how to earn from blog

আয় করুন নিজের ব্লগ থেকে

সফল ব্লগাররাই জানে, সঠিক উপায়ে কিভাবে ব্লগিং কাজে লাগাতে হয়।

অর্থাৎ, তারা জানে, কিভাবে উৎকৃষ্ট কন্টেন্ট তৈরি করতে হয়, উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিজেদের পক্ষে নিতে হয়, কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন ট্র্যাফিক তৈরি করতে হয় এবং অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে হয়। তারা ব্লগিং হতে অর্থ উপার্জনের উপায় গুলাও জানে।

আপনি যদি লম্বা সময় ধরে ব্লগিং এর সাথে জড়িত থেকেও কোন লাভের দেখা না পান, তবে নিশ্চয়ই আপনি আপনার ভুলগুলো সম্পর্কে অবগত নন। ব্লগিং থেকে আদৌ অর্থ উপার্জন সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নও কারো কারো মাথায় আসতে পারে।

এটা সত্য যে, আপনি একজন ভাল মার্কেটার এবং সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে হাজার হাজার ফলোয়ার্সের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, ব্লগ থেকে টাকা উপার্জন করাটা একটু জটিল হতে পারে।

কিন্তু সফল ব্লগাররা টুকিটাকি অর্থ উপার্জন থেকে শুরু করে জীবিকা নির্বাহের মত উপযোগী পরিমাণ অর্থ উপার্জনের পথও খুঁজে বের করেছেন।

আপনি ব্লগ থেকে আয় করে কিভাবে আপনার কাঙ্ক্ষিত সফলতা লাভ করতে পারেন, এই পোস্টে আমরা সেটাই দেখব। আমরা প্রচলিত কৌশলের পাশাপাশি কিছু অসাধারণ নতুন কৌশল সম্পর্কেও জানব যেটা নিয়ে হয়ত আগে কখনো ভেবে দেখেননি।

তাহলে ব্লগ হতে আয় করতে প্রস্তুত তো? চলুন শুরু করা যাক।

একঝলকে

ব্লগ থেকে আয় করার ব্যাপারে এই পুরো পোস্টটি জুড়ে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলা নিয়ে আলোচনা করবঃ

  • আপনি কি বিক্রয় করবেন যা থেকে অর্থ উপার্জিত হবে, সে সিদ্ধান্ত নেয়া
  • আপনি যা বিক্রয় করছেন তা সকলকে আকৃষ্ট করবে, এমন কন্টেন্ট তৈরি করা
  • যারা আপনার ব্লগের প্রতি আগ্রহী, তাদের ইমেইল সমূহ গ্রহণ করা
  • যারা ইমেইল অ্যাড্রেস প্রদান করেছে, তাদের কাছে বিক্রয় করা

নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে কিভাবে অগ্রসর হতে হবে, সে সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিশ্চয়ই পেয়ে গিয়েছেন। সুতরাং, এখন এ ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করা যাক।

বলা বাহুল্য, উপরোক্ত সবগুলো ধাপই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এর কোনটি যেন বাদ পড়ে না যায় সে বিষয়ে খেয়াল রাখবেন।

সিদ্ধান্ত গ্রহন- কিভাবে ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জিত হবে

আপনি ব্লগে অ্যাডভার্টাইজিং সেল করতে পারেন। তবে তা থেকে আশানুরূপ রিটার্ন পাওয়া বেশ কঠিন হবে।

সেই সাথে, অ্যাডভার্টাইজিং সেল করার মানে হল, অন্য কেও আপনার সাইটের ট্র্যাফিক লাভজনক ভাবে নিজের কাজে লাগানোর একটা সুযোগ করে দেয়া। এজন্য সবথেকে ভাল হয় যদি আপনি, মিডলম্যান ছাঁটাই করে নিজের ব্লগের ট্র্যাফিককে পুঁজিতে পরিণত করতে পারেন, যা থেকে ভবিষ্যতে ভাল রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।

বেশিরভাগ ব্লগের জন্যই আপনি সাধারণত যেই দুটি জিনিস বিক্রয় করতে পারেন- ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এবং ইনফরমেশন/ ডিজিটাল প্রোডাক্ট। আপনি যাই সেল করুন না কেন, সেটা যেন আপনার ব্লগের ভিজিটরদের পছন্দের তালিকায় থাকার মতই কিছু হয়, সেটি মাথায় রাখুন।

যদি আপনি ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট সেল করতে চান, তবে অ্যামাজনে আপনার নিসের দিকে নজর দিন এবং কোন প্রোডাক্টটি সর্বাধিক সেল হচ্ছে সেটা খেয়াল করুন। আপনি যদি ডিজিটাল প্রোডাক্ট সেল করতে চান তবে অ্যামাজনের কিন্ডেল সেকশনে নজর দিন এবং দেখুন আপনার নিসের অধীনে কোন বইগুলা বেশি সেল করা হচ্ছে।

আপনি ক্লিকব্যাঙ্কের মত সাইট থেকে আপনার নিসের অধীনে কোন ডিজিটাল প্রোডাক্ট গুলা সেল হচ্ছে তা জানতে পারেন।

উভয় ক্ষেত্রেই দেখবেন, ইমেইলে লিস্টে জন সাধারণ যুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। সুতরাং, কি বিক্রয় করবেন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে সাথে কিভাবে ইমেইল লিস্টে জনবল বাড়াবেন তা চিন্তা করতে হবে।

এটি খুব জটিল কিছু নয়। আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের জন্য প্রেসিং প্রবলেম সমাধান করে এমন একটা গেইটএওয়ে তৈরি করুন। এরপর, ইমেইল এড্রেসের বিনিময়ে এটি অফার করুন।

একটি সাইডবার অপট-ইন বক্স তৈরি করুন এবং সেই সাথে একটি পপআপ তৈরি করুন যা ভিজিটরদের গিভএওয়ের বিনিময়ে ইমেইল এড্রেস প্রদানের অনুরোধ করে।

আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি

প্রথমেই আপনার সাইটে যদি কোন ভিজিটর না থাকে, তবে কেও আপনার অফারগুলার জন্য ইমেইল লিস্টে সাইন আপ করবে না। সাইটে ভিজিটর বাড়ানোর একটা অন্যতম উপায় হল, আকর্ষণীয় এবং মজাদার কন্টেন্ট তৈরি করা। আপনার ভাল মানের কন্টেন্ট তৈরি করতে কোন বিশিষ্ট লেখক হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সময়ের সাথে লেখার মান উন্নত করার চেষ্টা করা উচিত।

আপনার প্রথমে যা করা দরকার তা হল, আপনার জন্য উপযুক্ত অর্থাৎ আপনার নিসের আওতাভুক্ত ভাল মানের কন্টেন্ট খুঁজে বের করা। এরপর একই ধাঁচের কিন্তু আরো ভাল মানের কন্টেন্ট তৈরি করা। আপনি Buzzsumo এর সাহায্যে এমন কন্টেন্ট খুঁজে পেতে পারেন।

ধরুন, আমি “ওয়েব ডিজাইন” এর উপর একটি ব্লগ তৈরি করছি।

Buzzsumo তে এই বিষয়ে সার্চ দিলে আমি এই টপিকের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং সর্বাধিকবার শেয়ার হওয়া অনেকগুলা কন্টেন্ট পাব। কিছুক্ষণ স্ক্রল করার পর, এই নিসের অধীনে বিভিন্ন কন্টেন্টের আইডিয়া পাব। আমি এই সম্পর্কে নিচের স্ক্রিনশটে হাইলাইট করে দিয়েছি।

 

wordpress web design

 

আমার কাজ হল, এইসকল কন্টেন্ট থেকে ধারণা নিয়ে আরো ভাল কিছু তৈরি করা। সুতরাং, আরো ভাল কন্টেন্ট তৈরি করতে আমি কি করতে পারি?

প্রথম যেটি করতে পারি তা হল, কন্টেন্টের গভীরতা বৃদ্ধি। অর্থাৎ, যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি তার টুকিটাকি সবকিছু স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। উপরে, “২০১৭ এর ১০ টি নতুন ওয়েব ডিজাইন চল” নিয়ে একটি উদাহরণ আছে।

আমি উক্ত কন্টেন্টে প্রতিটি ধাপের সাথে মানানসই হাই কোয়ালিটি ইমেজ ব্যবহার এবং প্রতিটি ধাপে আরও কিছু দরকারি তথ্যও প্রদান করতে পারতাম।  গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রঙিন ছবি কন্টেন্টের প্রতি পাঠকের আগ্রহ ৮০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, প্রাসঙ্গিক ছবিযুক্ত কন্টেন্ট, ছবিবিহীন কন্টেন্টের তুলনায় ৯৪% বেশি ভিউ লাভ করে।

 

আমি GIF-ও ব্যবহার করতে পারতাম, যেটা কন্টেন্টটিকে আরো বেশি সচল আর মজাদার করে তুলত। GIF গুলা সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ জনপ্রিয় বিধায় কন্টেন্টটি বেশি বেশি শেয়ারের সুযোগ থাকে। তাছাড়াও, আমি পোস্টের শেষে একটা ভিডিও যুক্ত করতে পারি যা আরো স্পষ্টভাবে বিষয়টি তুলে ধরবে।

আমি আর্টিকেলটি পড়ার সুবিধার্থে কন্টেন্টটি কয়েকটি হেডারের সাহায্যে ভেঙ্গে ভেঙ্গে লিখতে পারি। ইউজার কম্পিউটারের সামনে না থাকলেও যেন কন্টেন্ট সম্পর্কে জানতে পারে সেজন্য আমি ফ্রি চেকলিস্ট অপশনটাও যুক্ত করতে পারি। এটা মূলত “কন্টেন্ট আপগ্রেড” সম্পর্কে জানান দেয়।

কন্টেন্ট আপগ্রেডের অপশনটি ব্লগে সাইন আপ বাড়ানোর জন্য বেশ ভালমতই কাজ করবে। কারণ, এটা ভিজিটরদের তাদের পঠিত বিষয় সম্পর্কে আরো নতুন তথ্য দিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে, আপনি ব্লগের সকল পোস্টের জন্য কন্টেন্ট আপগ্রেড অপশনটি যুক্ত করতে পারেন। প্রথমে, আপনার সাইটের টপ ৫টি ব্লগ পোস্টের জন্য কন্টেন্ট আপগ্রেড করার মাধ্যমে কাজ শুরু করেন।

এতে আপনি আপনার কন্টেন্টের পাঠক সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করতে পারবেন।

কন্টেন্টের পাঠক বৃদ্ধি

পরবর্তী যে ক্ষেত্রে আপনি জোর দিবেন তা হল- কন্টেন্টের পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি করা। অর্থাৎ, ব্লগে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়ানো।

মনে রাখবেন, যদি কেও আপনার ব্লগ ভিজিট না করে, আপনার জন্য বাছাই করার মত কিছু থাকবে না। এবং, বাছাই করার মত কিছু না থাকলে, আপনি প্রমোশনাল ইমেইলও পাঠাতে পারবেন না!

যেহেতু ব্লগে ভিজিট বাড়ানোর অনেক পন্থা আছে, সেহেতু আপনার যেকোন একটার উপর নির্ভর করাটা বোকামি।

যখনি একটা ট্র্যাফিক মেথড কাজ করা শুরু করবে, তখনি আরেকটার জন্য কাজ শুরু করুন।

কাজে এত বিচিত্রতার জন্য সবকিছু অগোছালো মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি জানেন না কখন কি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার অ্যাড একাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, অথবা আপনি গুগল অ্যালগোরিদম চেঞ্জের শিকার হতে পারেন।

এই কথাটি মাথায় রেখেই সামনের অংশ পড়তে থাকুন।

প্রথম যেই ট্র্যাফিক মেথডটি কাজে লাগাতে পারেন তা হল- গেস্ট পোস্টিং।

ব্লগে টার্গেট ট্র্যাফিক পেতে গেস্ট পোস্টিং একটি দারুন উপায় হতে পারে।

ব্লগারদের ৬%, তাদের বেশিরভাগ কন্টেন্ট গেস্ট পোস্ট হিসাবেই পাবলিশ করে। এই মেথড তখনই উত্তম, যখন এটা থেকে বেশ লম্বা সময়ের জন্য সুফল পাওয়া যাবে।

দেখুন, হাবস্পটে গেস্ট পোস্টিং এর পর উইল ব্লান্টের লিস্টের কি অবস্থা হয়েছিল,

 

 

কিছু মানুষ গেস্ট পোস্টিং থেকে ফলোয়ার্স না পাওয়া পর্যন্ত নিজের ব্লগে কন্টেন্ট পোস্ট করে না।

আপনি এমন কোন স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করলে আপনার সাইটে অপট-ইন ফর্ম থাকার বিষয়টা নিশ্চিত করুন। এভাবে আপনি আরেকজনের সাইটে পোস্ট করেও ফলোয়ার্স পাবেন।

আপনার গেস্ট পোস্টের “অথার বক্স”-এ কন্টেন্ট আপগ্রেড এভেইলেইবল থাকার কথাটা মানুষকে জানানো উচিত।

 

 

গেস্ট পোস্টিং এ সফল হতে হলে যেই দুটা বিষয়ে দখল থাকতে হবে তা হলঃ

  • সুযোগ খুঁজে বার করা
  • অসাধারণ কন্টেন্ট তৈরি করা

আমি এখানে আপনার জন্য দুটো বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছি।

গেস্ট পোস্টিং এর সাথে আপনি পিপিসি ট্র্যাফিকও ব্যবহার করতে পারেন নিজের সাইটে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য।

যেসকল ব্লগারগণ ব্লগের জন্য বিকল্প প্রমোশন মেথড ব্যবহার করে, তাদের এই কাজে সফলতা ৯৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনেকে পেইড ট্র্যাফিক মেথডও ব্যবহার করে থাকেন। তৎক্ষণাৎ ভিজিটর লাভের জন্য পিপিসি ট্র্যাফিক একটি দারুণ পদ্ধতি।

কিন্তু আপনার অনলাইন অ্যাডভার্টাইজিং ক্রয় নিয়ে কোন অভিজ্ঞতা না থাকলে বিপুল ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকে। তাছাড়াও, ট্র্যাফিক কেনার আগে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক থাকা জরুরি। তা না হলে আপনি নিজের অর্থ ফেরত পাবেন না।

সৌভাগ্যক্রমে, বেশির ভাগ পিপিসি প্ল্যাটফর্ম একটা সর্বনিম্ন খরচ সীমা নির্ধারণ করে দেয় না। ফলে আপনি অ্যাডওয়ার্ডস এবং ফেইসবুকের মত করেই সল্প খরচে এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন। চেষ্টা করুন সকল প্ল্যাটফর্মেই প্রতিদিন ৫ ডলার করে খরচ করতে।

আপনার যদি সীমিত বাজেট থাকে অথবা আপনি নতুন হয়ে থাকেন তবে ফেইসবুক অ্যাডস সবথেকে ভাল অপশন শুরু করার জন্য। কারণ, এর থেকে আপনি সহজেই আপনার অ্যাডস টার্গেট করতে পারেন।

 

 

প্রথম দিকে আপনার খরচের পরিমাণ বেশি থাকবে। কিন্তু সেটিকে খরচ হিসাবে না দেখে বিনিয়োগ হিসাবে দেখুন এবং সঠিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করুন। আপনি যদি পিপিসি প্ল্যাটফর্ম এ নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের সাথে পরামর্শ করেতে পারেন একদম ফ্রী তে

৫০০০ – ৭০০০ টাকা বা এর থেকে কিছু বেশি খরচ করার পরই আপনি বুঝতে পারবেন, কিভাবে সঠিকভাবে টার্গেট করা অ্যাডস গুলা ট্র্যাফিক বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি, নিজের কন্টেন্ট সবার দ্বারা শেয়ার করানোর মাধ্যমেও ট্র্যাফিক বৃদ্ধিকরা সম্ভব।

Buzzsumo থেকে প্রোভেন কন্টেন্ট আইডিয়া সংগ্রহ করার কথা মনে আছে? সেই কন্টেন্ট গুলা কারা শেয়ার করেছে সেটাও আমরা Buzzsumo থেকে জানতে পারি। এর থেকে আমরা সহজেই জানতে পারি এমন ধাঁচের কন্টেন্টের শেয়ারকারী কারা।

এখন আমাদের কাজ হল, তাদেরকে একটা ইমেল পাঠিয়ে দেয়া এটা জানিয়ে যে, আমাদের কাছে এমন ধাঁচের আর ভাল মানের কন্টেন্ট আছে যেটায় তারা আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

এটা একটা টেম্পলেট যেটা আমি পূর্বে ব্যবহার করেছিলাম,

 

 

সবকিছু তাদের মনমত হলে, তারা আপনাকে কন্টেন্ট সম্পর্কে জানানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবে এবং আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করবে।

শুরুর দিকে এই পদ্ধতি অনেক সময় সাপেক্ষ এবং কষ্টকর। কিন্তু আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন এবং আপনার কাছে অধিক পরিমাণ অর্থ না থাকে খরচ করার জন্য, তবে এই পদ্ধতি যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেই সাথে আপনার কন্টেন্ট যদি উপকারী হয় এবং মানুষকে আকর্ষণ করতে পারে, তবে সেটি অনেকবার শেয়ার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

আসলে, ৯৪% মানুষই কোন কন্টেন্ট শেয়ার করে এই ভেবে যে সেই কন্টেন্ট থেকে অন্যের উপকার হবে

 

নিজের ব্লগ দীর্ঘসময় শীর্ষে ধরে রাখা

যখন আপনি ব্লগ থেকে পজিটিভ ফলাফল পেতে শুরু করবেন, তখন ভবিষ্যতে আরো ভাল কিছুকরার এবং অধিক আয়ের আশায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনতে চাইবেন।

আবার কখনো আপনি এমন পরিবর্তন আনতে বাধ্যও হবেন। কারণ, পুরাতন ট্যাকটিক্সগুলা একসময় আর আগের মত কাজ নাও করতে পারে।

আমার ইনফোগ্রাফিক্স নিয়ে এরকম অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১০ সালে, আমার ইনফোগ্রাফিক্সের ভিজিটর ছিল ৫৩,৪৫৯। এবং, ২০১২ সালে, তা কমে গড়ে ২০,৫৮২ এ এসেছে।

যদিও এখনো যথেষ্ট পরিমাণ ভিজিটর আছে, কিন্তু ক্রমাগত ভিজিটর কমে যাওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করা উচিত।

সুতরাং, দীর্ঘ পরিকল্পনায় আপনার ব্লগ সচল এবং লাভজনক রাখতে করণীয়সমূহ কি কি?

আপনি একটি কাজ করতে পারেন! সেটা হল, আপনার ব্লগে গেস্ট পোস্ট অপশনটি রাখতে পারেন। এটা অনেক উপকারী পন্থা, যদি আপনি আপনার পাঠকদের জন্য নতুন কিছু তুলে ধরতে চান।

শুধুমাত্র একটা নোটিশ পোস্টের মাধ্যমেই আপনি ভিজিটরদের গেস্ট পোস্ট গ্রহন সম্পর্কে অবগত করতে পারেন। সেইসাথে লেখকদের জন্য নিয়মাবলি সহ একটা গাইডলাইনও যুক্ত করতে পারেন।

আরেকটি কাজ যা আপনি করতে পারেন তা হল- স্প্লিট টেস্ট।

ব্লগের লে-আউট, অপট-ইন বক্সেস এবং অফারসমূহ স্প্লিট (A/B) টেস্টের আওতাধীন করার মাধ্যমে আপনি সময়ের সাথে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। এমন আরো অনেক কিছুই আছে যা আপনি ব্লগে স্প্লিট টেস্টের আওতাধীন করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, বিপুলমাত্রায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমেও বিস্ময়কর কিছু ঘটে যেতে পারে, যেখানে প্রথমদিকে ছোট ছোট ক্রমবর্ধমান পরিবর্তন থেকে তেমন কোন ফলাফল নাও আসতে পারে।

এরসাথে আপনি ব্লগ থেকে সৃষ্ট কমিউনিটি সেন্সের উন্নয়নের দিকেও নজর দিন।

আপনি কমেন্ট সেকশনে সবার কমেন্টের রিপ্লাই দিয়ে এবং সবাইকে নিজেদের মতামত প্রকাশে আগ্রহী করে তোলার মাধ্যমে এই কাজটি করতে পারেন।

আপনার ব্লগের পাঠকদের নিয়ে আপনি একটা ফেইসবুক গ্রুপও খুলতে পারেন। গ্রুপে পাঠকগণ আপনাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারবেন। ফেইসবুকের নতুন ফিচার ফেইসবুক লাইভ-এর সাহায্যে আপনি লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বের ব্যবস্থা করতে পারেন।

 

 

উপসংহার

শুরুতেই বলেছিলাম, সফল ব্লগাররাই জানে, সঠিক উপায়ে কিভাবে ব্লগিং কাজে লাগাতে হয়। এই কাজে তারা বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিও প্রয়োগ করে থাকে।

এই স্ট্র্যাটেজির একটা অংশই হল এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং হল ব্লগারদের আয়ের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র। এ ব্যাপারে সার্চ ইঞ্জিন জার্নালের সারাংশ তুলে ধরা হলঃ

“এফিলিয়েট মার্কেটিং ব্লগার বা অনলাইন মার্কেটিং হচ্ছে কমিশনের বিনিময়ে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস প্রোমট করে অর্থ উপার্জনের একটি মাধ্যম। একজন মার্চেন্ট বা ওয়েব এডভারটাইজার ওয়েবসাইটে ব্যানার অ্যাড, বাটন বা লিংক যুক্ত করার মাধ্যমে এই কাজটি করে থাকে। যখনই কোন ভিজিটর সেই লিংকে ক্লিক করবে বা লিংকের সাহায্যে কিছু কিনবে, ওয়েবমাস্টারকে এর বিনিময়ে কমিশন দিতে হবে।” 

আপনি এই পথে চলতে আগ্রহী হলে, হোস্ট বাংলা এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম এ সাইন-আপ করতে পারেন। এর সাহায্যে আপনি নিজের ব্লগটিকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন এবং সময়ের সাথে ব্লগ হতে বিপুল পরিমাণ আয়ও করতে পারবেন।

আর আপনি যদি নতুন ব্লগার হতে চান এবং আপনার ব্লগ থেকে আয় করতে চান তাহলে হোস্ট বাংলা আপনাকে একটি দারুণ অফার দিবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরির জন্য। এই অফারে আপনি মাত্র ২০০০ টাকাতে এক বছরের জন্য একটি ডোমেইন এবং একটি হস্টিং পাবেন যেখানে আমরাই আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটটি তৈরি করে দিব এবং সম্পূর্ণ ভাবে ব্লগিং এর জন্য অপ্টিমাইজ করে দিব। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এই লিঙ্ক এ ক্লিক করুন আথবা আমাদের ফোন করুন এই নাম্বার এ ০১৭৫৭৬০২০০০ 

Blog hosting

 

ব্লগ শুরু করা থেকে ব্লগ হতে আয়ের ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন? আপনি কি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে জড়িত? যদি হয়ে থাকেন, তবে এ নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন? নিচের কমেন্ট সেকশনে তা শেয়ার করার অনুরোধ থাকল।

Leave a Comment