কিভাবে একটি দুর্দান্ত ফেসবুক ফ্যান পেজ তৈরি করবেন

নিঃসন্দেহে ফেসবুক পৃথিবীর সব চাইতে বড় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এবং পণ্য বিপণন তথা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম, যদি  আপনি এর বিভিন্ন অপশন গুলো ভাল করে প্রয়োগ করতে পারেন।

ফেসবুকে ফলপ্রসূ বিপণনের কৌশলটা কি ? ফেসবুক মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে  ফ্যান পেজটাই  ফোকাসের মূল।

শুধু ডলার খরচ করে বিজ্ঞাপন দিলে আর ইভেন্ট স্পন্সর করলেই কাজ হবেনা যদি না আপনার পেজে ভিজিটর থাকে। আপনি তখনি ভিজিটর আশা করবেন যখন আপনার পেজটা নজর কাড়বে। সবার আগে সবাই পেজটা দেখবে এবং আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানবে, পরিচিত হবে। পেজে এসে মানুষ আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে একটা পরিপূর্ণ ধারনা পেতে চাইবে। কাজেই, বিপণন কারীকে ফেসবুক ফ্যান পেজটাকে সর্বোত্তম আকর্ষণের উপযোগী করে তুলতে হবে, যেন  ইউজাররা প্রতিনিয়ত অনেক সময় নিয়ে সাগ্রহে পেজে অবস্থান করে।

কিভাবে ফেসবুক পেজটাকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় তা আমি ধাপে ধাপে বোঝাব এবং দেখাবো কি করে একটি পেজের বিভিন্ন অংশকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করা যায়।

১. আপনার কভার ফটো।

আপনার পেজে এসে প্রথম যেটা চোখে পড়বে সেটা হচ্ছে এই কভার ফটো। চোখ ধাঁদানো একটা কভার ছবি যেটা আপনার ভিজিটরকে আপনার পেজে চোখ বুলাতে আগ্রহী করে তুলবে।

একটা দুর্দান্ত কভার ফটো হচ্ছে যেটা হবেঃ

  • দৃষ্টিনন্দন
  • সহজবোধ্য এবং তথ্যবহুল
  • ভিজিটরকে প্রথম দৃষ্টিতেই আগ্রহী করে তুলবে, এবং
  • আপনার পণ্য বা সেবাকে সরাসরি সম্পৃক্ত করবে

আমরা Tazo Tea এর ফেসবুক পেজের কভার ফটোর দিকে তাকালে দেখবো এটা বেশ সজীব এবং নজরকাড়া। এর রঙ এবং অঙ্গসজ্জা ও Tazo ব্রান্ড এর সাথে খাপ খেয়ে যায়। একটা  সুস্পষ্ট মেসেজ ও পাই টেক্সট বা শ্লোগানেরএর মাধ্যমে, যেটা খুবই কার্যকর।

Nintendo এর কভারের ছবিটাতো রীতিমতো একটা পণ্যের বিজ্ঞাপন। এর একটা চমৎকার ব্যাবহারিক দিক রয়েছে, প্রোডাক্টের পাশাপাশি এটা ফাংশনাল দিকটাও দেখানো হয়েছে।

প্রোডাক্ট বা বিপণনের ক্যাম্পেইন এ কোন নূতনত্ব আসলে কভার ফটোকে সেভাবে পরিবর্তন করে নিতে হবে। সোজা কথা কভারের ছবিটা হবে প্রতিনিধিত্বশীল। প্রোডাক্ট বা  মার্কেটিং কৌশল এর সাথে তাল মিলিয়ে কভার ফটো পরিবর্তিত হবে।

২. আপনার About পেজ

যখনই কেউ ফেসবুক পেজে এসে আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা নিতে চাইবে তাঁর সম্ভাব্য গন্তব্য হবে আপনার পেজের About অংশটি।

ইউজারকে পেজে সময় ধরে আটকে রাখতে চাইলে  About অংশটা  হবে প্রাসঙ্গিক এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সমৃদ্ধ। একটি কার্যকরী About পেজে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্রদ্ধ কম করে তিনটি সেকশন থাকে। পেজের ধরনানুযাই সেকশন খুঁজে নিতে হবে।

কি কি ধরনের তথ্য দেবেন তা’ নির্ভর করবে পেজটা কিসের ওপর,তার ওপর। খুঁজে নিতে হবে পেজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেকশনটি। প্রথমেই রয়েছে Business Info সেকশনটি। অল্প কথায় চটজলদি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে  ধারণা দিতে হবে। কলেবর বড়ো হলে ভিজিটর হতাশ হয়ে বাউন্স করতে পারে। Target এর Business Info এর টুকিটাকি ঠিক এই কাজটাই করেছে।

পোর্টল্যান্ড, অরেগন এর কফি শপ Coava Coffee একই উদ্দেশ্যে Story Section তৈরি করেছে।

গল্পের আদলে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে Coava Coffee এখানে নিজেদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছে। বলার ঢঙ যাই হোকনা About পেজটা তথ্য সমৃদ্ধ হতে হবে।

এরপর রয়েছে Contact Info সেকশনটি। About পেজে এটা না হলেই নয়। কেউ যদি আপনার ওয়েব পেজ ভিজিট করতে চায়, অথবা ফেসবুকের বাইরে গিয়ে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চায় তাহলে একটা যোগাযোগের ঠিকানা লাগবেই। এখানে একটা ফোন নাম্বার, তাদের ইমেইল এবং সাইটের এড্রেস দেয়া হয়েছে যাতে খুব সহজেই যোগাযোগ করা যায়।

শেষে রয়েছে More Info সেকশনটি। এখানে প্রয়োজনীয়  অন্যান্য তথ্য দেয়া যেতে পারে।

যেমন  দিয়েছে Target তাদের নিজেদের  সম্পর্কে, তাদের পণ্য সামগ্রী সম্পর্কেঃ

৩. আপনার সাইড ট্যাব

ফেসবুক পেজ অপটিমাইজের প্রসঙ্গ আসলেই সাইড ট্যাবটা বিবেচনায় আসবেই। মানুষের সাথে আপনার পেজের কানেক্টেভিটিতে এই ট্যাবটা ভীষণ কার্যকরী। ফেসবুকের এটা একটা স্ট্যান্ডার্ড সাইড ট্যাবকে  একটু এদিক সেদিক করে  অপটিমাইজ করে নিতে হবে।

আমরা এবারে Coava এই ট্যাব গুলোর দিকে তাকাই তাহলে ট্যাবের অসাধারন ব্যবহার দেখতে পাবো। পুরো পেজটা ইউজার-বান্ধব হয়ে উঠেছে।

মনে করুন, আপনি সাইড বারে একটা ট্যাব চান যেটা আপনার পেজের রিডার কে আপনার পেজে রাখা কোন ব্লগে নিয়ে যাবে। আমরা ফেসবুকে এই কাজটা সেরে নেবো ফেসবুকের নোটস অ্যাপ দিয়েঃ

ক্লিক করুন পেজের ওপরে সেটিংস এ। বাম দিকের সাইড বারের অ্যাপ্সে ক্লিক করুন। নোটস অ্যাপটা ডান দিকের পেইনে চলে আসবে। এরপর ক্লিক করুন “Add App” এ

এবারে আপনার পেজে ফিরে গিয়ে বাঁ দিকের সাইড বারের “Manage Tabs” এ ক্লিক করুন এবং “Add a Tab” ক্লিক করুন। এভাবে আপনি পেয়ে গেলেন একটা প্রয়োজনীয় সাইড বার।

ফেসবুক থেকে আপনি কিছু কিছু জনপ্রিয় সার্ভিস যেমন Shopify, MailChimp ইত্যাদিতেও কাজ করতে পারেন। একটু সময় নিয়ে মাথা ঘামালে দেখবেন এরকম অনেক  প্রোগ্রাম কে আপনি ফেসবুকের সাথে সম্পৃক্ত করে কাজ করতে পারবেন।

পরিশেষে 

বিপণনকারীদের সাধারনতঃ ভেবে থাকেন ফেসবুকটা বোধহয় কেবল বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্যই। মনে রাখতে হবে, পেজটা যদি আকর্ষণীও না হয়, ইউজার-বান্ধব না হয় তাহলে রঙিন বিজ্ঞাপনটাও সাদাকালো হয়ে যাবে, কাঙ্খিত প্রচারে ব্যর্থ হবে। ডিজিটাল দিগন্তে ফেসবুকটাকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী মানানসই করে নিতে হবে। আর তা’করলেই কেবল কাঙ্খিত ফলাফল আশা করা যাবে।

 

Leave a Comment