পেতে পারেন।
আইডিয়াটা হচ্ছে আপনি মানুষকে আপনার চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে বলুন।
সাবস্ক্রাইব করাটা আসলে কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার, শুধু একটা বড় লাল বাটনে ক্লিক করতে হবে।

আপনি যদি অসাধারন কন্টেন্ট দিয়ে আপনার দর্শককে আকৃষ্ট করতে পারেন, বলা মাত্রই আপনার দর্শক সাবস্ক্রাইব করবে।
আর এর মানে, দর্শকরা আপনার আরও ভিডিও দেখতে আগ্রহী এবং তারা দেখবে আর এখানেই ইউটিউবের আসল ম্যাজিক।
যখনই আপনার ভিডিওগুলি দর্শকদের সাবস্ক্রিপশন ফিডে যাবে, তারা দেখবে আর আপনি আপনার পুরোনো ভিউয়ারের কাছ থেকে নতুন ভিউ পাবেন।
এই পুরোনো দর্শকরা ধীরে ধীরে আপনার ফ্যানে পরিনত হবে এবং আজ অথবা কাল তারা অবশ্যই আপনার সাইটে যাবে।
আপনি যত ভালো ভিডিও তৈরি করতে পারবেন, আপনার সাবস্ক্রাইবাররা তত আপনার ভিডিওর ব্যাপারে এবং আপনার অফারের ব্যাপারে আগ্রহী হবে।

আপনার চ্যানেলের এবাউট পেজ অপ্টিমাইজ করুনঃ

এতক্ষন পর্যন্ত আমি কথা বলেছি স্বতন্ত্র ভিডিও অপ্টিমাইযেশন নিয়ে এবং এতে আপনার ইউজার আপনার চ্যানেল হয়ত পাবেনা তবে অবশ্যই ভিডিওটি খুজে পাবে। কিন্তু আপনার চ্যানেলটিও গুরুত্বপুর্ন।
কেউ যখন আপনার কাজের ব্যাপারে আগ্রহি হবে তখন সে অবশ্যই আপনার চ্যানেলের এবাউট পেজটা ঘুরে দেখবে।
এখানে প্যাট ফ্লাইনের একটা এবাঊট পেজ দেখতে পারেনঃ

আপনি যদি আপনার এবাউট পেজটি আপনার এবং ব্যাবসার প্রাসংগিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে আপডেট করে রাখেন তাহলে এই এবাওউট পেজ আপনার অয়েবসাইটে ট্রাফিকের আরো একটি ভালো উৎস হতে পারে।
আপনার এবাউট পেজটির মাধ্যমে আপনি আপনার দর্শকের কাছে নিজেকে চমৎকার ভাবে তুলে ধরতে পারেন এবং এটাও জানাতে পারেন কিভাবে আপনার কাজ/অফারগুলো দর্শকদের উপকারে আসতে পারে।
গ্যারির এবাউট পেজটাও চমৎকারঃ

গ্যারি শুরুতে খুব ভালোভাবে জানিয়ে দিয়েছে সে কে এবং সে কেন একজন বিশেষজ্ঞ।

আপনি তাৎক্ষনিকভাবে জেনে যাচ্ছেন যে সে বিশ্বাসযোগ্য এবং আপনি গুগল সার্চ করেও এটা নিশ্চিত হতে পারেন।
এরপর, গ্যারি তার কিছু প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলেছে।

এখানে সে তার অভিজ্ঞতার ব্যাপারে বলেছে এবং পাঠকদের জানিয়েছে তারা আর কোথা থেকে আরও কন্টেন্ট নিতে পারবে।
তারপর সে সব পাঠকদের জন্য একটা ব্যাক্তিগত বার্তা দিয়েছে।

ফাইনালি, একদম নিচের দিকে গ্যারি তার সাইট এবং সোশাল প্রোফাইল গুলির লিঙ্ক দিয়েছে।

খেয়াল করুন, এখানে গ্যারি তার ওয়েবসাইটের লিঙ্কটি সবার প্রথমে দিয়েছে, কারন আপনি ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইতে নিতে হলে অবশ্যই আপনার সাইটকে আগে রাখতে হবে।
আপনি চাইলে শুধুমাত্র আপনার সাইটের লিঙ্কটিই রাখতে পারেন।

অবাককরা তথ্য হচ্ছে, যে কোন সাইটের এবাওউট পেজটাই সর্বাধিক ভিজিট হয়ে থাকে আর ইঊটিউব এর ব্যাতিক্রম নয়।
সুতরাং ভালো কন্টেন্টের পাশাপাশি ভাল এবাঊট পেজের ব্যাপারেও যত্নশীল হওয়াটা জরুরী।
কমেন্ট সেকশনে যোগাযোগ বৃদ্ধি করুনঃ
আপনি যদি আপনার ভিডিওতে প্রচুর কমেন্ট পেয়ে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই ভালো।
কমেন্ট ভালো অথবা খারাপ আসতে পারে তবে কমেন্ট আসা মানে আপনার কমেন্ট মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। সুতরাং আপনি যখনই কমেন্ট পাবেন বিশেষ করে পজিটিভ কমেন্ট এবং প্রশ্ন আসলে সেটার রিপ্লাই দেয়ার চেষ্টা করুন।

এতে আপনার দর্শক বুঝবে আপনিও একজন মানুষ যে এগুলা দেখছে, শুনছে এবং উত্তর দিচ্ছে। এতে আপনার একটা খ্যাতি তৈরি হবে। এছাড়া প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে আপনি আপনার দর্শককে আপনার সাইটেও নিয়ে যেতে পারেন।

এমনও হতে পারে কেউ কমেন্ট করবে না কিন্তু সে আপনার কমেন্ট গুলি দেখবে এবং লিঙ্কে ক্লিক করে সাইটে যাবে।
সুতরাং, আপনি একটা কমেন্টের লিঙ্কের মাধ্যমে হাজার হাজার ট্রাফিক আপনার সাইটে নিতে পারেন। তবে তাই বলে, সব কমেন্টে লিঙ্ক দিতে যাবেন না, এতে মানুষেরা বিরক্ত হবে। লিঙ্ক সেই কমেন্টেই দিবেন যেখানে আসলেই দরকার।

অন্য ইউটিউবারদের সাথে পার্টনারশিপঃ

পরিশেষে বলতে চাই, একই নিস নিয়ে কাজ করছে এমন ইউটুবারদের সাথে পার্টনারশিপে কাজ করতে পারেন এতে আরো বেশি মানুষ আপনার ব্যাপারে জানবে এবং দুই পক্ষই আরো বেশি ট্রাফিক পাবেন।
আপনি আপনার কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করুন এবং আপনার মত চ্যানেল খুজে বের করুন যার সাবস্ক্রাইবার আপনার চাইতে কিছু বেশি এবং তাদের সাথে পার্টনারশিপ করুন।

সুতরাং আপনার যদি ২০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকে, খুজে দেখুন কার সাবস্ক্রাইবার ৩০০০ বা ৪০০০। এতে করে দুপক্ষই নতুন দর্শকের আদান প্রদানের মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন।

উপসংহারঃ
সামাজিক মাধ্যমগুলির মধ্যে ইউটিউব সবচেয়ে অবহেলিত এবং উপেক্ষিত অথচ এটি অপার সম্ভাবনার ভরপুর।
আমরা ফেসবুক এড অথবা গুগল সার্চ কনসোলের ব্যাপারে জানি।এগুলো নিঃসন্দেহে অনেক বড় টুল কিন্তু একমাত্র নয়।
ইউটিউবও এদের মতই শক্তিশালী। এর আছে কোটি কোটি দর্শক সারা বিশ্ব জুড়ে।শুধু মাত্র একটু সার্চ অপ্টিমাইযেশান আর সোস্যাল শেয়ারিং এর মাধ্যমে এটাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া যায় এক্কেবারে ফ্রিতে।

অবশ্যই একটা ভালো কন্টেন্ট তৈরি করতে হলে শুরুতে কিছুটা শ্রম দিতে হয়। তবে একবার এটাকে প্রতিষ্ঠা করে ফেলতে পারলে আর পিছন ফিরে তাকানোর দরকার পরেনা

মুল্যবান মতামত এবং প্রশ্ন উত্তরের জন্য ভিডিও হচ্ছে একটা অসাধারন মাধ্যম আর ইউটিব হচ্ছে এই ভিডিও শেয়ারের উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
আপনার দর্শক যেটা চায় আপনি যদি সেটা দিতে পারেন দর্শকেরা অবশ্যই আপনার কথা শুনবে এবং আপনি যে সাইটে চান সে সাইটেই তারা যাবে কিন্তু আপনাকে সেটার শুরু করতে হবে। আর এই সামান্য কাজ করেই আপনি আপনার সাইটে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারেন।
শুরু করুন আজ থেকেই, অল্প সংখ্যক ভিউ হলেও শুরু করুন। আর অবশ্যই আপনার ইউটিউব রেফারেল ট্রাফিক কে ট্র্যাক করতে ভুলবেন না। এতে আপনি আপনার পদক্ষেপ গুলি আরো সুন্দরভাবে সাজাতে পারবেন। এর জন্যে আপনার আলাদা কোন যোগ্যতা লাগবেনা, শুধু একটা ভালো ভিডিও তৈরি করতে হবে আর সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে, দর্শক আপনাপনিই এসে যাবে।

1 Comments

  1. Thanks for this useful info

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.