আমাজন এফিলিয়েট সাইটের জন্য ৭ অ্যাকশনেবল এসইও_ যেগুলোকে আমরা দেখেও দেখিনি!

এসইও করার জন্য আমরা কত কিছুই না করি – অন পেজ, অফ পেজ, ব্যাকলিঙ্ক, সোশ্যাল শেয়ার আরো কতকিছু। নিয়মিত এই ব্লগ, সেই ব্লগ পড়ি, নতুন নতুন টিপস এমড ট্রিকস খুজতে থাকি। এসইও ব্যাপারটাই অনেক বেশি ডাইনামিক।

আজকে যেটা কাজ করে, কাল সেটা করে না। কাল যেটা করে, পরশু সেটা করে নাহ।

তবে কিছু ব্যসিক জিনিস সবকিছুরই থাকে, যা সাধারণত পরিবর্তন হয় না। এসইওর ক্ষেত্রে এমন কিছু ব্যসিক জিনিস আছে, যা প্রথম থেকে এখন অব্দি কার্যকর। কিন্তু আমরা অনেক সময়ই সেগুলোকে গুরুত্ব দেই না।

কিছু কার্যকর, অতি বেসিক এসইও টেকনিক কাজ করতে দেখছি। এগুলোর বেশিরভাগই আমরা জানি বা শুনেছি কিন্তু পরখ করে দেখিনি। কতটা শক্তিশালী তাও তাই হয়তো জানি না। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আজকে সেসব নিয়ে কথকতা:

টেকনিক #১ ভেরি লো কম্পিটিটিভ কিওয়ার্ড:

গরীব মানুষদের জন্য এটা ব্রেড অ্যান্ড বাটার। ব্রেড অ্যান্ড বাটার নিয়ে বেশিকিছু বলার নাই, তবে ইশারা ইঙ্গিত দেয়া চলে। জাস্ট প্রথাগত কিওয়ার্ড রিসার্চ ধরে রেখে সেটা থেকেই একটু ডিপে গেলে হয়। আপনি যত বেশি ডিপে যাবেন, অর্থাৎ যত বেশি স্পেসিফিক হতে পারবেন, তত বেশি লো কম্পিটিটিভ কিওয়ার্ড আপনি পাবেন।

তো, এই ব্যাসিক ট্রিক্সটি কতটা কার্যকর?

জিরো ডোমেইন অথরিটি (অ্যাবসলিউটলি ডোমেইন লেভেলে জিরো ব্যাকলিংক) নিয়ে প্রথম পাতায় প্রথম পাঁচে অবস্থান, ক্লিক ও সেল পাওয়া গিয়েছে একটি আমাজন এফিলিয়েট সাইট থেকে দেড় মাসের ভিতরে (তারপর ব্যাকলিংকের শুরু)। আলাদা আলাদা আরটিকেলে, আলাদা আলাদা কিওয়ার্ড টপিকে।

তবে এই ট্রিক্সের কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন –

ক. এই ট্রিক্স খুব ভালভাবে কাজে লাগাতে গেলে কিওয়ার্ড রিসার্চ শকুনচোখা হতে হয়।

খ. খুব ভাল টপিক রিলিভেন্স থাকতে হয়, নাহয় এই বেশি ফলদায়ক হবে নাহ।

গ. নিজে না লিখলে বা অনেক কন্টেন্ট ইনভেস্টমেন্ট না থাকলে ট্রিক্সটি ফলো করে রেজাল্ট আনা কষ্টকর।

টেকনিক #২.বিফ-আপ ইউর কন্টেন্ট:

কন্টেন্ট মোটাতাজাকরণ? হ্যা। জগতের সবাই জানে, করেও। কিন্তু ঠিক কীভাবে ফল পেয়েছি সে নিয়ে একটু আলাপ করা যাক।

এটা আপনি দুই ভাবে করতে পারেন – হতে পারে আপনার সাইটের এক্সিসটিং কন্টেন্টকে গভীর করা বা যে কন্টেন্টটা আপনি এখনো পাবলিশ করেননি সেটা নিয়ে রিথিংক করা। অর্থাৎ সেটাতে কি কি এক্সট্রা এড করা যায় সেটা আগে থেকে প্ল্যানিং করা।

কীভাবে?

জাস্ট কন্টেন্টটাকে সত্যি ডিপ করুন। না, ওয়ার্ড কাউন্টে না। টপিকে। রিলেভেন্ট কিছু টপিক এড করুন আপনার কন্টেন্টে – ওয়ার্ড কাউন্ট ও ভ্যালু দুইটাই বাড়বে তাহলে।

আমি খুব সাধারণ কিছু ফরমুলা ব্যবহার করি, প্রথমত, ওই আরটিকেলে ব্র্যান্ডটা নিয়ে কথা বলি। ব্র্যান্ডের বয়স, ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা, তাদের সিসটার কনসার্ন, তাদের আপাত ‘ইরিলিভেন্ট’ প্রোডাক্টস। এতে করে ব্র্যান্ডটি সম্পর্কে রিডাররা জানতে পারে এবং ডিসিশন নিতে পারযে তারা সেই ব্র্যান্ড থেকে প্রোডাক্ট কিনবে কি না।

এরপর কথা বলি প্রোডাক্ট ক্লাস/প্রোডাক্ট ক্যাটেগরি নিয়ে। প্রতিটা ব্র্যান্ডই প্রোডাক্টের ক্লাস তৈরি করে। যেমন স্যামসঙ এর প্রোডাক্ট ক্লাস হল গ্যালাক্সি। আবার স্যামসঙ গ্যালাক্সির প্রোডাক্ট ক্লাস হল নোট। তো এই ক্লাসগুলো নিয়ে একটু কথা। এমনি মিল থাকা অন্যান্য বিষয় কাভার করা। সোজা কথায়, এলএসআই কিওয়ার্ডের ব্যবহার করি আর্টিকেলে।

এছাড়াও বিভিন্ন হেডিং থ্রি’র কন্টেন্টকে বিফ-আপ করি। টুকিটাকি টপিক কাভার করে।

তো, এটা কতটা কার্যকর?

আমার একটি এফিলিয়েট সাইটে ১৫ টা প্রোডাক্ট রিভিউর মধ্যে সেই চারটা প্রোডাক্ট রিভিউই সবচেয়ে বেশি রেঙ্ক করেছে যেগুলোতে আমি আশপাশের রিলিভেন্ট টপিক খুব ভালভাবে কাভার করেছি।

এমনো হয়েছে, রিভিউগুলো মধ্যম/লো কম্পিটিটিভ, অতি লো কম্পিটিটিভ নয়, তাও ডোমেইনে কোন ব্যাকলিংক না থাকার পরও সেগুলোতে ধীরে ধীরে প্রথম পাতায় চলে গেছি। এর অনেকটাই হয়েছে কন্টেন্ট বিফ-আপের কারণে।

তো, ট্রিক্সটির সমস্যা?

ক. আরটিকেল রাইটারকে লেখা শেষ করার পর আপনার তীক্ষ্ণচোখে কিছু টপিক বলে দিতে পারতে হবে, সেসব টপিকের ঠিক কী কী তথ্য আরটিকেলে যুক্ত করতে হবে তাতে আপনি ট্রেইনআপ করতে পারলে পরবর্তীতে সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এই কাজটির জন্য শুধুমাত্র আর্টিকেল রাইটারের উপর ভরসা করলে হবে না, আপনার নিজেকেও কিছু রিসার্চ করতে হবে এবং সময় ব্যয় করার মানষিকতা থাকতে হবে।

খ. এইটা আসল সমস্যা, এই টাইপ কন্টেন্ট চায় প্যাশন, অনেক বেশি সময়- রিটার্ন অভ ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে। তবে যদি দ্বিধা কাটিয়ে কাজটি চালিয়ে যেতে পারেন – সুফল পাবেন।

টেকনিক #৩ নিজের পাতায় ‘অর্গানিক’ কমেন্টিং:

সিরিয়াসলি? এখন অন্যের ব্লগে ব্লগ কমেন্টিং তো করতেই হবে, পাশাপাশি নিজের ব্লগেও ব্লগ কমেন্টিং বাড়াতে হবে?

হ্যা। এটা একটা রেঙ্কিং ফ্যাক্টর যা আমরা হয়তো অনেকেই জানি কিন্তু মনোযোগ নিয়ে করার সময় পাই না। অথচ নিজের ব্লগ কমেন্টিং লিংক বাড়ানোর নামে অন্যের পাতাকে বুস্ট মেরে আসি। এতে করে মেইন লাভের লাভ তারই হয়।

যাহোক, আইডিয়াটা হল নিজের আর্টিকেলে নিজেই কমেন্ট করতে পারেন। জিনিসটা লেইম শোনালেও কার্যকর বটে। আর্টিকেল তো আপনার রাইটার লেখে, তো সেটি আপনি এজ এ রিডার পড়ে দেখেন, কিছু প্রশ্নের উদ্ভব হবে। সেগুলো কমেন্ট করে আস্ক করুন। পরে রাইটার থেকে উত্তর জেনে নিয়ে সেটিতে রিপ্লাই দিন। অথবা, কোন অথেন্টিক কমেন্ট আসলে সেটির অবশ্যই রিপ্লাই দিন।

এটি কতটা কার্যকর?

আমার একটা ‘পিলার কন্টেন্ট’ বা ‘বেস্ট অমুক’ পাতায় একটা টোটালি ইরিলিভেন্ট কমেন্টকে অ্যাপরুভ করে জবাব দিয়েছিলাম।

ফলাফল? রেঙ্ক বুস্ট এবং সেখানে দীর্ঘ অবস্থান।

সমস্যা?

ক. কমেন্টের জবাব দেয়ার মত দক্ষতাটুকু তো থাকতেই হবে। আমাদের অনেকেরই সেটা আছে কিন্তু কেন যেন সাহস করি না।

খ. যদি সাহস নাই করতে পারেন, তাহলে সোজা কন্টেন্ট রাইটারকে পুশ করে কিছু কিছু কমেন্টের জবাব লিখিয়ে নিন। জবাব হাতে আসার পর কমেন্ট অ্যাপরুভ করে জবাব দিয়ে দিন।

গ. এইটা মারাত্মক কোন বুস্টার না হবারই কথা। আমি রেজাল্ট যদিও মারাত্মক পেয়েছি, হয়তো তার কারণ কিওয়ার্ডটা বেশি লো কম্পিটিটিভ ছিল।

টেকনিক #৪.টেবল অভ কন্টেন্ট:

হ্যা। এগুলোর সবই অতি বেসিক। কিন্তু আমরা অতি বেসিকগুলো করি না, এই হল সমস্যা। টেবল অফ কন্টেন্ট একজন রিডার এর জন্য অনেক বেশি ইম্পরট্যান্ট হতে  পারে বড় আর্টিকেল্গুলোর ক্ষেত্রে। এটি এক নজরে রিডারকে কন্টেন্ট সম্পর্কে ধারণা দেয় – যেটা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ভাল করায় বড় ভূমিকা রাখে। সুচিপত্র ছাড়া একটি বই পড়তে আপনার কেমন লাগবে, বলুন?

টেবল অফ কন্টেন্ট এসইও এডভান্টেজ দিতে কতটা কার্যকর?

পেইজ লেভেলে নয়, সেকশন/হেডিং লেভেলে কিওয়ার্ড রেঙ্ক করা শুরু করে। এতটাই কার্যকর।

সমস্যা?

ক. এই কাজ অর্গানিকভাবে করতে যাওয়া মানে ভূতের বেগার খাটা। যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও পরিশ্রমের ব্যাপার।

খ. আমাদের হেডিং টু-থ্রি গুলো এতই বড় হয় যে সেগুলো টেবল অভ কন্টেন্টে অটো আনলে বিশ্রি বড় টেবল হয়। তাই টেবল অভ কন্টেন্ট বানান ঠিকই কিন্তু বাই ডিফল্ট মিনিমাইজ করে রাখতে পারেন।

টেকনিক #৫.এন্টারটেইনমেন্ট/ পাওয়ারফুল ভয়েস:

আপনার কন্টন্টে রিডারকে ধরে রাখতে হল হয় আপনার কন্টেন্ট রসবোধসম্পণ্ণ হতে হবে, নয়তো ভয়েসটা বেশ কন্ট্রোলিং, পাওয়ারফুল হতে হবে। এইটা আসলে প্যাসিভ ফ্যাক্টর। এতে করে রিডার বেশিক্ষণ আপনার কন্টেন্ট থাকবে, মানে আপনার ডোয়েল টাইম বাড়বে, যেটা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ এসইও ফ্যাক্টর।

কতটা কার্যকর?

পোগোস্টিকিং কমায়, স্টে অন পেইজ বাড়ায়, রিকারিং ট্রাফিক বাড়ায়, পেজভিউর সংখ্যা বাড়ায়। আল্টিমেটলি, এসইও এডভান্টেজ দেয়!আর কী!

সমস্যা?

নিশদক্ষ, লেখায় দক্ষ রাইটার। প্রথমত, আপনার রাইটারের আপনার নিশ সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা থাকা লাগবে। নাহলে সে ইনফরমেশন প্রেজেন্টেবল করে তুলে ধরতে পারবে নাহ। তার লেখা পড়ে মনে হবে রচনা পড়ছেন।

এছাড়া, রসময় করে আর্টিকেল লেখা যথেষ্ট স্কিল ডিমান্ডিং একটি কাজ। বেশিরভাগ রাইটারই কাজটা করতে পারে নাহ। এর জন্য প্রয়োজন স্মার্ট, দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন রাইটার।

তো, এই ট্রিক্সটি কাজে লাগাতে হলে আপনাকে আপনার রাইটারকে সময় দিয়ে দিয়ে নিজের মত করে তৈরি করে নিতে হবে। অথবা, রসবোধসম্পন্ন লেখা লিখতে পারে এমন একজন অভিজ্ঞ রাইটারকে ডিরেক্ট হায়ার করতে হবে যেটা এক্সপেনসিভ হবে।

টেকনিক #৬.অথর অথরিটি ও সাইট পারসোনা:

সাঙ্ঘাতিক। যত দিন যাচ্ছে গুগল এতে তত মনোযোগ দিচ্ছে। সময় এসেছে আপনিও এতে মনযোগ দিন।

কতটা কার্যকর?

খুব বেশি। অথর অথরিটি থাকলে কম্পিটিটিভ কিওয়ার্ডও কম ব্যাকলিংকে বেশি সাফল্য পায়। যেটা হয়ত নরমালভাবে কখনোই সম্ভব ছিল নাহ।

সমস্যা?

এখন বাস্তব পারসোনা তো তৈরি করা যাবে না। কারণ, আমরা বাস্তবিক ভাবে তো ওই টপিকের কোন এক্সপার্ট না যে নিজে সাইট রান করছি। এক্ষেত্রে অথরের কৃত্রিম পারসোনা তৈরি করতে হবে। অথরের কৃত্রিম সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট, অথরের নামে কিছু ব্যাকলিংক অ্যাংকর টেক্সট, তার নামে কিছু গেস্টপোস্ট, ইউ গট ইট।

 

টেকনিক #৭.চিকণ পিনের ক্লিকবেইট:

চিকণ পিনের চার্জার শুনেছেন, এখন চিকন পিনের ক্লিকবেইটও? হ্যা! কারণ আমাদের সকলেরই একটাই টেন্ডেন্সি – ক্লিক দাও মোরে ক্লিক দাও।

আমাদের প্রায় সবার আরটিকেলের এসইও হেডিং এমন হয়: ‘১০ বেস্ট পাগলা মলম ২০১৮’। ক্লিক পাবেন না, আমিও বহু কষ্টে প্রথম পাতায় গিয়ে দেখি মানুষ ভালবাসে না। আগে ভাবতাম, গুগল আমারে ভালবাসে না, এখন দেখি গুগলব্যাটাই ভাল। ও ভালবাসে, রেঙ্কও দেয়, খালি মানুষ ভালবাসে না। মানুষ আরো খারাপ।

আমরা মনে করি, নিশ সাইটে এম্নিতেও বেশি ক্লিক আসে না। আসবে। চিকণ পিনের ক্লিকবেইট দিন, চার্জ হবে।

কতটা কার্যকর?

প্রথম পাতায় যেতে পারলে ক্লিকবেইটই সব। বাকিসব মিথ্যা।

সমস্যা?

ক. ‘অতি সস্তা’ লুকিং ক্লিকবেইট টাইটেল ক্লিক পাবে না।

খ. ক্লিকবেইট নিয়ে একটু আপডেটেড থাকতে হবে। রাইটারের কাছ থেকে আশা করা যাবে না।

গ. একটু হুইমজিক্যাল, একটু কেয়ারলেস ভাব ফুটিয়ে তুলতে হবে। হয়তো নিজের আরটিকেলকে নিজেই চিনতে কষ্ট হবে ক্লিকবেইট টাইটেলের জন্য।

এপ্লাই করে দেখুন এই ৭ টি ব্যসিক কিন্তু কার্যকরী টিপস আপনার সাইটে। ফলাফল পাবেন অবশ্যই। পেলে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না। আর কোন প্রশ্ন থাকলে সেটাও করতে পারেন।

 

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.