How to do an online marketing plan in bangla

একটি অনলাইন মার্কেটিং প্ল্যান- যেটা আপনার যেকোন ব্যবসাকেই প্রসারিত করবে

অনলাইন মার্কেটিং মিডিয়া-র জগতে যদি আপনি নতুন হয়ে থাকেন, তবে মার্কেটিং লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার প্রচেষ্টার প্রথম কেন্দ্রবিন্দু ঠিক কোনটা হওয়া উচিত, সেটা জানা কঠিন হতে পারে।

সে যাই হোক, ইতোমধ্যে আপনি সম্ভবত কন্টেন্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি, বিজনেস মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ট্যাকটিকস, সার্চ ইঞ্জিন টিপস, এবং কাস্টমার বেইজটাকে ধরে রাখা নিয়ে অনেক পড়াশুনা করে ফেলেছেন এবং আপনি বুঝতে পারছেন না এই মুহূর্তে ঠিক কি করা উচিত।

এরকম পরিস্থিতিতে প্রয়োজন এক কদম পিছিয়ে এসে একটা মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করে নেয়া।

এখানে, আমরা দেখব কিভাবে আপনি প্রায় সব ধরণের ব্যবসার জন্য একটি অনলাইন মার্কেটিং প্ল্যান এবং মার্কেটিং কৌশল তৈরি করতে পারেন এবং কিভাবে সেই প্ল্যানটি সফলভাবে আপনার মার্কেটিং লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করতে পারেন।

আমরা আলোচনা করব, আপনি কিভাবে গোড়া থেকেই একটি মজবুত মার্কেটিং প্ল্যান গঠন করতে পারেন এবং কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যান কার্যকর করতে পারেন। কন্টেন্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হতে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করা – এখন সময় এই ধরণের বিজনেস গোল নিয়ে কাজ করার এবং তা অর্জন করার।

এই আর্টিকেলের শেষে, নিশ্চয়ই আপনার উদ্বেগ কমে আসবে এবং নিজের ছোট খাট ব্যবসা এবং অনলাইন মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন।

আসুন আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে এবার বিস্তারিত আলোচনা শুরু করি।

 

লক্ষ্য বা গোল, স্ট্র্যাটেজি এবং ট্যাকটিক্সের মধ্যে পার্থক্য

একটি ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করার জন্য আপনার মার্কেটিং লক্ষ্য বা গোল, স্ট্র্যাটেজি এবং ট্যাকটিক্স এর পার্থক্য জানা প্রয়োজন।

যখন আপনি এটা জানবেন, তখন আরো ভালভাবে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যানটা কার্যকর করতে পারবেন এবং একটা সফল মার্কেটিং স্ট্যাটেজি পরিচালনা করতে পারবেন।

সর্বোপরি, ভবিষ্যতে কোন আর্টিকেল পড়ে কোন কিছু শিখলে সেটাকে কত ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেই ব্যাপারটাও আরো ভালভাবে যাচাই করতে পারবেন।

সুতরাং, লক্ষ্য বা গোল, স্ট্র্যাটেজি এবং ট্যাকটিক্স এর পার্থক্য কি?

একটা বিজনেস গোল হল সেই সর্বোত্তম ফলাফল যেটা আপনি অর্জন করতে চাচ্ছেন। এটার উপরেই আপনি সাধারণত প্রথম নজর দিয়ে থাকেন, যেমটা উপরে দেখানো হয়েছে।

সুতরাং, আপনার একটা লক্ষ্য হতে পারে, মিডিয়া মার্কেটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে প্রতিদিন ১০০ ডলার উপার্জন করা।

স্ট্যাটেজি হল উচ্চতর লেভেলের চিন্তাধারা যা, আপনি কিভাবে আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন, তার সাথে সম্পর্কযুক্ত।

সুতরাং, ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হতে পারে পরিবর্তনশীল ক্রমধারায় মানুষের কাছে পৌছানো, যেখানে একসময় তারা অবশেষে পণ্য বিক্রি করবে।

ট্যাকটিক্স হল সে সকল নির্ধারিত কার্যসমুহ যা আপনাকে আপনার স্ট্র্যাটেজি অর্জনে সহায়তা করবে।

সুতরাং, আপনার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ট্যাকটিক্স হতে পারে একই রকম টার্গেট অডিয়েন্সের জন্য ফেইসবুক অ্যাডে দিনে ২০ ডলার খরচ করা।

আপনি হয়ত ইতোমধ্যে মিডিয়া মার্কেটিং বিষয়টি নিয়ে অনেকগুলা আর্টিকেল পড়ে থাকবেন যেখানে লক্ষ্য এবং স্ট্র্যাটেজির চাইতে  ট্যাকটিক্সের উপর জোর দিয়ে থাকে।

উদাহরস্বরূপ, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে লেখা একটি ব্লগ পোস্টে গোল/ লক্ষ্য হিসেবে আলোচনার বিষয়বস্তু থেকে আপনি জানবেন কিভাবে আরও বেশি ফেসবুক ফ্যান বৃদ্ধি করা যায় কিন্তু আপনি এখানে এই কৌশলটা জানবেন না যে কিভাবে এই সোশ্যাল নেটোয়ার্ক ফ্যানদের মাধ্যমে ১০০ ডলার আয় করা যেতে পারে।

ফলাফলস্বরূপ, এমন আর্টিকেল পড়ার পর, আপনি সেই সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে অধিক ফ্যান পাওয়ার চেষ্টা করেন এবং দ্রুতই হার মেনে নেন, কারণ এই ফ্যানগুলা কিভাবে আয়ের উৎস হতে পারে সেই বড় দৃশ্যটি আপনি দেখতে পাননি। এ কারণেই, আর্টিকেলটি আপনার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেনা কারণ, এটা শুধু বৃহৎ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্ল্যানের মাত্র একটা অংশকে তুলে ধরেছে।

আপনি যেই বিষয়টি পড়েছেন, সেটার উপর ভিত্তি করে যখন ভবিষ্যৎ মিডিয়া মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করবেন, কিভাবে স্ট্র্যাটেজি এবং বিজনেস মার্কেটিং গোল বাদেও মার্কেটিং ট্যাকটিক্স তৈরি করতে হয় সেটা জানা জরুরি।

যখন আপনি তা পারবেন, তাৎক্ষনিকভাবে আপনি আপনার কর্মপন্থা সম্পর্কে জেনে যাবেন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার মার্কেটিং ট্যাকটিক্সগুলি গুছিয়ে নিতে পারবেন যেটা আপনার গোল অর্জনে সাহায্য করবে।

যেমনটা আপনি এই পোস্টে দেখতে পারবেন যে, আপনি চাইলেই আপনার ট্যাকটিক্স পরিবর্তন করতে পারবেন আপনার মূল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি আর গোল অর্জনের জন্য।

যদি আপনার ফেইসবুক অ্যাড ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন ১০০ ডলার আয়ে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট মানুষের সারা না পায়- আপনার ট্যাকটিক্স পরিবর্তন করে অন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে মনোযোগ দেয়া উচিত এবং এর পরিবর্তে ইউটিউব অ্যাড ব্যবহার করুন।

আপনি আপনার লক্ষ্য বা মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করছেন না- স্ট্যাটেজি আর লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধুমাত্র কর্মপন্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। এভাবে আপনি একটা দারুন ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে ফেলতে পারেন কারণ এটা আপনাকে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স পর্যন্ত পৌঁছে দিবে এবং সম্ভাব্য আরো নতুন কাস্টমার সৃষ্টি করবে।

বিঃদ্রঃ আপনি যখন আপনার মিডিয়া মার্কেটিং প্ল্যানের এই পর্যায়ে কাজ করছেন, এটা আপনি নিজের লক্ষ্য অর্জনে কোন খাতে কত খরচ করতে আগ্রহী সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করে। সেই পরিমাণটি মাথায় রাখলে আপনি যেই ট্যাকটিক্স হতে সুবিধা পাবেন সেটা নির্ধারণ করা সহজ হয়।

সুতরাং এখন যেহেতু আমরা বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার, পরবর্তী অংশে যাওয়া যাক- আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এবং সম্ভাব্য কাস্টমারদের বোঝা।

আপনার চূড়ান্ত টার্গেট কাস্টমারদের বোঝা

সকল ডিজিটাল মার্কেটিং-এ বিশেষ করে অনলাইন মার্কেটিং-এ, আপনার চূড়ান্ত টার্গেট কাস্টমারদের চিনে নেয়াটা বেশ গুরুত্বপুর্ন।

ইন্টারনেটে অনেক মানুষের পদচারনা রয়েছে আর এর মধ্যেই আপনাকে রাস্তা বের করতে হবে এবং মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির প্রয়োগ সঠিক মানুষগুলার উপরে করতে হবে।

আর, আপনি সেটা তখনই করতে পারবেন যখন আপনি জানবেন আপনার ব্যবসার জন্য সঠিক মানুষ কারা।

আপনি যদি এটা নির্ধারন করতে পারেন যে সঠিক মানুষগুলো কারা, আপনি আপনার ট্যাকটিক্স সেভাবে সাজিয়ে নিতে পারবেন এবং তা থেকে সর্বোচ্চ ফলাফলটি পেতে পারবেন।

আপনার কাস্টমারদের চেনার আদর্শ উপায় হচ্ছে, ক্রেতার ব্যক্তিত্বের একটা প্রতিচ্ছবি তৈরি করা। আপনি যখন ক্রেতার ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে পারবেন তখন আপনি লেখালেখির বিষয়বস্তু গুলো ওই ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী সাজাতে পারবেন।

আমি কিভাবে আপনি ক্রেতার ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি তৈরি করবেন তা এখানে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

এখানে একটি উদাহরনআছে যেটা আপনি ব্যবহার করতে পারেন, যদি আপনি দ্রুত ক্রেতার ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে চান।

আপনার মেসেজ টার্গেট অডিয়েন্সের পর্যন্ত পৌছানোটা সহজতর করার পাশপাশি, কে আপনার আদর্শ কাস্টমার সেটা জানলে আপনার মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি তাদের উপর উত্তমভাবে অনুরণিত হবে।

এর কারণ, আপনি আপনার মেসেজগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবেন- আপনার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক মেসেজ থেকে শুরু করে ইমেইল মার্কেটিং মেসেজ পর্যন্ত, মনে হবে  যেন মেসেজগুলি সরাসরি তাদের সাথে কথা বলছে। এটা আপনার মার্কেটিং ট্যাকটিক্সগুলিকে আরো চিত্তাকর্ষ্ক করে তুলবে এবং একটি ইতিবাচক ফলাফল এনে দিবে। যখন আপনি জানেন আপনি কাদের জন্য লিখছেন, তাদের উপযোগী করে কন্টেন্ট তৈরি করা তখন সহজ হয়ে যায়।

যদি আপনি আপনার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি আরও সুদৃঢ় করতে চান, যেটা নিয়ে আমরা পরবর্তীতে আরও কথা বলব, ক্রেতার ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি তৈরি করতে পারলে সেটা আপনার কন্টেন্টের কার্যকারিতা ৬০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।

একটা মার্কেটিং চ্যানেল নির্বাচন করুন

যখন আপনি অনলাইন মার্কেটিং এর জগতে মাত্র পা রেখেছেন এবং নিজের ছোট্র ব্যবসার কাজ শুরু করছেন, তখন সবকিছু খুবই সাদামাটা রাখাটা জরুরি।

এর অর্থ হল যে, কিছু সময়ের জন্য, শুধুমাত্র একটা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা কন্টেন্ট মার্কেটিং চ্যানেল নির্বাচন করাই শ্রেয়।

ভবিষ্যতে অবশ্যই আপনি একটা মিডিয়া মার্কেটিং চ্যানেলের উপর নির্ভর করবেন না, কারণ এটা আপনার ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তার কারণ ওই একটি মার্কেটিং চ্যানেল যদি তার নিয়ম পরিবর্তন করে বা আপনার একাউন্ট বরখাস্ত করে্ তবে আপনার ছোট্র ব্যবসা এক রাতের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যাতে পারে।

সুতরাং, আপাতত একটা মার্কেটিং চ্যানেল অথবা একটা সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিতে নজর দিন। কিন্তু, যখন আপনি ভাল ফলাফল দেখতে পাবেন, একসঙ্গে আরেকটা মার্কেটিং চ্যানেলে কাজ করা শুরু করুন নিজের মার্কেটিং গোল যতদ্রুত সম্ভব বর্ধিত করতে।

নিচে একটা উদাহরণ দেয়া হল এই বিষয়ে-

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং চ্যানেলের মধ্যে আছে ইউটিউব, ফেইসবুক, লিংকড ইন, গুগল সার্চ এবং ইমেইল।

বিঃদ্রঃ আপনি যদি একদম নির্দিষ্টভাবে আগাতে চান, আপনি চ্যানেল গুলাও ভাগ করতে পারেন, অরগানিক এবং পেইড হিসাবে- সুতরাং অরগানিক ইউটিউব মার্কেটিং এবং পেইড ইউটিউব অ্যাড দুটা আলাদা কন্টেন্ট প্রকাশ করবে।

আপনি কোন চ্যানেলটা নির্বাচন করবেন সেটা নির্ভর করবে কোথায় আপনার শক্তিমত্তার উপর এবং আপনি কি নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তার উপর। মাঝেমাঝে, আপনাকে চ্যানেলগুলা একত্র করার প্রয়োজন হতে পারে, সর্বোচ্চ কার্যকারিতা লাভের জন্য।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি চ্যানেল হিসাবে ইমেইল মার্কেটিং ব্যবহার করতে চাইতে পারেন, বিশেষকরে করে যখন ৩১% মার্কেটার ইমেইলকে শক্তিশালী মার্কেটিং চ্যানেল হিসাবে বিশ্বাস করার বিষয়টি বিবেচনা করেন।

তবে, আপনার ইমেইল লিস্ট বাড়ানোর জন্য, আপনাকে এই চ্যানেলটির ব্যবহার সোশ্যাল মিডিয়া পিপিসি অ্যাডভারটাইজিং এর রূপে একত্র করা লাগতে পারে, ফেইসবুক অ্যাডের মত।

 

জেনে নিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের জানার মাধ্যমে কিভাবে মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করা যায়

আপনার ব্যবসার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জানা আপনার জন্য জরুরী, কারণ এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন কোন ট্যাকটিক্স  কোন নিসের জন্য কোন মার্কেটিং চ্যানেলে ইতোমধ্যে উপযুক্তভাবে কাজ করছে।

বিঃদ্রঃ আমরা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর কোন কার্যকলাপ চুরি করার কথা বলছি না। আমরা যেটা নিয়ে কথা বলছি, সেটা হল যারা আমাদের পূর্বে মার্কেটে এসেছেন তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া।

আপনি কিভাবে বিভিন্ন মার্কেটিং চ্যানেল নিয়ে জানতে পারেন সে বিষয়ে নজর দিন।

আপনি যদি কিছু কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে চান, আপনার নিসে কাজ করছে এমন কন্টেন্ট নিয়ে পড়াশুনা করতে পারেন, যেন আপনি নিজের কন্টেন্ট মার্কেটিং নিয়ে একটা ছক কষতে পারেন। আপনি এর জন্য বাজসুমো ব্যবহার করতে পারেন।

বাজসুমো ব্যবহার করে, আপনি একটা নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের জন্য কোন মুল্যবান কন্টেন্টটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কে অনেকগুলা শেয়ার পাচ্ছে সেটা খুঁজে বের করতে পারবেন।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিয়াশীল কন্টেন্ট ভাল কাজ করে কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে।

অতএব, সার্চ করার সময় ক্রিয়াশীল কোন বিষয়ের সাথে ‘নিস কীওয়ার্ড’, যেমন ‘টিপস’ অথবা ‘কিভাবে’ কথাটি  সংযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

একটা বাজসুমো সার্চের পর, আপনি কন্টেন্ট মার্কেটিং এর অনেকগুলা উদাহরণ দেখতে পারবেন, যেটা আপনার নিসে যথার্থভাবে কাজ করছে।

আপনি যদি কন্টেন্ট মার্কেটিং চ্যানেল থেকে সর্বোত্তম ফলাফলটি চান, শীর্ষ কন্টেন্টের সম্পাদিত অংশ শনাক্ত করুন এবং ভালো কিছু তৈরি করুন।

আপনি যদি কন্টেন্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হিসাবে পেইড ট্র্যাফিক ব্যবহার করতে চান, তবে মার্কেটিং লক্ষ্যে পৌছাতে কোন পথ অবলম্বন করতে হবে সেটা শনাক্তকরণের জন্য পিপিসি ইন্টিলিজেন্স টুলস ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আপনি যদি পিপিসি সার্চ অ্যাড নিয়ে জানতে চান তবে আপনি স্পাইফু এর মত টুলস ব্যবহার করতে পারেন।

স্পাইফু, সাধারণত অনেক রিসার্চ কীওয়ার্ড প্রদান করে- তবে প্রতিযোগিতামূলক অ্যাডওয়ার্ড সার্চ অ্যাডস বিশ্লেষণে এটা অতুলনীয়।

ধরুন যে আমি একটা ইকমার্সের ক্ষেত্র তৈরি করতে চাচ্ছিলাম যেটা অন্যদেরকে অনলাইন স্টোর স্থাপন করার অনুমতি দেয়। আমি এমন একটা কোম্পানি খুঁজব যেটা সেই ক্ষেত্রে ভাল করছে, যেমন শপিফাই এবং এরপর আমি স্পাইফু-তে তাদের ইউআরএল লিখব।

এটি করার ফলে, আমি তাদের অ্যাডওয়ার্ড কার্যকলাপ নিয়ে একটা ধারণা পাই।

যদি আমি নিচে স্ক্রল করি, আমি দেখতে পাই তারা কোন কিওয়ার্ডের জন্য বিডিং করছে এবং তাদের অ্যাডগুলা দেখতে কিরকম।

সুতরাং যখন অ্যাড কপি লেখার প্রসঙ্গ আসে, এখন আমি জানি আমার অ্যাডের জন্য কোন কীওয়ার্ডগুলা উপযুক্ত এবং টার্গেট অডিয়েন্স কোন বিষয়টি নিয়ে ইচ্ছুক।

আপনি মার্কেটিং চ্যানেল হিসাবে যদি অরগ্যানিক সার্চ ব্যবহার করতে চান, এটা সেসব কীওয়ার্ড শনাক্ত করতে সাহায্য করে যা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য অনেক বেশি ট্র্যাফিক নিয়ে আসছে, কিন্তু পাশাপাশি সেসব কীওয়ার্ডও নিয়ে আসে যা তাদের দ্বারা উপেক্ষিত হয়েছে।

আপনি এসইম্রাশ এর মত টুল ব্যবহার করে, গুগল অরগ্যানিক সার্চ কীওয়ার্ডসে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর কাজগুলি বিশ্লেষণ করতে পারেন।

আপনি এসইম্রাশ এর মধ্যে, যদি এসইও কীওয়ার্ডস ম্যাজিক টুল ব্যবহার করেন, আপনি উচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বী কীওয়ার্ডস এবং নিম্ন প্রতিদ্বন্দ্বী কীওয়ার্ডস শনাক্ত করতে পারবেন যা হতে ফলাফল পাওয়া যাবে।

বিঃদ্রঃ আপনি এই তথ্যগুলোর মাধ্যমে আপনার কন্টেন্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি আরো ভাল করতেও ব্যবহার করতে পারেন, কারণ যে কীওয়ার্ডগুলা দেয়া হয়েছে সেগুলো ব্লগের পোস্ট লেখার জন্য ব্যবহার করা যায়।

এসইম্রাশ একটি অবিশ্বাস্য শক্তিশালী টুল। এটা গুগল ডিসপ্লে অ্যাড এর প্রতিও দৃষ্টিপাত করে যা আপনার জন্য আরেকটি উপযুক্ত মার্কেটিং চ্যানেল হতে পারে।

ফেইসবুক অ্যাড মার্কেটিং চ্যানেলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্লেষণ নেই বললেই চলে।

তবে আপনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফেইসবুক পেইজে সবসময়ই নজর রাখতে পারেন, তারা কিভাবে নিজেদের প্রচার করছে দেখার জন্য। আপনি ফেইসবুক অ্যাডভারটাইজিং কেইস স্টাডিস-ও দেখতে পারেন, কিভাবে ফেইসবুক অ্যাডস ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কাজে লাগানো যায় সে সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পেতে।

যদি আপনি সোশ্যাল মার্কেটিং নেটওয়ার্ক চ্যানেল হিসাবে ইউটিউব ব্যবহার করেন, আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘চ্যানেল’ সাবস্ক্রাইব করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন।

তাদের ভিডিওগুলা নিয়ে চিন্তা করুন। যদি তাদের এমন কোন ভিডিও থেকে থাকে যা অত্যন্ত ভাল মানের, সেগুলোর উপর চোখ রাখুন।

যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং নেটওয়ার্ক চ্যানেল হিসাবে ইমেইল মার্কেটিং ব্যবহার করেন, আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সবগুলা ইমেইল লিস্টের জন্য সাইন আপ করুন।

তারা আপনাকে যেসব কন্টেন্ট পাঠায় তাতে মনোযোগ দিন, সেই সাথে কি ধরণের অফার তারা আপনার সামনে রাখে তাতেও। সময়জ্ঞানও আরেকটা মূল উপাদান যেটায় আপনি নজর রাখতে পারেন।

অতএব এভাবেই আপনি মার্কেটিং চ্যানেল নিয়ে অধ্যয়ন করতে পারেন এবং তা থেকে কিভাবে সর্বোত্তম ফলাফল পেতে পারেন সেটা খুঁজে বের করতে পারেন।

এখন, চলুন কিভাবে সবকিছু একত্র করতে পারবেন সেটা নিয়ে কথা বলি।

 

সবকিছু একত্রীকরণ- কিভাবে আপনার মার্কেটিং অর্থ তৈরি করবে সেটার সিদ্ধান্ত নেয়া

যখন আপনি আপনার বিজনেস এবং মার্কেটিং গোল, আপনার কাস্টমার কারা, কোন মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করবেন এবং কিভাবে ব্যবহার করবেন এগুলো সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে যাবেন, তখন আপনার সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত আপনি কিভাবে অর্থ উপার্জন করবেন।

এটা একটা নিরেট পদ্ধতি কিভাবে আপনি কাওকে ইন্টারনেটে বারবার ফেরত আনবেন, তাকে আপনার কাস্টমারে রূপান্তর করবেন এবং ধীরে ধীরে আপনার ব্র্যান্ডের বিশ্বস্ত কাস্টমারে রূপান্তর করবেন।

ঠিক এভাবে মার্কেটিং লিজেন্ড শেঠ গডিন এটা নিয়ে বলেন,

উপরোক্ত বিষয়টি অর্জন করার একটা অন্যতম পথ হল, সবকিছু একত্র করে একটা রূপান্তরিত চোঙ্গা বা কনভার্সন ফানেল  তৈরি করা।

কনভার্সন ফানেল  খুবই সহায়ক কারন এটা আপনার অনলাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে দিক নির্দেশকের ভুমিকা পালন করে। মার্কেটিং মেশিন কিভাবে কাজ করবে সেটার ব্যাপারেও একটা চিত্র তুলে ধরে।

কনভার্সন ফানেল  একত্র করা অনেক সহজ।

মূলত আপনি নিম্নোক্ত কাজটি করতে চাচ্ছেন,

মানুষকে নিজের সম্পর্কে জানানো > বিশ্বাস এবং কর্তৃত্ব স্থাপন করা > একটা প্রস্তাব সৃষ্টি করা

আপনি পূর্বে আলোচনা করা যেকোন মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করে, মানুষকে নিজের সম্পর্কে জানাতে পারেন।

বিঃদ্রঃ বিষয়টা আগে যা বলেছি সেটার মতই, যদি আপনি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস এবং কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চান, তবে আপনার মার্কেটিং চ্যানেলগুলা একত্র করতে হবে।

এখন, এটা অসঙ্গতপূর্ণ মনে হলেও আপাতত আমার কথামতই কাজ করুন।

আগে যেমনটা বলেছিলাম, আপনাকে সেই একটা মার্কেটিং চ্যানেল থেকে শুরু করতে হবে যেখান থেকে আপনি  মানুষের আপনার প্রতি বিশ্বাস এবং আপনার মানুষের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারেন।

সুতরাং, আপনার মেসেজ প্রচার করতে, ইউটিউব অ্যাড এবং ফেইসবুক অ্যাড উভয়ই ব্যবহার না করে যেকোন একটা নির্বাচন করুন।

উদাহরণস্বরূপ, সচেতনতা বৃদ্ধি করে এমন চ্যানেল হিসাবে আপনি পিপিসি অ্যাডভারটাইজিং ব্যবহার করতে পারেন, এর মাধ্যমে আপনি নিজের কন্টেন্ট মার্কেটিং সম্পর্কে জানাতে পারবেন এবং তাকে ক্রমান্বয়ে  আপনার ইমেইল লিস্টে অন্তরভুক্ত করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার কাছে আপনার ওয়েবিনার এ আসার  প্রস্তাব হিসাবে পাঠান।

আগে যেমন বলেছিলাম, যখন আপনি একটা মার্কেটিং চ্যানেল হতে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটা পরিমিত পরিমাণ আয় করা শুরু করবেন, এরপর আপনি আরেকটা মার্কেটিং চ্যানেলে যেতে পারেন একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য।

যদি আপনি সত্যিকার অর্থেই অনেক চেষ্টার পর একটি নির্দিষ্ট ট্যাকটিক কাজে লাগাতে না পারেন, আপনি অবাধে আরেকটা চ্যানেলে যেতে পারবেন।

এটাই ট্যাকটিক্সের আসল বিষয়।

যা মার্কেটিং চ্যানেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেটা আপনি ব্যবহার করছেন অথবা আপনি মানুষের কাছে অফার সহ উপস্থাপন করছেন।

যাই হোক, কোন পরিবর্তনের পূর্বে, আপনি নিশ্চিত করুন যে একটা নির্দিষ্ট ট্যাকটিক প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়ার জন্য আপনার সাধ্যের মধ্যে আপনি সবটুকু করেছেন।

 

উপসংহার

প্রায় প্রতিটা সফল মিডিয়া মার্কেটিং প্রচারণার ভিত্তি হল একটি ভাল প্ল্যান করা।

প্ল্যান প্রয়োগ করার সময়, আপনার স্ট্র্যাটেজি আর ট্যাকটিক্সের পার্থক্য জানা জরুরি- তা না হলে, আপনি শুধু বৃত্তাকারে ঘুরপাক খেতেই থাকবেন।

এটা আপনাকে ইন্ডাস্ট্রিতে ইতোমধ্যে কি ভালোমত কাজ করছে সেটা দেখতে সাহায্য করে, যাতে আপনি যারা আপনার আগে এসেছেন তাদের থেকে শিখতে পারেন।

অনলাইন মার্কেটিং ব্যবহার করে এবং আপনি এই পোস্ট থেকে যা শিখতে পারলেন সেটা প্রয়োগ করে নিজের ব্যবসাটাকে নিয়ে এখনই পরিকল্পনা শুরু করে দিন এবং সেটা বাস্তবায়নে এখনই মাঠে নেমে পড়ুন।

 

অনলাইন মার্কেটিং পরিকল্পনা তৈরির জন্য আপনাদের কোন পরামর্শ আছে কি যা আপনি আমাদের সাথে আলোচনা করতে চান? অনুগ্রহপূর্বক নিচের কমেন্ট বক্সে আমাকে জানান!

 

 

Leave a Comment